বিএনপি নেতা কিলিং মিশনে ৫ যুবক
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
সিলেট: পরিকল্পিতভাবে দুর্ঘটনার রূপরেখা সাজিয়ে বিএনপি নেতা আফম কামালকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। আর কিলিং মিশনে অংশ নেয় ৫ যুবক। এই ঘটনায় এক বিএনপি এক নেতার জড়িত থাকার বিষয়টি সামনে রেখে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।
পুলিশ বলছে, খুনীরা হত্যাকান্ড সফল করতে পাতানো দুর্ঘটনা ফাঁদে ফেলে বিএনপি নেতা কামালকে। তার গাড়ির গতিরোধ করে হত্যাকাণ্ড ঘটায়।
সিলেট মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, নিহত বিএনপি নেতার সঙ্গে দ্বন্দ্বের কারণে হত্যাকান্ডের ঘটনাটি ঘটতে পারে।
যদিও তিনি ব্যবসায়িক বিরোধের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। এরপরও নেপথ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কেননা, এ ধরণের প্রিপ্লান (পূর্ব পরিকল্পনা) খুনীদের পেশাদারিত্বের প্রমাণ দেয়।
এছাড়া কোতোয়ালি থানায় কামালের বিরুদ্ধে ব্যবসায়িক টাকা পাওনা নিয়ে একটি মামলাও হয়েছিল। ওই মামলার ৪ নং আসামি ছিলেন আফম কামাল। তদন্তে ব্যবসায়িক বিরোধের জেরও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে পুলিশের উপ কমিশনার বলেন, আফম কামাল প্রাইভেটকারে চালকের আসনে ছিলেন। তাকে পেছন থেকে একটি মোটরসাইকেলে ৩জন যুবক নজরদারি করে নিয়ে আসছিল। ঘটনাস্থলে আসামাত্র সামনে থাকা যুবকদ্বয় মোটরসাইকেলটি গাড়ির সামনে ফেলে দেয়। তাতে প্রাইভেট কারের গাতিরোধ করলে ড্রাইভিং সীটে বসা কামালের বুকে ও হাতে ছুরিকাঘাত করে দুর্বৃত্তরা সটকে পড়ে। এরপর গিয়ারে পা পড়া অবস্থায় সীটে পড়েছিলেন কামাল। ফলে গাড়িটির সামনে থাকা মোটরসাইকেলটির উপরে উঠে যায়। প্রথমে লোকজন এটিকে দুর্ঘটনা মনে করলেও পরক্ষণে বুঝতে পারেন পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তখন ওই এলাকায় বিদ্যুৎ ছিলনা বলে জানান স্থানীয়রা।
এরপর স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের উপ কমিশনার আজবাহার আলী শেখ বলেন, কিলিং মিশনে ৫ জন অংশ নেয়।৩জন পেছন থেকে এবং ২ জন ছিল সামনের মোটরসাইকেলে। এরইমধ্যে সন্দেহভাজন হিসেবে একজনকে আটক করা হয়েছে। তাছাড়া নগরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। বাড়তি নিরাপত্তায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সিলেট মহানগর পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মোহাম্মদ মাইনুল জাকির বলেন, আ ফ ম কামাল নিজের প্রাইভেককারে চালানো অবস্থায় তাকে ছুরিকাঘাত করে খুন করা হয়েছে। আভ্যন্তরীণ বিরোধের জের ধরে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যদিও বিএনপির নেতারা বলছেন, আ ফ ম কামালকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।এই হত্যার পেছনে সরকার দলীয় ‘সন্ত্রাসী’নেতাকর্মীরা জড়িত রয়েছেন। কামালের মৃত্যুর খবর পেয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে জড়ো হন। খুনের ঘটনায় নেতকর্মীরা রাত পৌনে ১১টার দিকে নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল বের মহানগর আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভাস্থলে ভাঙচুর করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত কয়দিন আগে বিএনপির গণসমাবেশ নিয়ে নেতাকর্মীরা সিসিকের ৬নং ওয়ারড কাউন্সিলর ফরহাদ চৌধুরী শামীমের বাসায় বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে আফম কামালও ছিলেন। বৈঠক থেকে বিএনপির গণসমাবেশের বিষয় নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিলে বৈঠক অসমাপ্ত রেখে উঠে আসেন আ ফ ম কামালসহ কয়েকজন নেতাকর্মী বেরিয়ে আসেন। ওই ঘটনারও জের খুঁজছে পুলিশ।
এছাড়া আ ফ ম কামাল লাহিন এয়ার ইন্টারন্যাশনাল নামের রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে লোকজনকে বিদেশে পাঠানোর কাজেও জড়িত ছিলেন। সেখানে টাকা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধে এক ব্যক্তির ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত ছিলেন কামালও। এ ঘটনায় গত ২১ অক্টোবর আজিজুর রহমান সম্রাট নামে লামাকাজির এক ব্যক্তি কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার এজাহার নামীয় ৪নম্বর আসামি ছিলেন আ ফ ম কামাল। মামলায় এজাহারনামীয় ১০জনসহ অজ্ঞাত আরো ৫/৬ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। এই ঘটনার জেরে হত্যাকাণ্ড হয়েছে কি না তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



