মধ্যগগনে তখনও সূর্য আসেনি। কাকডাকা ভোর পেরিয়ে সূর্য রশ্মি ধীরে ধীরে উত্তাপ ছড়াচ্ছিল। মৃদু হিম বাতাস শরীরে হালকা দোলা দিচ্ছিল। সকালের আড়ষ্টতা কাটিয়ে উঠতে দরকার ছিল জমাট ক্রিকেট। সঙ্গে এক কাপ চা হলে মন্দ হতো না! সাই-সাই করে বল এদিক সেদিক ছোবল দেবে। ব্যাটসম্যানরা দেখে শুনে সামলে নেবেন। প্রতি আক্রমণে তাদের ব্যাটেও থাকবে হাসির জোয়ার। কিন্তু সাগরপারের স্টেডিয়ামে ৪৯ মিনিটের খেলায় কি আর সেই সুযোগটি পাওয়া গেল! নড়েচড়ে বসার আগেই তো শেষ বাংলাদেশ-ভারতের পঞ্চম দিনের খেলা।
ম্যাচ চতুর্থ দিনই নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছিল ভারত। আজ ছিল স্রেফ আনুষ্ঠানিকতা। তবুও সাকিব আল হাসান ক্রিজে থাকায় আশার প্রদ্বীপ জ্বালিয়ে রেখেছিল স্বাগতিকরা। কুলদীপের বলে সাকিব বোল্ড হলে সফরকারীদের জয় হাতের মুঠোয় চলে আসে। তবে সাকিবের ৩৮ মিনিটের ব্যাটিংয়ে স্টেডিয়ামে হাজির হওয়া হাতে গোনা দর্শক কিছুটা হলেও আনন্দ পেয়েছে। আগের দিনের ২৭২ রানের সঙ্গে রোববার ৫২ রান যোগ করে বাংলাদেশ। তাতেই শেষ ৪ উইকেট।
৫১৩ রানের লক্ষ্য তাড়ায় বাংলাদেশ অলআউট ৩২৪ রানে। ভারত পেয়ে যায় ১৮৮ রানের বিশাল জয়। সঙ্গে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ১২ পয়েন্ট। আজকের ৫২ রানের ৪৪ রানই করেছেন সাকিব। এজন্য খেলেছেন ৩৯ বল। ৪৪ রান তুলতে সাকিব ছক্কা হাঁকিয়েছেন ৪টি, চার ৩টি। মানে ৩৬ রান এসেছে ৭ বলে। বাকিটা এক-দুইয়ে। বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের সামনে সুযোগ ছিল পাঁচ বছর পর টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেওয়ার। অক্ষর পাটেল, সিরাজদের যেভাবে ছক্কা উড়িয়েছেন তাতে মনে হচ্ছিল জহুর আহমেদ তার ব্যাটে সেঞ্চুরি আঁকা হবে। কিন্তু কুলদীপকে বোলিংয়ে এনে সাকিবকে ফেরানোর পথ খুলে দেন রাহুল। তার বল সুইপ করতে গিয়ে ৮৪ রানে বোল্ড হন বাংলাদেশের অধিনায়ক। ১০৮ বলে ৬টি করে চার ও ছক্কায় সাজান তার ৮৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস।
মিরাজকে সঙ্গে নিয়ে সাকিব দিনের খেলা শুরু করেছিলেন। লক্ষ্য থেকে ২৪১ রান পিছিয়ে দিন শুরু করেন তারা। আজ হারানোর মতো কিছু ছিল না বাংলাদেশের। সাকিব, মিরাজের প্রতিরোধ প্রাপ্তির খতিয়ান লম্বা করতে পারতেন। শুরুটা মিরাজ খারাপ করেননি। দারুণ কভার ড্রাইভে চার মেরে দিন শুরু করেন। এক ওভার পর প্রায় একই শট খেলেছিলেন। কিন্তু এবার পয়েন্টে আটকে যান। শরীরের থেকে দূরের বল জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলতে গিয়ে ক্যাচ দেন মিরাজ। এরপর চলে সাকিবের ৩৮ মিনিটের শো। যেখানে অক্ষরকে মিড উইকেট, ডিপ মিড উইকেট ও লং অন দিয়ে উড়িয়েছেন ছক্কা। সিরাজকে পুল করে ফাইন লেগ দিয়ে যে ছক্কা হাঁকিয়েছেন তা ছিল চোখ ধাঁধানো।
সাকিবের এরকম এলোপাতাড়ি ব্যাটিংয়ে একটুও ঘাবড়ে যায়নি ভারত। উল্টো তাদের ফিল্ডিং ছিল আঁটসাঁট। কুলদীপকে বোলিংয়ে এসে সাকিবের উইকেট পেতে স্রেফ ছয় বল নেন রাহুল। তাইজুলের সঙ্গে সাকিবের জুটি ছিল ৩৭ রানের। সবকটি রানই এসেছেন সাকিবের ব্যাট থেকে। এরপর ইবাদত ও তাইজুলকে পরপর দুই ওভারে ফিরিয়ে জয়ের বাকি কাজ সারেন কুলদীপ ও অক্ষর।
পঞ্চম দিনে মাত্র ৪৯ মিনিটের খেলায় শেষ ৪ উইকেট তুলে সহজ জয় নিশ্চিত করে ভারত। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা চাইলে নিজেদের স্থির রেখে প্রতিরোধ গড়তে পারতেন। চাইলে লড়াই চালিয়ে ম্যাচটা লম্বাও করতে পারতেন। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটের আসল খেলাটাই তো এখনও বুঝে উঠতে পারেনি বাংলাদেশ। ফলে বিব্রতকর হারের তালিকায় আরেকটি পরাজয়ও যুক্ত হলো।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



