প্রকৃতিকন্যা খ্যাত সিলেটের তোরণদ্বার ভোলাগঞ্জ। প্রকৃতির আপন খেয়ালে গড়া ওঠা সাদা পাথর পর্যটকদের আকর্ষনের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠছে।
নীল আকাশের নীচে সবুজ পাহাড়কে একিভুত করেছে সীমান্ত পাড়ের স্বচ্ছ জল–পাথরের বিছানা। অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা সাদা পাথরে বিমোহিত পর্যটকরা। দেশ–বিদেশ থেকে ছুটে আসা পর্যটকরা অবহেলিত সাদা পাথর পর্যটন কেন্দ্রে।
গত তিন বছরে লাখ লাখ পর্যটকের গমনাগমনে রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা। বিপরীতে পর্যটন কেন্দ্র পেয়েছে মাত্র একটি ওয়াশরুম।
কাগজে–কলমে চার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন অপেক্ষামান থাকলেও দৃশ্যত; এই পর্যটন শিল্পটি যেন অবহেলায় মোড়ানো।
পর্যটকদের মূল প্রবেশদ্বার ১০ নং এলাকায় গেলে অবহেলার চিত্র ফুটে ওঠে। সেখানে পর্যটকদের গাড়ি পার্কিংয়ের স্থানটি ভাঙ্গাচোরা। বড় বড় গর্ত থাকায় পর্যটকবাহী গাড়িগুলো সীমান্তের সংরক্ষিত এলাকায় পার্ক করা হচ্ছে। নো–ম্যান্স ল্যান্ডের ভেতরে কার পার্কিং থাকায় সার্বক্ষণিক ঝুঁকির মধ্যে থাকছে পর্যটকবাহী বাস ও মাইক্রোবাসসহ মোটরযানগুলো।
মূল স্পটের প্রবেশদ্বারে অবস্থিত অস্থায়ী পর্যটন হাটের সামনের অংশ দীর্ঘদিন ধরে ভাঙ্গাচোরা থাকায় পর্যটকদের যাতায়াতে ব্যাঘাত ঘটছে, তেমনী ক্ষতিরমুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরাও।
হাটের সামনের অংশটিতে গত এক বছরে কোনো মাটি পড়েনি। ব্যবসায়ীরা কয়েকবার ব্যক্তি উদ্যোগে মাটি ভরাট করলেও অল্প বৃষ্টিতে আবারও ভেঙ্গে যাচ্ছে। এ যাবত উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও মাটি ভরাটের জন্যে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
দিন যত গড়াচ্ছে মাটিক্ষয় ও ধস বাড়ছে। ধীরে ধীরে মাটি ধসে পড়া অংশটি ব্যাপক আকার ধারণ করায় পর্যটকদের চলাচলে ব্যাঘাত ও ব্যবসায়ীদের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
মূল স্পটে সুন্দর্য বৃদ্ধি পেলেও প্রবেশপথ সুন্দর্য হারাচ্ছে। ফলে সময়ের সাথে সাথে সাদা পাথরে পর্যটকরা আগ্রহ হারাচ্ছে। মাটি ধসে পড়া ও পর্যটকদের আনাগোনা কমে আসায় অনেক ব্যবসায়ী দোকানপাট গুটিয়ে নিয়েছেন।
উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্থায়ীভাবে মাটি ভরাটের জন্যে ব্যবসা খুলে মাসের পর মাস ক্ষতি গুনছেন ব্যবসায়ীরা।
রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী সফাত উল্লাহ বলেন, পর্যটন হাটের সামনে বড় বড় গর্ত। কার পার্কিয়ের স্থান নাই। যেখানে কার পার্কিং করতো সেখানে ভাঙ্গণ দেখা দিয়েছে।পর্যটকবাহী গাড়িগুলো নো ম্যান্স ল্যান্ডে গাড়ি পার্ক করছে। নিরাপদ কার পার্কিংয়ের স্থান না থাকায় অনেক পর্যটক নিজস্ব গাড়ি নিয়ে ফিরে যাচ্ছে। তাহলে পর্যটক আসবে কিভাবে?
এছাড়াও উপজেলা স্বাস্থ্য ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে ২০১৯ সালে ১৯ লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে নির্মিত ওয়াসরুম অনেকটাই পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে।
সাম্প্রতিক বন্যায় ওয়াশরুম সামনে থেকে মাটি সরে যাওয়ায় পর্যটকরা এখন আর এটাকে ব্যবহার করছে না। ওয়াসরুম থেকে প্রায় ৩শ’ গজ দূরে পর্দা দিয়ে স্থাপিত ভ্রাম্যমাণ ড্রেস পরিবর্তন কক্ষে পর্যটকরা ভেজা পোশাক পরিবর্তন করছেন। তবে সেখানে নেই কোনো টয়লেটের ব্যবস্থা। অসময়ে প্রকৃতির ডাকে সারা দিতে পর্যটকদের প্রায় কিলোমিটার দূরের নৌকা ঘাট এলাকায় ফিরে আসতে হয়।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একজন প্রসাধনী দোকানী জানান, সাদা পাথর পর্যটন হাটে পর্যটকরা নিরাপদে পণ্য কিনতে পারছে না। পা বাড়ালেই গর্তে পড়ার আশঙ্কা। গত এক বছরে ১০ নং পর্যটক হাটে প্রশাসনের কোনো নজর নেই। এখান থেকে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় হলেও সাদা পাথর পর্যটন কেন্দ্র অবহেলার শিকার। সামনে থেকে দেখলে মনে হবে এটা কোনো “বস্তি“। অথচ এই বছর সাদা পাথর নৌকা ঘাট ইজারা দিয়ে এই বছর ১ কোটি ১২ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে। গত বছরেও ১ কোটি ১০ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে। এর আগের বছরেও কোটি টাকা আয় হয়েছে। বিগত তিন বছরেও এখানে কত টাকার উন্নয়ন হয়েছে? শুনেছি প্রাপ্ত ইজারার ১০ শতাংশ টাকা নৌকা ঘাট ও এর আশেপাশের উন্নয়নে ব্যয় করার কথা। কিন্তু গত তিন বছরে কোনো উন্নয়ন হয়নি।
সিলেট থেকে আগত আব্দুল আলি নামের এক পর্যটক জানিয়েছেন, কার পার্কিং না থাকায় নো ম্যান্স ল্যান্ডে গাড়ি রেখেছি। সীমান্তে গাড়ি পার্কিয়ে ভয়ে ছিলাম। হাটের সামনে প্রচুর ভাঙ্গাচোরা অবস্থা এবং প্রচুর ধুলোবালি। ভাঙ্গাচোরা না থাকলে এখানেই গাড়ি পার্ক করে রাখতাম।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



