সিলেটে বিএনপির গণসমাবেশের আর মাঝখানে একদিন বাকী। যত সময় ঘনিয়ে আসছে তত আগ্রহ বাড়ছে নেতা-কর্মীদের মাঝে। সমাবেশে সর্বোচ্চ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ভিন্ন ভিন্ন কৌশল নেয়া হচ্ছে। বিভাগের চার জেলা থেকে আসা নেতা-কর্মীরা আগেভাগেই যেন সমাবেশস্থলে এসে অবস্থান করতে পারেন, সে জন্য স্থাপন করা হচ্ছে অস্থায়ী ক্যাম্প। ধরপাকড় ও হয়রানী এড়াতে হোটেল-মোটেলও এড়িয়ে চলছেন তারা।
বুধবার সকালে সরেজমিন দেখা যায়, গণসমাবেশস্থলে মঞ্চের পাশে কয়েকজন খোঁড়াখুঁড়ির কাজ করছেন। অন্যদিকে ক্যাম্প তৈরির কাজ করছেন আরও কয়েকজন। ইতিমধ্যে ৬টি ক্যাম্প প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
দায়িত্বরতরা জানান, ক্যাম্পগুলো সরিয়ে ফেলা হবে সমাবেশ শুরুর আগেই। মূলত নেতা-কর্মীরা রাতে যাতে সেখানে অবস্থান করতে পারেন, সে জন্য ক্যাম্পগুলো তৈরি করা হচ্ছে। ক্যাম্পগুলো জেলা ও এলাকাভিত্তিক তৈরি করা হচ্ছে। এগুলোর বেশির ভাগ মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলা থেকে আসা নেতা-কর্মীরা থাকবেন। একেকটি ক্যাম্পে ৪৫০ থেকে ৫০০ জন থাকতে পারবেন।
এদিকে, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চলছে মূল মঞ্চ তৈরির কাজ। গতকাল দেখা যায়, মঞ্চ তৈরীর কাজ প্রায় ৯০ ভাগ শেষ। চলছে শেষ মুহূর্তের সাজ-সজ্জা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সিলেটে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশের আগে ধরপাকড় ও বিভিন্ন হয়রানি এড়াতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছেন বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। কৌশলের অংশ হিসেবে দূরদূরান্ত থেকে সমাবেশে যোগ দিতে আসা নেতা-কর্মীরা হোটেল-মোটেলে উঠবেন না বলে জানা যায়। বিকল্প হিসেবে তাঁরা সমাবেশস্থলে ক্যাম্প স্থাপন করে ও কমিউনিটি সেন্টারে থাকবেন। কমিউনিটি সেন্টারগুলো ইতিমধ্যে ভাড়া নিয়ে রাখা হয়েছে।
ইতিমধ্যে বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেছেন, সমাবেশ ঘিরে নেতা-কর্মীদের বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। সে জন্য সমাবেশের দু-এক দিন আগেই কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চাচ্ছে বিএনপি। তাই সমাবেশস্থলে রাতে অবস্থানের জন্য তৈরি করা হচ্ছে ক্যাম্প।
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সমাবেশস্থলের ক্যাম্পগুলো নেতা-কর্মীরা নিজ উদ্যোগে তৈরি করেছেন। তবে তারা গণসমাবেশের শৃঙ্খলা কমিটির কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছেন। তাদের বলা হয়েছে তারা যেহেতু সিলেটের বাইরের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসছেন, বাইরে থাকার মতো পরিবেশ নেই এ জন্য সেখানে থাকতে পারবেন। তবে সমাবেশের দিন ভোরে যাতে ক্যাম্প কিংবা তাবুগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় সমাবেশে যোগ দিতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হয়েছেন নেতা-কর্মীরা। সিলেটেও এ ধরনের বাধা আসতে পারে। এ জন্য অনেক নেতা-কর্মী এবং সমর্থক আগেভাগেই সমাবেশস্থলে চলে এসেছেন। তাদের থাকার জন্যই এসব ক্যাম্প।
সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হাসান জীবন বলেন, আমরা আশাবাদী। ১৯ নভেম্বর শুধু সমাবেশস্থল সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠই নয়, পুরো সিলেট শহর লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠবে। সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সিলেটের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত যেভাবে আমরা সাধারণ মানুষের সাড়া পেয়েছি, এটা অভাবনীয়।
এদিকে, বিএনপির সমাবেশের দিন সিলেটেও পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয়া হলো। সিলেটে রেজিস্ট্রেশনবিহীন সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধ করা ও বৈধ অটোরিকশাগুলোতে গ্রিল স্থাপনসহ কয়েকটি দাবিতে এ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে সিলেট জেলা বাস মালিক সমিতি।
যদিও সিলেট জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. মইনুল ইসলাম বলেন, ‘সিলেটে ধর্মঘটের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আমরা বিএনপির গণসমাবেশের সময়ও গাড়ি স্বাভাবিকভাবে চলাচল করার পক্ষে। শ্রমিকরা কোন রাজনৈতিক দলের নয়।’
আগামী শনিবার সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



