সিলেট অঞ্চলে সরিষা আবাদে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। এবার ১৭ হাজর ৩২০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর ৫ হাজার ৪২০ হেক্টর বেশি জমিতে আবাদ হয়েছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের দাবি, সরকার ভোজ্যতেল আমদানি হ্রাস করতে তেল বীজ শস্য উৎপাদন বাড়ানোর জন্য প্রণোদনাসহ বিভিন্ন সহযোগিতা করায় এই সফলতা এসেছে। তবে মাঠ পর্যায়ের কৃষকরা বলছেন সরকারি সহযোগিতা পর্যাপ্ত নয়, উৎপাদন আরো বাড়াতে সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার প্রয়োজন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেট আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্র জানায়, সিলেট অঞ্চলের সবকটা উপজেলায় কমবেশি সরিষা আবাদ হয়। গত বছর আবাদের পরিমাণ ছিল ১১ হাজার ৯শ’ হেক্টর। এবার আবাদের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজর ৬৩০ হেক্টর। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ৫ হাজার ৬৭৫ হেক্টর, সুনামগঞ্জ ২ হাজার ৬২০ হেক্টর, হবিগঞ্জ ৪ হাজার ২৫০ হেক্টর এবং মৌলভীবাজারে ৪ হাজার ৭৭৫ হেক্টর জমিতে সরিয়া চাষ হয়েছে।
সূত্র আরো জানায়, ভোজ্যতেলের আমদানি চাপ কমাতে সরকার সরিষা আবাদে ব্যাপক গুরুত্ব দিয়েছে। এরজন্য এলাকা ভিত্তিক চাষাবাদের উপযোগী জায়গা চিহ্নিত করে কৃষকদের সরিষা আবাদে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। সীমান্তবর্তী ও পাথর রাজ্য খ্যাত কোম্পানীগঞ্জের কয়েকটি এলাকায় সরিষা উৎপাদনে গুরুত্ব দিয়েছে কৃষি বিভাগ।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে উপজেলার পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়নের ডুলিয়ার হাওর ও সাতবিলার হাওর জুড়ে আবাদ হয় সরিষা। এই ব্লকে প্রায় ৮৬ হেক্টর জমিতে এ বছর সরিষা আবাদ হয়েছে। তবে কৃষকদের মতে এই আবাদ অনেক বেশি। হাওরের অনেকাংশই ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের অংশ হওয়ায় কৃষি বিভাগের হিসেবে তা আসছে না। সেই অংশের জমিও তারা আবাদ করছেন বলে কৃষকরা জানিয়েছেন।
ডুলারখাল গ্রামের আব্দুল মোছাব্বির জানান, তারা সব সময়ই নিজেদের সরিষা থেকেই ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণ করেছেন এবং অতিরিক্ত সরিষা বাজারে বিক্রি করেছেন। তিনি জানান, এক বিঘা সরিষা আবাদ করতে তাদের প্রায় ৪ হাজার টাকা খরচ হয়। ঠিকমতো ফল হলে প্রতি বিঘায় আবাদ থেকে ৩ মন পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। তিনি জানান, প্রতি মন সরিষা থেকে ১৮ থেকে ১৯ লিটার সরিষার তেল পাওয়া যায়।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ জানান, প্রতি বছর সরকারকে ২৭ হাজার কোটি টাকার ভোজ্যতেল আমদানি করতে হয়। সরকার এর ৪০ ভাগ স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছে। সরিষা উৎপাদন বাড়াতে কৃষি বিভাগ সার্বক্ষণিক কৃষকদের সাথে যোগাযোগ রাখছে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। তার উপজেলায় ডুলারখাল, কাঠালবাড়ি এবং লম্বা কান্দি গ্রামের মানুষও নিজেদের উৎপাদিত সরিষা দিয়ে ভোজ্য তেলের চাহিদা পূরণ করতে পারেন বলে জানান।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সিলেট আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ পরিচালক কাজী মুজিবুর রহমান বলেন, সিলেটের কোম্পানিগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, বড়লেখা, বানিয়াচং উপজেলায় প্রচুর সরিষা আবাদ হয়। সরকার আবাদ আরো বাড়ানোর জন্য প্রণোদনা, রাজস্ব খাত থেকে সহায়তা, যন্ত্রপাতি, বীজ, সার বিতরণসহ নানা সহায়তা করে যাচ্ছে।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



