অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেছে। নেইমারদের ব্রাজিল কি পারবে শেষ আটে পা রাখতে? এই প্রশ্নের উত্তরের পথে আজ ব্রাজিলের সামনে বাধা দক্ষিণ কোরিয়া। ম্যাচটা অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায়।
দোহার নাইন সেভেন ফোর স্টেডিয়ামে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে শেষ ষোলোর এই ম্যাচের আগে ব্রাজিল শিবিরে মূল আলোচনার বিষয় একটিই—নেইমার। সার্বিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন পিএসজি তারকা। সেই চোট কাটিয়ে উঠেছেন। বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি ব্রাজিল ভক্তের আশা বাড়িয়ে দলের সঙ্গে অনুশীলনও করেছেন নেইমার। কিন্তু সত্যিই তিনি বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলার মতো পরিপূর্ণ ফিট কি না, সেটা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি ব্রাজিল। মানে নেইমার আজ খেলবেন কি খেলবেন না, তা নিয়ে ধোঁয়াশাটা রয়েই গেছে।
ধোঁয়াশাটা রেখে দিয়েছেন আসলে ব্রাজিল কোচ তিতে নিজেই। গতকাল ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা ব্রাজিল কোচের কাছে প্রথমেই জানতে চান নেইমারের বিষয়ে। উত্তরে ব্রাজিল কোচ বলেছেন, দলের সঙ্গে আরো একটি অনুশীলন সেশন করবেন নেইমার। সেই অনুশীলন সেশনের পর ব্রাজিল টিমের চিকিত্সক পরিষদ নেইমারের ফিটনেস নিয়ে চূড়ান্ত পরীক্ষাটা করবেন। পরীক্ষার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে নেইমার খেলবেন নাকি না! তবে ব্রাজিল কোচের আভাস-ইঙ্গিতে অনেকটাই স্পষ্ট, শুরুর একাদশে না থাকলেও নেইমার থাকবেন বদলি তালিকায়। মানে প্রথমে না নামলেও শেষের দিকে ঠিকই দেখা যেতে পারে নেইমারকে। বিশ্ব্ব জুড়ে কোটি কোটি ব্রাজিল ভক্তের জন্য এটাও অনেক বড় সুসংবাদ।
এই নেইমার সুসংবাদ হয়তো ব্রাজিল শিবিরেও ফিনিয়ে এনেছে স্বস্তির হাওয়া। নয়তো একের পর এক খেলোয়াড়ের চোটের সংবাদে দিশেহারা অবস্থায় ব্রাজিল কোচ। নেইমারের সঙ্গে দানিলো চোটে পড়েছেন আগেই। সর্বশেষ ক্যামেরুনের বিপক্ষে ম্যাচের পরও চোট শঙ্কায় পড়েছেন রক্ষণভাগের অন্যতম সেনানি অ্যালেক্স সান্দ্রো, পাকুয়েতা এবং ফরোয়ার্ড গ্যাব্রিয়েল জেসুসরা। এই অবস্থায় দলের সেরা খেলোয়াড় নেইমারের সুস্থতার বিষয়টি ব্রাজিলের জন্য অনেক বড় কিছু। যদি চিকিত্সকদের পূর্ণফিটনেস ছাড়পত্র পেয়ে নেইমার একাদশে ফিরেন, সেটা হবে ব্রাজিল কোচের জন্য আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়ার মতো ব্যাপার। কারণ, পরীক্ষাটা এখন নকআউটের। স্বপ্নের পথে এগিয়ে যেতে হলে জিততেই হবে। হারলে ফিরতে হবে বাড়ি। আগেই শিরোপা জয়ের ছবি আঁঁকিয়ে ফেলা ব্রাজিলিয়ানরা হয়তো হারের কথা ভাবতেও পারছেন না।
কোচ তিতের পরিকল্পনায় যে শুধুই জয়, জয় আর জয় সেটা অনুমিতই। কিন্তু তিনি নিজের মতো করে পরিকল্পনা করলেই তো হবে না! জিততে হবে মাঠে খেলে। মাঠের খেলার সেই লড়াইয়ে জিততে হলে সেরা অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়েই নামতে হবে। কারণ, ব্রাজিল কোচ ভালো করেই জানেন প্রতিপক্ষ দক্ষিণ কোরিয়া নামে ছোট হলেও এখন তার ছোট নয়। নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েই শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে দলটি। তাছাড়া পরাশক্তিদের হারানোর অভ্যাসও আছে কোরিয়ার। ২০১৮ বিশ্বকাপে যেমন পরাশক্তি জার্মানিকে হারিয়ে দিয়েছিল। তার আগে নিজেদের ঘরের মাটির ২০০২ বিশ্বকাপে তো দক্ষিণ কোরিয়া বিশেষ চমক দেখিয়ে পা রেখেছিল সেমিফাইনালে। যে পথে তারা হারিয়েছিল পোল্যান্ড, পর্তুগাল, ইতালি এবং স্পেনকে!
শুধু কি তাই? এই ব্রাজিলকেও তো একবার হারিয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়া। পাঁচ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে কোরিয়ানদের সেই জয়টা ছিল ১৯৯৯ সালে, আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে। নিজেদের মাঠে পরাশক্তি ব্রাজিলকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল তারা। এছাড়া দুই দলের বাকি ৬ সাক্ষাতেই জয়ী ব্রাজিল। যার সর্বশেষটি এ বছরের ২ জুন। কোরিয়ার রাজধানী সিউলে গিয়েই সেই ম্যাচে কোরিয়াকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল তিতের ব্রাজিল। সেই ম্যাচের শুরুর একাদশের বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই আজ থাকবেন ব্রাজিলের শুরুর একাদশে। থিয়াগো সিলভা, কাসেমিরো, মারকুইনহো, রাফিনহা, ফ্রেড পাকুয়েতা, রিচার্লিসন, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, নেইমার-এদের সবাই খেলেছিলেন সেই ম্যাচে। আজও নিশ্চয় সেরকম কিছুই করতে চাইবে তিতের দল। তবে কোরিয়াও ছেড়ে কথা বলবে না।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



