কুয়াশার শুভ্র সকাল।গাছে পাখির কলতান। লাল সূর্যের আলোয় আলোকিত হচ্ছে ধরণী।যতই আলোকিত হচ্ছে ততই কাটছে কুয়াশার প্রভাব। নগরের সড়কগুলোতে তখন লোকসমাগম।হাতে ফুল, মাথা্য় ও গায়ে লাল-সবুজের আচ্ছাদন।মাইকে বাজছে বিজয়ের গান। সুরের মুর্ছনা নিয়ে যায় সেই একাত্তরের দিনগুলিতে।
১৯৭১ সালে দীর্ঘ সাড়ে ৯মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর পাক হানাদার ও তাদের দোষরদের পরাজিত করে একটি মানচিত্র, একটি নতুন সূর্য ছিনিয়ে আনার বীরত্বগাঁথা দিন আজ।
বিজয়ের সেই মাহেন্দ্রক্ষণে দেশমাতৃকার তরে প্রাণ বিলিয়ে দেওয়া শহীদদের নত মস্তকে শ্রদ্ধা জানালেন সিলেটবাসী।
শুক্রবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল থেকে সিলেট শহীদ মিনার মুখী ছিলেন সিলেটের মানুষ। নতশিরে শহীদদের স্মরণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।
সকাল ৬ টা ৩১ মিনিট থেকে বিজয় দিবসে শহীদ মিনারে শহীদদের শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন শুরুর মধ্য দিয়ে বিজয় দিবস উদযাপন শুরু হয়। জাতির শ্রেষ্ট সন্তানদের শ্রদ্ধা জানাতে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গন।
সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার বেদিতে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণে প্রথমে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করে শহীদ মিনার বাস্তবায়ন কমিটি, তারপর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ।
পর্যায়ক্রমে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার, উপ মহা পুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি), মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ, জেলা ও মহানগর বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জাতীয় সমাজ তান্ত্রিকদল জাসদ, বাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, সাম্যবাদী দল, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, যুবলীগ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সিলেট সিটি করপোরেশন, চেম্বার অব কমার্স, সিলেট জেলা প্রেসক্লাব, সিলেট প্রেসক্লাব, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন (ইমজা), ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন, সড়ক বিভাগ, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফ্রন্ট সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন একে একে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। তবে ছাত্রলীগ রাতের প্রথম প্রহরেই শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
এছাড়া সিলেটের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টান, সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে শহীদ মিনারে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
বিজয় দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় ফুলে ফুলে ভরে উঠছে শহীদ মিনারের বেদী।
এদিকে মহান বিজয় দিবসে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন উপলক্ষ্যে নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা ছিলো শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ। শহীদ মিনার এলাকা ছাড়াও নগরময় পোষাকে সাদা পোষাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন ছিলো।
এছাড়া বিজয় দিবস উপলক্ষে দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে সিলেট বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, আওয়ামী লীগ। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সামনে সূর্যদয়ের সাথে সাথে ৩১ বার তোপধ্বনি, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ৮ টা ৩০ মিনিট থেকে জেলা স্টেডিয়ামে শুরু হয় কোচ কাওয়াজ। এতে মুক্তিযোদ্ধ, পুলিশ, র্যাব, বিএনসিসি, আনসার, ভিডিপি, ফায়ার সার্ভিস, কারারক্ষী, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয় এবং শারিরিক কসরত প্রদর্শন করেন।
এছাড়া সকাল ১১টায় নগরের রিকা্বিবাজার কবি নজরুল অডিটরিয়ামে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়, বাদ জুমা বিভিন্ন মসজিদ, মন্দিরসহ ধর্মীয় উপাসনালয়ে মোনাজাত/প্রার্থনা, সাড়ে ১১টায় নগরের ব্লু বার্ড স্কুলে মহিলাদের ক্রীড়ানুষ্ঠান ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোচনা সভা, ১২টায় সিলেট অগ্রগামী বালিকা বিদ্যালয়ে মহিলাদের ক্রীড়ানুষ্ঠান, বিকেল সাড়ে ৩টায় জেলা স্টেডিয়ামে সিলেট জেলা প্রশাসন বনাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার মধ্যাকার প্রীতি ফুটবল ম্যাচ, এরআগে দুপুরে হাসপাতাল, কারাগার, বৃদ্ধাশ্রম, এতিমখানায়, ডে কেয়ারে ও শিশু বিকাশ কেন্দ্রে এবং শিশু পরিবার ও ভবঘুরে প্রতিষ্ঠানে উন্নতমানের খাবার বিতরণ করা হবে।
পাশাপাশি বিজয় দিবস উপলক্ষে নগরের সব সিনেমা হল সমূহে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী, সকাল-সন্ধ শিশুদের জন্য ওসমানী শিশু পার্ক, জাদুঘর ও অন্যান্য বিনোদন কেন্দ্রসমূহ বিনা টিকিটে ঘুরে আসতে পারবেন।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



