৩৬ বছরেও মনু নদী সেচ প্রকল্পের খনন কাজ না হওয়ায় অচল হয়ে গেছে সেচ খাল। একই সঙ্গে পানি নিয়ন্ত্রণের একাধিক ছোট-বড় সুইচ গেইট নড়বড়ে অবস্থায় পড়ে আছে। এতে হাওড় কাউয়াদিঘি পাড়ের চাষিরা প্রতিবছর বোরো মৌসুমে সেচের পানি সরবরাহের অভাবে চাষাবাদ নিয়ে শঙ্কায় থাকে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, দ্রুতই সেচ খাল পুন:খননসহ আরও নতুন ১৫ কিলোমিটার খনন কাজের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, স্থায়ী বন্যার হাত থেকে রক্ষা, সেচের মাধ্যমে দুটি ফসল উৎপাদন এবং রবি মৌসুমে অধিক ফসল উৎপাদনের উদ্দেশ্যেই মৌলভীবাজার শহরতলির মাতার কাপন এলাকায় মনু নদী ব্যারেজ নির্মাণ করা হয়। একই সঙ্গে শুষ্ক মৌসুমে এ নদীর পানি ব্যবহারের জন্য মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলায় ১০৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে নির্মাণ করা হয় মনু নদী সেচ প্রকল্প (সেচ খাল)। এতে ৪০ কিলোমিটার মৌলভীবাজার সদর ও ৬৫ কিলোমিটারের সেচ খাল রয়েছে রাজনগর উপজেলায়। শুরুতে এ প্রকল্পের সেচের পানি ব্যবহার করে এ দুটি উপজেলায় ১২ হাজার ৪৪ হেক্টর জমির প্রায় চল্লিশ হাজার কৃষক বোরোসহ অন্যান্য ফসল চাষাবাদে আর্থিকভাবে বেশ লাভবান হন।
কৃষক ও হাওর সংগ্রাম রক্ষা কমিটি জানায়, এ প্রকল্পের ১০৫ কিলোমিটার সেচ খাল দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে সংস্কার হয়নি। এতে পুরো সেচ খাল বুনো ঝোপ-ঝাড় ও পলি-বালি মাটিতে একেবারে ভরাট হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে অনেকে সেচ খাল দখল করে নানা প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করছেন। এছাড়া পানি নিয়ন্ত্রণের ছোট-বড় ৫০৪টি সুইচ গেইট নড়বড়ে হয়ে গেছে। এতে বোরো মৌসুমে সঠিক সময়ে পানি না পেয়ে অনেক চাষি হতাশ হয়ে চাষাবাদ ছেড়ে দিয়েছেন। এ বছরও বোরো মৌসুমের শুরুতে সেচ খালে পানি নেই।
তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানান, ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে সেচ খাল খনন কাজের উদ্যোগে নেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে দরপত্রের কাজও সম্পন্ন হয়েছে। কাজ শুরু হলে ১৫-২০ দিনের মধ্যেই খাল খনন কাজ সম্পন্ন হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ আহমদ জানিয়েছেন, ১০৫ কিলোমিটার সেচ খাল পুন:খনন ও আরও ১৫ কিলোমিটার সেচ খাল খনন হলে নির্ধারিত চাষের চেয়ে অতিরিক্ত ৪ হাজার হেক্টর জমি সেচের আওতায় আসবে।
এ ব্যাপারে হাওড় রক্ষা সংগ্রাম কমিটি মৌলভীবাজার সদর শাখার সাধারণ সম্পাদক রাজন আহমদ বলেন, ‘শুষ্ক মৌসুমের মধ্যেই দ্রুত এ সেচ খাল সংস্কার করতে হবে। তা নাহলে কৃষিখাতে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।’
১৯৮৬ সালে মুননদী প্রকল্পটি ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশি বিদেশি আর্থিক সহায়তায় নির্মিত হয়।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



