ড. ইনামুল হকের মৃত্যুতে সংস্কৃতি অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। প্রিয় এ অভিনেতার স্মরণে সহশিল্পীরা জানিয়েছেন শোকগাথা।
ফেরদৌসী মজুমদার : একজন ভালো মানুষ চলে গেলেন। যার মুখে হাসি লেগে থাকত সব সময়। দেখা হলেই হাসি দিয়ে কথা বলত। কাছের মানুষ হারানোর ব্যথা কথায় প্রকাশ করা যায় না। এটা এমন এক অনুভূতি যা কাউকে বলে বোঝানো যাবে না। আর তার সঙ্গে কাজের, আড্ডার যে স্মৃতি আছে সেগুলো এখন মনে করা মানে নিজের মনটা খারাপ করা। এমনতিতেই তাকে হারিয়ে ভীষণ রকম মন খারাপ। আমি মানসিকভাবে খুবই ভেঙে পড়েছি। একে একে সবাই চলে যাচ্ছে। করোনাকালীন সময়ে খুব ভয়ে ছিলাম। সবাই চলে যাবে কিন্তু কাউকে দেখতে পারব না। এখন কিছুটা স্বাভাবিক সময়, কিন্তু এই সময়ে ইনামের চলে যাওয়া কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। আমি মনে করি এখনো তার অনেক কিছুই দেওয়ার ছিল আগামী প্রজন্মকে। কারণ তিনি শিক্ষক। তার অভিনয় দেখে সবার শেখা উচিত। আমার খারাপ লাগছে। আর কিছু বলতে পারছি না।
দিলারা জামান : যার অভিনয় আমাকে মুগ্ধ করে, যাকে দেখলে মুগ্ধ হতাম তিনি ইনামুল হক। তাকে নিয়ে বলার কিছুই নেই। তার মতো ভালো মনের মানুষ এই সময়ে খুবই কম দেখা যায়। দীর্ঘ বছর আমরা একসঙ্গে অভিনয় জগতে কাজ করেছি। তার কাছে শিখেছি অনেক কিছু। তবে একটি দিক নিয়ে না বললেই নয়। তিনি গল্প করতে খুব পছন্দ করতেন। যে কোনো বিষয়ে তার জ্ঞান ছিল। তাই গল্প শুনতে ভালো লাগত। ওপারে ভালো থাকবেন। লাকীর প্রতি আমার সমবেদনা। এই শোক কটিয়ে ওঠার শক্তি তাকে
আল্লাহ দিক।
আবুল হায়াত : আমি মানসিকভাবে একেবারে ভেঙে পড়েছি। খুবই মর্মাহত আমি। আমাদের বন্ধুত্ব ৫০ বছরের বেশি সময়ের, প্রায় ৫৫ বছরের। তাকে নিয়ে আসলে বলার কিছু নেই। একজন বন্ধু হারালাম, নাট্য সতীর্থ হারালাম, একজন ভালো মানুষকে হারালাম। একটা বড় শূন্যতা তৈরি হয়ে গেল। এটা কীভাবে পূরণ হবে আমি জানি না। আমি এতটাই মর্মাহত যে, তার জানাজায় যেতে
পারব কিনা বলতে পারছি না।
মামুনুর রশীদ : খুব বড় ক্ষতি হয়ে গেল আমাদের। আমরা একজন শিক্ষক হারালাম। যার কাছে শেখার ছিল অনেক কিছু। তার অভিনয়ে একটা মাদকতা ছিল। দেখতেই মন চাইত। এমন একজন মানুষ হারানোর ক্ষতি কোনোদিনই পূরণ হবে না। শুধু অভিনেতা নয়, একজন মানুষ হিসেবে তিনি ছিলেন অসাধারণ। কোনোদিন বিরক্ত হতে দেখিনি। সব সময় হাসি
মুখে কথা বলেছেন। তার পরিবারের প্রতি
সমবেদনা জানাচ্ছি।
আজিজুল হাকিম : একজন শিক্ষককে হারালাম আমরা। একজন গুণী বিদায় নিলেন আমাদের মাঝ থেকে। আমরা এখন কার কাছে শিখব। কে আমাদের দিকনির্দেশনা দেবেন। এমন একজনকে আমরা হারালাম যার কাছে গেলেই মন ভালো হয়ে যেত। যার গল্পগুলো শুনতে ভালো লাগত। তিনি যখন গল্প বলতেন, আমরা সেই গল্পে হারিয়ে যেতাম। অসাধারণ একজন মানুষ, যার হাসিমুখ চোখের সামনে ভাসছে। আমার সঙ্গে তার অনেক স্মৃতি কিন্তু এগুলো মনে করে এখন মন খারাপ করতে চাচ্ছি না। তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।
সুবর্ণা মুস্তাফা : আমি এতটাই শোকহত যে, কিছু বলার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। ওপারে ভালো থাকবেন ইনাম স্যার। আপনার মতো কাউকে আমরা আর পাব না। আপনি সবার থেকে আলাদা। লাকী ভাবি, হৃদি ও প্রৈতির প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। এই সময়ে তাদের মানসিকভাবে অনেক শক্ত থাকতে হবে।
তানভীন সুইটি : আমাদের প্রিয় অভিনেতা ড. ইনামুল হক আর নেই। অনেক শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা রইল আঙ্কেল। কতো নাটকে আমার বাবা ছিলেন আপনি। আপনার আত্নার শান্তি কামনা করছি।
রুনা খান : ইনাম চাচা…। এত মন খারাপ করা সন্ধ্যা আর যেন না আসে। আত্মার শান্তি কামনা করি।
নিরব : স্যারের সঙ্গে আমার ছোট ছোট অনেক স্মৃতি। কিন্তু একটি স্মৃতি আমার মধ্যে ভীষণভাবে নাড়া দিচ্ছে। প্রায় ছয় বছর আগে ড. ইনামুল হক স্যারকে তার বাসা থেকে নিয়ে একবার শুটিংয়ে গিয়েছিলাম। শুটিং ছিল পুবাইলে। যাওয়ার সময় রাস্তায় আমার গাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। স্যার গাড়িতে বসা ছিলেন। গাড়ির চেয়ে স্যারকে নিয়ে চিন্তাই পড়ে যাই। নষ্ট গাড়িতে তাকে রাখব কোথায়? রাস্তায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করেছেন। উনি চমৎকারভাবে আন্তরিকতার মাধ্যমে ওই সময়টা ম্যানেজ করেছিলেন। ড. ইনামুল হক ছিলেন অমায়িক একজন মানুষ। আমাকে ভীষণভাবে স্নেহ করতেন। দেখা হলে মাথায় হাত দিয়ে দোয়া করতেন। তার চলে যাওয়া আমাকে প্রচ- ব্যথিত করেছে। স্যারের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। যেখানে থাকবেন ভালো থাকবেন স্যার।
শামীমা তুষ্টি : হারাতে হারাতে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছি আমরা। খ্যাতিমান নাট্যকার, নির্দেশক, অভিনেতা, একুশে পদকে ভূষিত ড. ইনামুল হক চলে গেলেন। বিদায় ইনাম স্যার। আপনাকে অনেক ভালোবাসি।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



