২০১৬ সালের ১৫ আগস্ট। জাতীয় শোক দিবসে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ফেসবুকে নেতিবাচক স্ট্যাটার্স দিয়েছিলন সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক সেক্রেটারি ইকবাল হোসেন ইমাদ। ফেসবুকে তার দেওয়া স্ট্যাটার্সের স্কীনশর্ট সংগ্রহে রেখেছেন ছাত্রলীগ নেতারা।
২০১৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর গাজিপুরে ১৪৪ ধারা জারির বিরুদ্ধে গিয়ে সরকারের অন্যায় সিদ্ধান্ত রুখে দেবার আহ্বান জামায়াত ইসলামির-এমন স্ট্যাটার্স দেন। এছাড়া ২০১৪ সালে যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমকে অধ্যাপক গোলাম আযম, একটি নাম, একটি ইতিহাস-বলে আখ্যা দিয়েছিলেন ইমাদ। সেই ইমাদ এখন নৌকার কান্ডারী!
দ্বিতীয় ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সিলেটে এই শিবির নেতাকে নৌকার মনোনয়ন দেওয়া নিয়ে তুলপাড় চলছে।

সাবেক শিবির নেতাকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী চুড়ান্ত করায় ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীর অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ ঝাড়ছেন। এজন্য তারা জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দকে দায়ি করছেন। ইমাদকে নৌকার প্রার্থী হিসেবে চুড়ান্ত করার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিগত দিনে সরকার বিরোধী অপতৎপরতার বিষয়গুলো তুলে ধরছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা।
রোববার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সিলেটসহ সারা দেশে ৮৪৮ ইউপিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী চুড়ান্ত করে কেন্দ্র। তন্মধ্যে সিলেট বিভাগে সাতটি উপজেলার ৪৪ ইউপিতে নৌকার প্রার্থী চুড়ান্ত করা হয়।
সিলেট জেলার ৩টি উপজেলার মধ্যে ১৫টি ইউনিয়নে নৌকার চুড়ান্ত হয়। তন্মধ্যে তুমুল বিতর্ক ওঠেছে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ রনিখাই ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানপ পদে ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক উপজেলা সেক্রেটারি ইকবাল হোসেন ইমাদের হাতে নৌকা তুলে দেওয়ায়। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ তৃণমূল আওয়ামী লীগ ও অংগসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

রোববার রাতে ইকবাল হোসেন ইমাদকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী চূড়ান্তের পর যুক্তরাজ্য ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ দেওয়ান তার ফেসবুক স্ট্যাটার্সে লিখেন- `এত এত সুস্পষ্ট অভিযোগ থাকার পরও নৌকা পেলো শিবিরের সাবেক সেক্রেটারি ইকবাল হোসেন ইমাদ। সে চেয়ারম্যান হোক বা এমপি, তাতে আমার কিছ্ছু আসে যায় না। আমি তাকে চিনি শিবিরের সেক্রেটারি হিসেবে, সারা জীবন তাই জানবো।’
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পাড়ুয়া বটেতল গ্রামের বাসিন্দা জাহিদ দেওয়ান ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রবাসে থেকে তার স্ট্যাটাসে আরো লিখেন, ‘কোম্পানীগঞ্জের সবাই জানে, তবুও নীরব। জানিনা কোন কারণে সমাজে এই নীতিনৈতিকতার অবক্ষয়।’ ‘অনেকে ম্যাসেজ করেছেন, কি হলো প্রতিবাদ করে, আমি মেনে নিতে পারিনি, তাই প্রতিবাদ করেছি।’সারা জীবন করে যাবো-বলতে পারবো-এটা আমার ব্যক্তিত্ব (ইগো)।’
সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গোলাম হাসান চৌধুরী সাজন ও জেলা যুবলীগ নেতা রেজাউল ইসলাম রেজা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটারস দেন- ‘তৃণমূল আওয়ামী লীগে পচন ধরেছে।’ টাকায় বিবেক বিক্রি হচ্ছে। সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ছাত্র শিবিরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন ইমাদ দক্ষিণ রণিখাই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী।’ ইমাদ -২০০৬-০৭ সেশনে কোম্পানীগঞ্জ ছাত্র শিবিরের সেক্রেটারি ছিলেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।’

মনোনয়ন পাওয়ার আগে সাবেক মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম তুষার ফেসবুকে স্ট্যাটার্স দেন-একটা উপজেলা শিবিরের সাবেক সেক্রেটারি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী!’
এভাবে নৌকা প্রতীকে চুড়ান্ত প্রার্থীদের অনেককে নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে সিলেটের তৃণমূল আওয়ামী লীগে। এরমধ্যে সিলেট সদর উপজেলার হাটখোলা ইউপিতে মো. মোশাইদ আলী আগে জাতীয় পার্টিতে ছিলেন। মোগলগাওয়ে মো. হিরন মিয়া সাবেক যুক্তরাব্য বিএনপি নেতা। বিগত দিনে তাকে ঘিরে সংবাদ সম্মেলনও করেছিল একটি পক্ষ।
দলীয় সূত্র জানায়, ২০১৯ সালে স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল হাকিমের আশির্বাদপুষ্ট হয়ে কমিটিতে সদস্যপদ লাভ করেন ইকবাল হোসেন ইমাদ। মাত্র দুই বছরের মাথায় ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী হতে তৎপর চালান তিনি।
এরআগে দলের অভ্যন্তরীণ কাউন্সিলে ২০টি ভোটের মধ্যে ১১ ভোট পেয়ে প্রাথমিকভাবে নৌকার প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে যান ইমাদ। জেলা আওয়ামী লীগও তাকে নৌকা দিতে কেন্দ্রে সুপারিশ পাঠায়।
আওয়ামী লীগের নৌকায় ওঠার পেছনে শিবির নেতা ইমাদ নেতাকর্মীদের পেছনে মোটা অংকের টাকা ব্যয় করেছেন, এমন অভিযোগ তৃণমূলের। স্থানীয়ভাবে ব্রিকস ফিল্ডের মালিকানা থাকায় অনেক নেতার বাড়ি তৈরীর জন্য বিনা পয়সায় ইটও দিয়েছেন, অভিযোগ ওঠেছে।
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়া্মী লীগের সদস্য খলিলুর রহমান বলেন, ইকবাল হোসেন ইমাদ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সেক্রেটারি ছিল। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের ম্যানেজ করেই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছে।
সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খান বলেন, ‘ইকবাল হোসেন ইমাদ শিবিরের নেতা ছিলেন, ফেসবুকে অনেকে দেখালেও বাস্তবে প্রমাণ হাজির করতে পারেননি। তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ কেন্দ্রেও দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলায় অভিযোগ করেনি। কেবল প্রতিদ্বন্দ্বিরা অভিযোগ করেছেন। কেন্দ্রও সেসব অভিযোগ আমলে না নিয়ে তাকে নৌকার প্রার্থী হিসেবে চুড়ান্ত করেছে। তাছাড়া সে এলাকায় জনপ্রিয়। সে বিবেচনা থেকে তাকে নৌকার চুড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এরআগে সে অন্য দল করলেও করতে পারে।এরকম অভিযোগ অনেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে।’ সে আগে অন্য দল করলে করতেও পারে। মাঠ পর্যায়ে সে শক্তিশালী একজন প্রার্থী। বিগত দিনে করোনাকালে মানুষকে অনেক সাহায্য সহযোগীতা করেছে। যে কারণে তার পাশ করার সম্ভাবনা রয়েছে।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



