সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে আজমল হোসেন চৌধুরী নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো অন্তত ২০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
সোমবার (১৪ নভেম্বর) বেলা ১টার দিকে উপজেলার বিএডিসি মাঠে উপজেলায় আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়।এতে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ২০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আজমল হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আজমল হোসেন চৌধুরী উপজেলার কুলঞ্জ গ্রামের আব্দুল হান্নানের ছেলে ও দিরাই পৌরসভার সাবেক মেয়র মোশাররফ মিয়ার সমর্থক।
নিহতের নিকটাত্মীয় আওয়ামী লীগ কর্মী রহমত আলী এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘মামা আজমল হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে কর্মী সম্মেলনে আসেন তিনি। সংঘর্ষ চলাচালে আমরা দুজনেই ইটের ঢিলের আঘাতে আহত হই। মামাকে নিয়ে উপজেলা হাসপাতালে গেলে সেখানে তার অবস্থার অবনতি ঘটে। চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় বিকেলে তিনি মারা যান।’
এ দিকে আজমল হোসেন চৌধুরীকে নিজের সমর্থক দাবি করে উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক পৌর মেয়র মোশাররফ মিয়া বলেন, ‘সংঘর্ষের সময় তার সামনেই প্রতিপক্ষের ইটের আঘাতে আজমল আহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি মারা যান।
যদিও দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার বেলায়েত হোসেন বলেন, আজমল হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলমও বলেন, সংঘর্ষ চলাকালে নয়, বরং হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আজমল হোসেন মারা গেছেন। তবে নিহত যুবক আওয়ামী লীগের কর্মী কি-না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন দিরাই পৌরসভার সাবেক মেয়র মোশাররফ মিয়া, সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক কামরুল হাসান চৌধুরী, জেলা যুবলীগ নেতা আসাদুজ্জামান সেন্টু, জেলা মুক্তিযোদ্ধা যুব কমান্ডের সভাপতি কুবাদ আলী, পৌর কাউন্সিলর এবিএম মাসুম প্রদীপ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায় গ্রুপের নেতাকর্মীরা সম্মেলনস্থলে জড়ো হন। বেলা ১টার দিকে কেন্দ্রীয় নেতারা মঞ্চে পৌঁছানোর পরপর সাবেক পৌর মেয়র ও সভাপতি প্রার্থী মোশাররফ মিয়া বিপুল সমর্থক নিয়ে সমাবেশস্থলে আসেন।
এ সময় মোশাররফ মিয়া মঞ্চে উঠতে চাইলে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। দুই গ্রুপ বেপরোয়া ইট-পাথর ছুঁড়তে থাকলে সমাবেশস্থল রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। মঞ্চে থাকা আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, কেন্দ্রীয় সদস্য আজিজুস সামাদ ডন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান, সহ সভাপতি নোমান বখত পলিন, সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এনামুল কবীর ইমন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. জয়া সেনগুপ্তা,সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামীমা আক্তার খানমসহ নেতারা বসার চেয়ারকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আত্মরক্ষা করেন।
পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নেতাকর্মীদের বেষ্টনীতে মঞ্চ ত্যাগ করেন। আধঘন্টার মধ্যে পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিলে ফের সম্মেলন শুরু হয়। তবে সমাবেশ শেষে কমিটি ঘোষণা না করেই নেতারা ফিরে যান।
সভায় সভাপতিত্ব করেন দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সোহেল আহমদ ও পরিচালনায় ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায়।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত। তবে এ ঘটনায় একজন নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



