দফায় দফায় তারিখ পাল্টানোর পর অবশেষে প্রায় সাড়ে চার বছর পর সম্মেলন হচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের।
আজ ৩০তম এই সম্মেলনকে ঘিরে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা অন্যান্য সম্মেলনের চেয়ে তুলনামূলক কম দেখে গেছে। কারণ বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ‘একচেটিয়া’ নেতৃত্বের কারণে কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যদের যেমন ক্ষোভ আছে, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ অনেক ইউনিটসহ বেশিরভাগ জায়গায় কমিটি দিতে না পারায় মাঠের কর্মীরাও হতাশ। তবে গত কয়েকদিন ধরে কমিটি বেশি সমালোচনায় পড়েছেন ‘সহ-সম্পাদক ও নির্বাহী কমিটির সদস্য’ করে দেওয়া চিঠি নিয়ে।
সম্মেলনের সপ্তাহখানেক আগে থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা কলেজ, কবি নজরুল কলেজ, ঢাকা মহানগরের দুই ইউনিটের অসংখ্য নেতাকর্মীর কেন্দ্রীয় নেতা হওয়ার প্রেসরিলিজে ফেসবুক ভরে গেছে। অনেকে এদের ‘ফটোকপি নেতা’ বলে আখ্যায়িত করছেন।
সম্মেলনের আগ মুহুর্তে বিদায়ী কমিটির নেতাদের এমন নেতা বানানোর হিড়িক পড়ার ঘটনা নিয়ে অনেকে প্রকাশ্যে সমালোচনা করছেন। অভিযোগ উঠেছে, সহ-সম্পাদক ও সদস্য করার বিনিময়ে আর্থিক লেনদেনও হয়েছে।
কেউ আবার বলছেন দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনে যুক্ত থাকা কাছের কর্মীদের এমন পদ দিয়ে সাংগঠনিক পরিচয় দেওয়া হয়েছে মাত্র। অতীতেও এমন ঘটনা ঘটেছে।
সবশেষ সম্মেলনের আগের রাতেও অনেকে ফেসবুকে ছাত্রলীগে নতুন পদ পাওয়ার প্রেস রিলিজ প্রকাশ করে অভিনন্দন কুড়াতে দেখা গেছে। অবশ্য প্রেসরিলিজ আসল না নকল তা নিয়েও আলোচনা আছে ছাত্রলীগের ভেতর-বাইরে।
ফেসবুকে দেখা গেছে, ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত সংগঠনটির প্যাডে কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি আর সহ-সম্পাদক পদ দেওয়া হয়েছে বলে প্রচার করছেন শত শত নেতা।
যারা নিজেদের নামে এটি প্রচার করছেন তারা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন। কেউ আবার কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক বড় ভাইদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন।
আলোচনা আছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ নেতা মুঠোফোনে অনেককে পদ জানিয়ে দিয়েছেন। যাদের বলা হচ্ছে তারা নিজেরাই ফাঁকা প্যাডে নিজেদের নাম বসিয়ে তা প্রচার করছেন।
এদিকে এসব বিষয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতা আক্ষেপ প্রকাশ করে ফেসবুকে পোস্টে লিখেছেন, ‘৫৭ হাজার বর্গমাইলে ৭৭ হাজার সহ-সভাপতি।’
এমদাদুল হক জায়েদ নামে একজন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা লিখেছেন, ‘আমরা ১৫ বছর রাজনীতি করে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হয়েছিলাম। আর এখন ১৫ দিন রাজনীতি করে কেন্দ্রীয় কমিটির পদ পাচ্ছে। জয়-লেখক ছাত্রলীগ-কে শেষ করে দিল।’
ছাত্রলীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছিল ২০১৮ সালের মে মাসে। ওই বছরের জুলাইয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি পদে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক পদে গোলাম রাব্বানী দায়িত্ব পান।
তারা পদ হারালে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে সভাপতি পদে আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক পদে লেখক ভট্টাচার্য আসেন। ২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি ‘ভারমুক্ত’ হন তারা।
গঠনতন্ত্র কী বলে?
ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটিকে ২ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পরবর্তী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনের জন্য কাউন্সিল করার প্রস্তুতি নিতে হবে। কিন্তু জয়-লেখকের কমিটি গত ৪ বছরে এমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
১ বছরের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১১৬টি জেলা ইউনিটের মধ্যে বেশিরভাগ কমিটি গঠন করতেও ব্যর্থ হয়েছেন তারা। কিছু জেলায় কাউন্সিল হয়নি ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে।
এদিকে শীর্ষ নেতাদের কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের একাংশের নেতারা গত ১০ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডি কার্যালয়ে জয় ও লেখকের বিরুদ্ধে গঠনতন্ত্র লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিতে যান।
কিন্তু দফতর সচিব তা গ্রহণ করতে রাজি হননি। অবশ্য আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা ক্ষুব্ধদের সঙ্গে বসবেন এমন শর্তে তারা সেদিন ফিরে আসেন।
অন্যদিকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ৩০১ জনের বেশি সদস্য থাকার কথা নয়। কিন্তু বাস্তবে এর সদস্য সংখ্যা ৭০০ ছাড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কারণ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক অভিভাবক শেখ হাসিনার কাছে জমা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করা সেই অভিযোগ অনুযায়ী, ‘শোকের মাসে (আগস্ট) কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই কেন্দ্রীয় কমিটিতে ৫০০ জনেরও বেশি নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’
সূত্র জানায়, জয় ও লেখক এককভাবে এই নেতাদের নির্বাচন করে শুধু চিঠি পাঠিয়ে সংগঠনের সদস্য করেছে।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



