অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই সিলেট বিএনপির নেতা আ ফ ম কামালের মৃত্যু হয়েছে। দুর্বৃত্তরা তার দেহে ২৫টি ছুরিকাঘাত করেছে। এরমধ্যে বুকের বাম পাশের আঘাতটি বেশি গুরুতর। ওই একটি আঘাতই মৃত্যু নিশ্চিতের জন্য যথেষ্ট বলে জানিয়েছেন ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসকও।
আর তাকে যেভাবে হত্যার ধরণ দেখে পুলিশ আঁচ করতে পেরেছে ‘প্রশিক্ষিত’ খুনীরা মিশনে অংশ নেয়। খুনের মিশনে দুই মোটরসাইকেলে ৫ জন কিলিং মিশনে অংশ নেয় বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার রাত ৯টায় আফম কামাল প্রাইভেটকারে চালকের আসনে বসা ছিলেন।তাকে পেছন থেকে একটি মোটরসাইকেলে ৩ জন যুবক নজরদারি করে নিয়ে আসছিল।
ঘটনাস্থল সিলেট সিটি করপোরেশনের ৫নং ওয়ার্ডের বড়বাজার এলাকায় পৌছামাত্র সামন থেকে আসা দুই যুবক মোটরসাইকেল গাড়ির সামনে ফেলে দেয়। তাতে প্রাইভেট কারের গাতিরোধ করলে ড্রাইভিং সীটে বসা কামালের বুকে ও হাতে ছুরিকাঘাত করে।দুর্বুত্তরা গাড়ির এক পাশ আটকিয়ে পেছনের সীটে বসেও তাকে ছুরিকাঘাত করে, এমনটি ধারণা পুলিশের।
এসময় দুর্ঘটনা ভেবে প্রাইভেট কারের সামনে পড়া মোটরসাইকেলটি জনতার সহায়তায় তুলে নিয়ে দুর্বৃত্তরা ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়ে। প্রথমে লোকজন এটিকে দুর্ঘটনা মনে করলেও পরক্ষণে বুঝতে পারেন ঘটনাটি ছিল হত্যাকাণ্ড।
সোমবার (০৭ নভেম্বর) বেলা ২টার দিকে আফম কামালের ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়। এরপর মরদেহ স্বজনরা দাফনের জন্য গ্রামের বাড়ি সিলেট সদর উপজেলার জালালাবাদ থানাধীন আলীনগর পালপুরে নিয়ে যান।
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের অধ্যাপক ডা. সামসুল ইসলাম বলেন, নিহতের দেহে ২৫টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এরমধ্যে বুকের বাম পাশের ধারালো অস্ত্রের আঘাতটি ছিল গুরুতর।এই আঘাতটি হৃদপিন্ড ফুটো করে দেয়। এই একটি আঘাতই মৃত্যুর জন্য যথেষ্ট। এছাড়া বাম হাতে ও পায়ে অধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।
সিলেট মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ বলেন, ময়না তদন্তে আ ফ ম কামালের দেহে ২৫টি আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। এরমধ্যে বুকের বাম পাশের আঘাতটি গুরুতর ছিল।
এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মাইনুল জাকির বলেন, খুনীরা গাড়ির একপাশের দরজা আটকিয়ে রাখে।অন্যপাশ দিয়ে ঢুকে মিনিট খানেকের মধ্যেই হত্যাকান্ড সংগঠিত করেছে, এমনটি মনে হচ্ছে। আর গাড়ির সামনে পড়া মোটরসাইকেলটিও দুর্ঘটনাকবলিত ভেবে জনতার সহায়তায় তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
তিনি বলেন, ময়না তদন্ত শেষে সোমবার বেলা ২টার দিকে নিহতের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।তবে হত্যাকান্ডের ঘটনায় রাতেও মামলা হয়নি। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের পুলিশ সনাক্ত করতে পেরেছে পুলিশ। তাদের খুব দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
এদিকে, হত্যাকান্ডের ঘটনার পর রাতে নগরজুড়ে তান্ডবলীলা চালিয়েছে বিএনপি ও অংগসংগঠনের নেতাকর্মী-সমর্থকরা।তারা ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি রিকাবিবাজার এসে মহানগর আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভায় ভাঙচুর ও ব্যানার-ফেস্টুন ছিড়ে ফেলে। এসময় একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ ও প্রাইভেট কারে ভাঙচুর চালায়। তাৎক্ষনিক পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পরক্ষণে আওয়ামী লীগ ও অংগসংগঠনের নেতাকর্মীরাও রাস্তায় নেমে আসে।
তবে সোমবার রাত ১২টা পর্যন্ত এেই ঘটনায়ও মামলা হয়নি জানিয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলী মাহমুদ বলেন, বিএনপির তান্ডবের ঘটনায় রাতেই পৃথক দু’টি মামলা হতে পারে। এর একটি পুলিশ বাদি হয়ে এবং অন্যটি আওয়ামী লীগের তরফ থেকে করা হতে পারে।এছাড়া তান্ডবের ঘটনায় ৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
এদিকে, সোমবার বাদ এশা মরহুমের গ্রামের বাড়ি সদর উপজেলা আলী নগর গ্রামে জানাযার পর মরদেহ দাফন করা হয়। জানাযায় বিএনপির নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
নিহত আ ফ ম কামাল (৪২) সিলেট সদর উপজেলার জালালাবাদ থানাধীন আলীনগর পালপুরের মৃত বাদশা মিয়ার ছেলে ও নগরের বালুচর এলাকার বাসিন্দা। তিনি সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ও সিলেট আইন কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস ছিলেন। এক সময় তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য মিজানুর রহমান মিজানের অনুসারী ছিলেন।
রোববার রাত ৯ টার দিকে সিলেট-এয়ারপোর্ট সড়কের খাসদবির সংলগ্ন বড় বাজার সড়কে আ ফ ম কামালকে গাড়িতে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পুলিশের ধারণা আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব সংঘাতের কারণে কিংবা ব্যবসায়ীক বিরোধে খুন হতে পারেন আ ফ ম কামাল।
তবে বিএনপির নেতারা বলছেন, আ ফ ম কামালকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যার পেছনে সরকার দলীয় ‘সন্ত্রাসী’ নেতাকর্মীরা জড়িত রয়েছেন। অবিলম্বে তাদের গ্রেফতার দাবি জানান তারা।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



