`বন্ধুত্ব- একে অন্যের সুখে-খুশিতে লাফিয়ে ওঠার, একে অন্যের দুঃখে পাশে দাঁড়ানোর। মন খুলে কথা বলা, হেসে গড়াগড়ি খাওয়া, আর চূড়ান্ত পাগলামি করার একমাত্র আধার এ ‘বন্ধুত্ব’।’
`বন্ধুত্ব কোনো বয়স মেনে হয় না, ছোট-বড় সবাই বন্ধু হতে পারে। তবে বন্ধুত্বের মধ্যে যে জিনিসটা অবশ্যই থাকা চাই তা হল ‘ভালোবাসা’। সেই ভালবাসার টানে আবারো মিলিত হলো সিলেটের রিকাবীবাজার স্টেডিয়াম মার্কেটের বন্ধু মহল।’
ইটপাথরে যান্ত্রিক জীবন মাটিয়ে একদিনের জন্য তারা ছুটে যান প্রকৃতের পানে। আনন্দ ভ্রমণ নাম দিয়ে বন্ধুদের মিলন মেলায় খোঁজে নেন জৈন্তাপুরের ডিবির হাওরে শাপলা বিলের নৈসর্গিক সৌন্দর্য এবং প্রকৃতিকন্যা জাফলংয়ে স্বচ্ছ জলের শীতল পরশ।
শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) ভোর সাড়ে ৫টার মধ্যেই হৃদয়ের টানে নগরের রিকাবিবাজার স্টেডিয়াম মার্কেটের সামনে সমবেত হন তারা। একে একে সবাই ওঠেন নির্দিষ্ট ভাড়া করা বাসে। সকাল ৬টার দিকে তাদের নিয়ে বাসটি রওয়ানা দেয়। পথে আগে থেকে অপেক্ষা করছিলেন দুই বন্ধু। তাঁদের গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। যাত্রাকালে বাসে শুরুতেই পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত। পরে গাড়ির গতির সঙ্গে সঙ্গে আড্ডামুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। একসময় বন্ধুদের মুখে বহুমুখী সঙ্গীতের সুরের মুর্ছনায় হারিয়ে যান সকলে।
তন্মধ্যে ইসলাম উদ্দিনের নেতৃত্বে সকলকে সকালের নাশতা ভুনা খিচুড়ি তুলে দেওয়া হয়।গানের তালে তালে নেচে জৈন্তাপুরের ডিবির হাওরের রাস্তায় গিয়ে সাড়ে ৮টায় থামলো বাস।বাস থেকেই নেমেই গ্রুপ ছবি তোলা শেষে পায়ে হেটে ডিবির হাওর(শাপলা বিলে)পৌঁছান সবাই। হাওরের সৌন্দর্য উপভোগের জন্য যে যার মতো ছুটে যান দিক-বিদিক।
সকাল ১০টা পর্যন্ত সেখানে নৌকায় ভ্রমণ ও পায়ে হেটে ঘুরে বেড়ান এবং আপন মনে ছবি তুলেন।পরে আবার সিলেট-তামাবিল সড়কে জড়ো হন সবাই।
এবার উদ্দেশ্য গোয়াইনঘাটের জাফলং। আবারো তালে-বেতালে নাচ-গানে সৃষ্টি হয় আনন্দঘন পরিবেশ।তখন কিছু বন্ধুরা গাড়ির জানালা দিয়ে পৃকতির ছবি ও ভিডিওচিত্র ধারণ করতে থাকেন।
অবশেষে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গন্তব্য স্থান জাফলং বাজারে গাড়ি পৌঁছায়। সেখানে আমির মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের মাঠে ফুটবল খেলা হয়।পরে জাফলং বাজার জামে মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়েন সবাই।
নামাজ শেষে ঝুঁড়ির ভেতরে ফুটবল ও ২শ’ মিটার দৌঁড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর হয় দুপুরের খাওয়া-দাওয়া।বিকাল সাড়ে তিনটায় প্রকৃতি কন্যা জাফলংয়ের জিরো পয়েন্টে পৌঁছান বন্ধু মহলের সবাই। এ সময় সবাইকে ভ্রমণ–সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়াও হয়।সেখানে কেউ কেউ গা ভিজিয়ে নেন পিয়াইন নদীর শীতল স্বচ্ছ জলে।আবার কেউ কেউ পাথরে দাঁড়িয়ে ছবি তুলেন এবং ঘোরাঘুরি করেন।
সূর্য যখন পশ্চিম আকাশে হেলে পড়ে, তখন নীড়ে ফেরার পালা। সিলেটের উদ্দেশ্যে সন্ধ্যা ৬টায় বাস ছাড়ে। বাস কিছুদূর আসার পর শুরু হয় পুরস্কার বিতরণ। রাস্তায় হরিপুর বাজারে হয় চা-চক্র। অবশেষে সন্ধ্যা রাতের আধার আলোয় সকলে নিজ বাসগৃহে ফিরে যান।
বন্ধু মহলের মিলন মেলায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন, ইসলাম উদ্দিন, সৈয়দ রাহেল আহমদ, আবুল কালাম আজাদ, আব্দুল মনাফ,হারুন রশিদ,সবুজ রানা, মিন্টু মিয়া,মো.আকবর আলী, ইমদাদুল হক ফাহিম, ফাহিম আহমদ, সাংবাদিক মো.মশাহিদ আলী, সাংবাদিক মো.আজমল আলী, শামীম আহমদ, সাংবাদিক রুম্মান আহমদ, ইলিয়াছ আহমদ, নুরুল হক, ছবর আলী, তানিম আহমদ, হাবিব সাইফুল্লাহ, সোহেল আহমদ, হাসিবুল ইসলাম, রাকিব আহমদ, লিটন আহমদ, ইমরান আহমদ, মনোয়ার হোসেন, সাগর চৌধুরী,দেলোয়ার হোসেন, সুমন দাস, পারভেজ আহমদ, রাফি আহমদ, তপন দাস, হাবিবুর রহমান এহসান,, সেলিম আহমদ, গৌতম দাস,আবুল কালাম বাবলা, ইব্রাহিম আলী, মামুন আহমদ,ইকবাল আহমদ,রাব্বি আহমদ,জয়নাল আবেদিন, রায়হানুল করিম শাহিন প্রমুখ।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



