আগের ম্যাচে ব্রাজিলকে রুখে দিয়ে টাইব্রেকারে জয় ছিনিতে নিয়েছিল ইউরোপের দেশ ক্রোয়েশিয়া। আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও যেন একই নিয়তি ঘটলো। নির্ধারিত সময়ের শেষ সময়ের গোলে ২-২ এ সমতায় আনে ডাচরা৷ অতিরিক্ত সময়ের ৩০ মিনিটেও গোল করতে ব্যর্থ হয় দুই দল। ফলে ম্যাচ গড়ালো টাইব্রেকারে।
গোল করানোর পর গোল করে আর্জেন্টিনার ত্রাণকর্তা হয়ে ওঠেন মেসি। দলকে যখন তিনি সেমিফাইনালে নিয়েই যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই খলনায়ক হয়ে আসেন বদলি হয়ে নামা ডাচ স্ট্রাইকার ভুট ভেগহোর্স্ট।পরপর দুই গোল করে ড্র এনে স্বস্তি ফেরান তিনি। ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও ড্র হলে পেনাল্টিতে যায়।
পেনাল্টিতে ম্যাচের নায়ক হয়ে ওঠেন আলবিসেলেস্তে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেস। শুরুতেই ভার্জিল ফন ডাইকের গোল ঠেকিয়ে শুরু করেন টাইব্রেকার। পরেরবার ঠেকান স্টিফেন বার্গভিনের শট। মাঝে মেসি এসে সফল স্পট কিক নেন। পারেদেস ও মন্তিয়েল এসেও হন সফল। তিনে স্পট কিক নেওয়া ডাচ ফুটবলার সফল স্পট কিক নিলেও চারে আর্জেন্টাইন এনসো ফার্নান্দেস এসে পারেননি। এদিকে নেদারল্যান্ডসের ভুট ভেগহোর্স্ট ও লুক ডি জং সফল হন। বাকি ছিলো আর্জেন্টাইন কারও সফল কিক নেওয়ার। সেটিই করে দেখালেন লাওতারো মার্তিনেস।
কাতার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আজ নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ২-২ ব্যবধানে ড্র করে নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষ করে আর্জেন্টিনা। মেসির সহায়তায় প্রথমার্ধে দলকে এগিয়ে নেন নাহুয়েল মোলিনা। বিরতির পর পেনাল্টি করে গোল ব্যবধান আরও বাড়ান পিএসজি ফরোয়ার্ড। শেষদিকে পরপর দুই গোল করে ম্যাচে রোমাঞ্চ তৈরি করেন বদলি হয়ে নামা ডাচ স্ট্রাইকার ভুট ভেগহোর্স্ট।
ম্যাচে দুই পরিবর্তন নিয়ে একাদশ সাজান আর্জেন্টাইন কোচ স্কালোনি। ৪-৩-৩ ফরমেশন থেকে সরে এসে ৩-৫-২ ফরমেশনে এদিন খেলান তিনি।
ডাচদের বিপক্ষে শুরু থেকে বল দখল নেওয়ার চেষ্টা করে। ম্যাচের ১৪ মিনিটে বাম পাশ থেকে আকুনার জোরালো ক্রসে ম্যাকএলিস্টার বল মাথা ছোঁয়াতে পারলে এগিয়ে যেতে পারতো আর্জেন্টিনা।
২৩ মিনিটে আবারও সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা। এবার ডি বক্সের বাইরে থেকে মেসি তার নিজস্ব জায়গা থেকে বল পেয়ে দূরপাল্লার শট নিলে বল চলে যায় গোলবারের ওপর দিয়ে। এর ২ মিনিট পরে সুযোগ পেয়েছিল ডাচরাও। কিন্তু বারুইনের শট চলে যায় গোলবারের বাইরে দিয়ে।
৩৪ মিনিটে ডি বক্সের বাইরে থেকে ডি পলের দুর্বল শট রুখে দেন ডাচ গোলরক্ষক। এর ঠিক ১ মিনিট পরেই আসে কাঙ্ক্ষিত সেই গোল। মাঝমাঠ থেকে বল একাই টেনে নিয়ে যান মেসি। ডি বাইরে বাইরে থেকে তিন ডিফেন্ডারের পায়ের মাঝ দিয়ে দর্শনীয় এক পাস দিলে মলিনা সেটিকে কোন রকম কার্পণ্য না করে গোলে পরিণত করেন।
এক গোলে এগিয়ে দুর্বার খেলতে থাকে স্কালোনির দল। ৪১ মিনিটে সুযোগ পেয়েছিলেন মেসিও। কিন্তু ডিবক্সের ভেতর থেকে মেসির ডান পায়ের শট সোজা চলে যায় গোলরক্ষকের হাতে। শেষের দিকে ডাচরা গোলের চেষ্টা করলেও আর গোল পায়নি তারা। ফলে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।
বিরতি থেকে ফিরে আক্রমণের ধার বাড়ায় ডাচরা। ৬৪ মিনিটে ডি বক্সের বাইরে ফ্রি কিক পায় আর্জেন্টিনা। মেসির বা পায়ের বুলেট গতির শট গোলবারের সামান্য উপর দিয়ে চলে যায়।
৭২ মিনিটে ডি বক্সের ভেতর আকুনাকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। স্পট কিক থেকে পেনাল্টিতে গোল করে দলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন লিওনেল মেসি। এবারের বিশ্বকাপে এটি তার ৪র্থ গোল এবং সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে এটি তার ১০ম গোল।
দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও আক্রমণের ধার কমায়নি নেদারল্যান্ডস। ৮৪ মিনিটে দারুণ এক আক্রমণ থেকে ডাচদের হয়ে হেডে গোল করেন বদল হিসেবে নামা উইঘোর্স্ট।
এক গোল শোধ দিয়ে আরও গোলের জন্য মরিয়া হয়ে খেলতে থাকে ডাচরা৷ ৮৬ মিনিটে উইঘোর্স্ট বা পায়ের শট জাল ঘেষে বের হয়ে যায়। ম্যাচের শেষ দিকে যেন নাটকের প্লট নতুন করে লেখে নেদারল্যান্ডস।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল হতে আর মাত্র ১ মিনিট দূরে আর্জেন্টিনা। এমন সময়ে ডি বক্সের বাইরে থেকে ফ্রি কিক অয়ায় নেদারল্যান্ডস। দারুণ বুদ্ধিদীপ্ত ফ্রি কিক থেকে গোল করব ডাচদের ঐতিহাসিকভাবে ম্যাচে ২-২ গোলে সমতায় ফেরান উইঘোর্স্ট। ম্যাচ গড়ালো অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়ের ১০৫ মিনিটে মেসির ফ্রি কিক থেকে ডি বক্সের ভেতর বাড়ানো বলে পা লাগাতে ব্যর্থ হন ওটামেন্ডি। ম্যাচের একদম অন্তিম মুহূর্তে এনজো ফার্নান্দেজের দূরপাল্লার শট বার পোস্টে লেগে প্রতিহত হলে হতাশায় মুষড়ে পড়ে আর্জেন্টিনা। ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।
টাইব্রেকারে ডাচদের প্রথম ২ টি শটই রুখে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। মেসির প্রথম ৩টা স্পট কিক থেকে গোল করলেও ৪র্থ শটে মিস করেন এনজো ফার্নান্দেজ। একদম শেষ শটে লাউতারো মার্টিনেজ গোল করে আর্জেন্টিনাকে ৪-৩ ব্যবধানের জয় এনে দেন পেনাল্টি থেকে।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



