স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন স্বায়ত্ব শাসিত প্রতিষ্ঠান সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান আয়ের উৎস রাজস্ব। অথচ সেই প্রতিষ্ঠানই সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে চলছে বছরের পর বছর।বিশেষ করে সিলেট সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকায় চলা সিসিকের অধিকাংশ পরিবহণে নেই রেজিস্ট্রেশন, রোড পারমিট। এসব গাড়ি রেজিস্ট্রেশনের তোয়াক্কা করছেন না নগর কর্তৃপক্ষ। ফলে এখাতে বছরের পর বছর ধরে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। এমনকি কর্মকর্তাদের চলাচল করা গাড়িরও রেজিস্ট্রেশন নেই। এমনকি সিসিকের সচিবের ব্যবহৃত নিশান জীপ গাড়িও চলছে নাম্বার বিহীন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিসিকের ২০৪টি পরিবহণ রয়েছে। এর মধ্যে মেয়র, পদস্থ কর্মকর্তাদের ব্যবহৃত জীপ গাড়ি ও পিকআপ কার রয়েছে ১৩টি। অ্যাম্বুলেন্স ১টি। এছাড়া নষ্ট গাড়ির সংখ্যা রয়েছে অন্তত ১৫টি। যেগুলো সুরমা নদীর তীরবর্তী পীর হাবিবুর রহমান পাঠাগার, বন্দরবাজার পুরাতন কারাগার সংলগ্ন ডাম্পিং ইয়ার্ডে রাখা হয়েছে। এসব গাড়ির মধ্যে অন্তত শতাধিক গাড়ি বছরের পর বছর ধরে রেজিস্ট্রেশনবিহীন চলেছে। ভারি যানবাহনসহ বিভিন্ন ধরণের গাড়ি প্রতি রেজিস্ট্রেশন ফি ৪০/৫০/৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত আসে। কিন্তু নগর কর্তৃপক্ষ গাড়িগুলো রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে কোন নিয়মনীতিই মানছেন না। বছরের পর বছর ধরে রেজিস্ট্রেশন বিহীন ফিটনেস ছাড়াই গাড়িগুলো দাপিয়ে বেড়ালেও সেক্ষেত্রে রহস্যজনকভাবে নিরব ভূমিকা পালন করছে সিলেট বিআরটিএও। কয়েক বছরের মধ্যে সিসিকের পরিবহণের বিরুদ্ধে বিআরটিএকে ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি বা গাড়িগুলো রেজিস্ট্রেশনের জন্য তাগিদ দেয়নি।
এ বিষয়ে সিসিকের সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা জয়দেব বিশ্বাস বলেন, নতুন গাড়ি যেগুলো এসেছে সেগুলোর রেজিস্ট্রেশন করা হবে। তবে আগের কিছু গাড়ি এবং ময়লার গাড়ি রয়েছে, সেগুলোর রেজিস্ট্রেশন নেই। এছাড়া প্রকল্প থেকে গাড়ি দিলে সেগুলোর নাম্বার প্লেট থাকে না। কেননা, কোম্পানী রেজিস্ট্রেশন করে দেওয়ার কথা। অবশ্য আগে অনেক গাড়ির রেজিস্ট্রেশন করা হয়নি। গত দুই বছর ধরে গাড়িগুলোর রেজিস্ট্রেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিআরটিএ সিলেটের সহকারি পরিচালক (ইঞ্জিন) মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, সরকারি কিংবা স্বায়ত্বশাসিত যেকোন প্রতিষ্ঠানই হোক, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন থাকতে হবে, এটাই স্বাভাবিক, নয়তো রাজস্ব ফাঁকির পর্যায়ে পড়ে। এসব প্রতিষ্ঠানের গাড়ির রোড ট্যাক্স ফ্রি রাখা হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা প্রতি সপ্তাহে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করি। রেজিস্ট্রেশন বিহীন গাড়িতে জরিমানা করি। তবে সিসিকের ভারি যানবাহনগুলোকে কখনো জরিমানা করিনি। যদিও রেজিস্ট্রেশন ছাড়া কোন গাড়িই রাস্তা চলাচলের কথা নয়। আগামিতে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানতে সিসিকের পরিবহণ শাখার সহকারি প্রকৌশলী তানভীরুল ইসলাম বলেন, সিসিকের ২০৪টি যানবাহন রয়েছে। তবে পুরোপুরি তথ্য তিনি না দেখে বলতে পারবেন না।
সিসিকের ওয়েবসাইট ঘেটে দেখা গেছে, ২০০২ সালের ২৮ জুলাই সিলেট পৌরসভা সিটি করপোরেশন উন্নীত হয়। ২০০৩ সালের ২০ মার্চ প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর পুরোদমে কার্যক্রম শুরু হয় সিসিকের। ক্রমশ; বাড়তে থাকে জনবল ও ইকুইপমেন্ট। এ যাবত সিসিকে যুক্ত হয়েছে ২০৪টি ভারি যানসহ বিভিন্ন ধরণের গাড়ি। সেসবের মধ্যে আছে সিএনজি চালিত ২টিসহ ২৯টি হাইড্রোলিক ট্রাক। ১১টি ট্রাক, ৩টি ট্রাক্টর, ৯টি রোলার, ওয়াটার ভাউচার ৪টি, ভীম লিফটার ৯টি, ওয়াটার ট্রাংক ৪টি, ট্রাক্টর ট্রলি ১টি, এক্সেভেটর ২টি, পে-লোডার ১টি, ভ্যাকস ট্রাংকার ১টি। এছাড়াও মেয়র, কর্মকর্তাদের ব্যবহৃত জীপগাড়ি ৬টি, পদস্থ কর্মকর্তাদের ব্যবহৃত পিকআপ কার ৮টি। এরবাইরেও নতুন গাড়ি (হেভি ইকুইপমেন্ট) সংযোজিত হয়েছে আরো ৩০টি। পাশাপাশি শতাধিক মোটরসাইকেল থাকলেও সিসিকের ওয়েবসাইটে দেওয়া আছে ৬০টির তথ্য। এসব মোটরসাইকেলের মধ্যে অফিস থেকে প্রদত্ত ৪১টি, প্রজেক্ট থেকে প্রাপ্ত ১৭টি, ২টির কোনো তথ্য নেই। এসব মোটরসাইকেলের মধ্যে সিসিকের লগো লাগিয়ে অনটেস্ট চলে ১২টি। পরিবহণ শাখার তথ্যমতে, এরইমধ্যে অন্তত ১৫টি গাড়ি অকেজো হয়ে পড়ে আছে। যেগুলো মেরামত করা হচ্ছে না।
নগর ভবন সূত্র জানায়, সিসিকের যানবাহনের মধ্যে এমন যানবাহন রয়েছে, যেগুলো কেনার পর থেকেই রেজিস্ট্রেশন করা হয়নি। এসব গাড়ি সচল থেকে অচল হলেও ছিল না রেজিস্ট্রেশন। অথচ প্রতিনিয়ত সিসিক কর্মকর্তারা অভিযান চালিয়ে রাজস্ব আদায় করলেও নিজেরাই সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছেন।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



