প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অনেক উন্নত দেশে খাদ্যের জন্য যেমন হাহাকার, সেই অবস্থা বাংলাদেশে নেই।যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সে সদ্যসমাপ্ত সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
বুধবার (১৭ নভেম্বর) বিকেল ৪টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, অনেক উন্নত দেশে আপনি যান, সেখানে খাদ্যের জন্য হাহাকার। সুপার মার্কেট খালি, জিনিস নাই। স্বয়ং লন্ডনের কথা বলছি। আমাদের দেশে কিন্তু সেই হাহাকারটা আপনারা দেখেননি। সেই হাহাকারটা কিন্তু নাই।
তিনি বলেন, বিদ্যুতের জন্য এক সময় হাহাকার ছিল, আজকে তো বিদ্যুৎ সবার ঘরে ঘরে পৌঁছে দিচ্ছি। সেই বিদ্যুতে আমাদের ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। আমাদের উৎপাদন খরচ আমরা তুলতে পারছি না।
শেখ হাসিনা বলেন, মানুষের খাদ্যের যাতে কষ্ট না হয়, সেদিকে আমাদের বিশেষভাবে নজর আছে। আমরা তো বিনা পয়সায় খাদ্য দিচ্ছি, বিনা পয়সায় মানুষকে সাহায্য করে যাচ্ছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাকালীন আমরা কিন্তু গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত কৃষক, শ্রমিক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, শিক্ষক, মসজিদের ইমাম, মোয়াজ্জিন থেকে শুরু করে কোনো শ্রেণিপেশার মানুষ নাই, যাকে আমরা নগদ অর্থ দিয়ে সহায়তা না করেছি। একবার নয়, বারবার।
তিনি আরও বলেন, জিনিসপত্রের দাম যাতে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকে, তার ব্যবস্থাও আমরা নিয়েছি। উৎপাদন বাড়াবার সব রকম ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারের দাম থেকে শুরু করে সব কিছুর দাম কমিয়েছি। যে সার ৯০ টাকা ছিল, সেই সার ১৫-১৬ টাকায় আমরা পৌঁছে দিচ্ছি। প্রতিটি ক্ষেত্রে আমরা তাদেরকে (কৃষক) সব রকম সহায়তা দিচ্ছি।
শেখ হাসিনা বলেন, ডিজেলের দাম যখন বেড়ে গেছে, সাথে সাথে আমাদের প্রদিবেশী দেশেও বেড়ে গেছে। আমাদেরকে তো তেল কিনে আনতে হয়। আপনারা কি বলতে পারেন, কত টাকা ভর্তুকি দেই বছরে? বিদ্যুৎ এবং আনুষঙ্গিক মিলিয়ে ৫৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে থাকি।
তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যে আমরা এত টাকা ভর্তুকি দেই, আরও কত টাকা আমরা ভর্তুকি দিতে পারব। আমাদের উপার্জনটা কী? আমাদের নিজস্ব কী সম্পদ আছে? কাজেই আপনাদের এটাও বিবেচনা করতে হবে।
বাস ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে সরকার প্রধান বলেন, স্বাভাবিকভাবে যখন তেলের দাম বেড়েছে, তারাও একটু সুযোগ নিয়েছে দাম বাড়ানোর। সেই দাম বাড়ানো নিয়ে তাদের যে দাবি ছিল, আমি কিন্তু বিদেশে ছিলাম ঠিক, দেশ থেকে দূরে ছিলাম তা কিন্তু না। এখন ডিজিটাল যুগ, কাজেই আমার সাথে সব সময় যোগাযোগ ছিল, আলোচনা হয়েছে। তারপর তাদের সাথে অনেক বৈঠক করে, আলোচনা করে একটা সমঝোতায় নিয়ে আসা হয়েছে। বাসের ভাড়া একটা যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে আসা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আপনাদের কাছে প্রশ্ন করব যে, আপনারা বলেন, কত টাকা ভর্তুকি দেওয়া যাবে। তাহলে বাজেটের সব টাকা ভর্তুকিতেই দিয়ে দেব? এর পরবর্তীতে কিন্তু আর উন্নয়ন হবে না দেশে। এটাও দেখতে হবে। কারণ উন্নয়নের টাকাটাই তো তাহলে চলে যাবে ভর্তুকি দিতে।
জিয়ার আমলে সামরিক ক্যুসহ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে সরকার
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



