সিলেট শহরের অলিতে গলিতে, পাড়ায় মহল্লায় কুকুরের উৎপাত বেড়েছে। যখন তখন পথচারীদের উপর চড়াও হচ্ছে কুকুর। সুযোগ বুঝে দিচ্ছে কামড়। কুকুরের ভয়ে অনেক এলাকা দিয়ে রাতের বেলা চলাফেরা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে নগরীতে কুকুরের উৎপাত বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল। তাঁরা বলছেন, বিভিন্ন স্থানে কুকুর দল বেঁধে ঘুরে বেড়ায়। এতে পথচারীরা রীতিমতো ভীত ।
অপরদিকে, সেপ্টেম্বর মাসের তুলনায় অক্টোবর মাসে বেড়েছে কুকুরের কামড়ে ভ্যাকসিন নিতে আসা রোগীর সংখ্যাও। কুকুরের উৎপাতের শিকার মানুষজন বলছেন, এগুলো দেখার দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের। কিন্তু সিটি কর্পোরেশন বলছে, উচ্চ আদালতের নির্দেশনার কথা।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের এমন কোনো পাড়া-মহল্লা নেই, যেখানে কুকুরের দাপট নেই, উচ্ছৃঙ্খলতা নেই। যারা রাত করে বাড়ি ফিরেন, তারা বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। কারণ রাত বাড়ার সাথে সাথে কুকুরের উৎপাতও বেড়ে যায়, কুকুর বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তারা পথচারীদের গতিরোধ করে ফেলে। রিকসা, মোটরসাইকেল কিংবা সিএনজি অটোরিকসায় থাকলেও কুকুরের ভয় থাকে যাত্রীদের। দলবদ্ধ কুকুর চলন্ত গাড়িকেও তাড়া করতে শুরু করে। ভয়ে অনেক যাত্রী বিকল্প পথে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হন।
গত বুধবার ফেঞ্চুগঞ্জে কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হন ইস্টার্ণ ব্যাংক লিমিটেডের ম্যানেজার তারেক আহমেদ চৌধুরী। পরে তিনি ভ্যাকসিন নেন। তিনি বলেন, ‘ওইদিন বিকেলে আমি ব্যাংক থেকে নেমে গাড়িতে ওঠার প্রস্তুতি নেই। এসময় হঠাৎ একটি কুকুর এসে কামড় বসিয়ে দেয়। তিনি বলেন, ওইদিন এলাকায় আরো পাঁচজন ব্যক্তি কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি বলেন, আমার বাসা কাজিটুলা এলাকায়। প্রতিদিন সকালে বের হবার সময় আট থেকে দশটি কুকুরের মুখোমুখি হতে হয়। এ অবস্থায় সিটি কর্পোরেশন দায় এড়াতে পারে না।’
নগরীর সোনারপাড়া এলাকার বাসিন্দা, লালদিঘীরপারস্থ মডেল হোমিও হলের কর্ণধার ডা. হেলাল আহমেদ বলেন, ‘প্রতিদিন ফজরের নামাজের সময় একদল কুকুরের কবলে পড়তে হয় আমার মতো অনেক মুসল্লিকে। এমনভাবে তারা চলাফেরা করে, যেন এখনই কামড় বসিয়ে দেবে।’ তিনি এব্যাপারে সিটি কর্পোরেশনকে একটা ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
মির্জাজাঙ্গাল এলাকার বাসিন্দা জুয়েল আহমদ জানান, সন্তানকে নিয়ে স্কুলে যেতে হয়। কিন্তু ঘর থেকে বের হলেই কুকুরের কবলে পড়তে হয় প্রতিদিন সকালে। প্রচন্ড ভয় হয়। সেই ভয় নিয়ে আসা-যাওয়া করতে হয়।
জিন্দাবাজার, জামতলা, মির্জাঁজাঙ্গাল, দাড়িয়াপাড়া. লামাবাজার, রিকাবীবাজার, তালতলা, আম্বরখানা, দরগা মহল্লা, মিরাবাজার, শিবগঞ্জ, কাজিটুলা, শাহীঈদগাহ, পাঠানটুলা, ওসমানী হাসপাতাল সড়কসহ আশপাশ এলাকায় কুকুরের সংখ্যা বেশি। প্রতিদিন রাতে এসকল এলাকায় কুকুরের দাপট দেখা যায়। জামতলা এলাকার বাসিন্দা ফ্রেন্ডস পাওয়ার ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রকি দেব বলেন, প্রতিদিন রাত বাড়ার সাথে, কুকুরের উৎপাত বেড়ে যায়। কাউকে একা পেলে কুকুরগুলো হাঁকডাক শুরু করে। অনেক সময় চলন্ত রিকসা কিংবা মোটরসাইকেল আরোহীদের উপরও চড়াও হয় কুকুর।’
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুর রহমান জানান, ‘২০১৬ সাল থেকে কুকুর নিধন বন্ধ রয়েছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে কুকুর নিধন করছেন না।’ তিনি বলেন, ‘প্রতিদিনই কুকুরের কামড় খেয়ে ভ্যাকসিন নিতে নগরীর শহীদ শামসুদ্দির হাসপাতালে আসছেন কেউ না কেউ। তিনি বলেন, সিলেট জেলার মধ্যে কুকুর কামড়ানো রোগীদের সরকারিভাবে ভ্যাকসিন দেওয়া হয় একমাত্র শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে। সেই হাসপাতালে সেপ্টেম্বর মাসে ৩৪৬ জন এবং অক্টোবর মাসে ৩৯৫ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। তিনি আরো বলেন. ‘এই হিসেবের বাইরেও রোগী রয়েছেন। কারণ সিটি কর্পোরেশনের ভেতর কেউ কামড় খেলে কাছাকাছি থাকায় হাসপাতালে আসলেও উপজেলা পর্যায়ের লোকজন আসেন না। সেই রোগীরা বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। যাদের সংখ্যা জানা নেই সিটি কর্পোরেশনের।’
এদিকে, নগরীতে কুকুরের উৎপাত বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, বিশিষ্ট আইনজীবী ইইউ শহীদুল ইসলাম শাহীন। তিনি বলেন, ‘নগরীতে বেড়েই চলেছে কুকুরের উৎপাত। বিভিন্ন বাজার ও রাস্তায় মানুষকে কামড়াচ্ছে কুকুর। তিনি বলেন, জীবজন্তুর প্রতি নির্মম আচরণ না করতে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছে সেটি ইতিবাচক। আর অন্যদিকে নেতিবাচক হচ্ছে কুকুর বৃদ্ধি পাওয়া। এক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশনকে প্রণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করে একটি উপায় খুঁজে বের করতে হবে।’
যোগাযোগ করা হলে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী জানান, এব্যাপারে উচ্চ আদালতের একটি নির্দেশনা রয়েছে। তবে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাথে আমি বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



