সিলেট বিভাগসহ দেশের কিছু অঞ্চলে বাড়ছে চোখ ওঠা রোগীর সংখ্যা। চোখ ওঠা ভাইরাসজনিত একটি রোগ।
এ রোগ হলে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্কতার অবলম্বন করার পরামর্শ দিচ্ছেন চক্ষু বিশেষজ্ঞরা।
চোখ ওঠলে কখনো কখনো এক চোখে অথবা দুই চোখেই জ্বালা করে এবং লাল হয়ে চোখ ফুলে যায়। চোখ জ্বলা, চুলকানি, খচখচে ভাব থাকা, চোখ থেকে পানি পড়া, চোখে বার বার সাদা ময়লা আসা, কিছু ক্ষেত্রে চোখে তীব্র ব্যথা এ রোগের অন্যতম প্রধান লক্ষণ।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে থেকে জানা যায়, সিলেটের বেশিরভাগ ঘরেই এখন চোখ ওঠা রোগী। হাসপাতালগুলোর বহির্বিভাগে বেড়েছে আক্রান্তের সংখ্যা। এছাড়াও সিলেটের কিছু অঞ্চলেও চোখ ওঠা রোগের প্রকোপ বাড়ছে।
আক্রান্তদের উল্লেখযোগ্য অংশই শিশু। সাধারণত এক সপ্তাহের মধ্যেই এই রোগ সেরে যায়। তবে জটিল রূপ ধারণ করলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
কনজাংটিভাইটিস রোগটি আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ থেকে ছড়ায়। রোগীর ব্যবহার্য বস্তু যেমন রুমাল, তোয়ালে, বালিশ, টিস্যু অন্যরা ব্যবহার করলে অন্যরাও এতে আক্রান্ত হয়। এছাড়া কনজাংটিভাইটিসের জন্য দায়ী ভাইরাস বাতাসের মাধ্যমেও ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির আশপাশে যারা থাকে, তারাও এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
চিকিৎসকরা বলছেন, গরমে আর বর্ষায় চোখ ওঠার প্রকোপ বাড়ে, চিকিৎসা বিজ্ঞানে এটিকে কনজাংটিভাইটিস বা কনজাংটিভার বলা হয়। তবে এ সমস্যাটি চোখ ওঠা নামেই বেশি পরিচিত। রোগটি ছোঁয়াচে ফলে দ্রুত অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
চোখের একেবারে বাইরের স্বচ্ছ অংশটির ডাক্তারি নাম ‘কনজাংকটিভা’। ভাইরাসের সংক্রমণে সেখানে তৈরি হয় প্রদাহ, ফুলে যায় চোখের ছোট ছোট রক্তনালি। ফুলে থাকা রক্তনালিগুলোর কারণেই চোখের রং লালচে হয়ে যায়, যেটাকে চোখ ওঠা বা ‘কনজাংকটিভাইটিস’ বলা হয়
সিলেটের বিভিন্ন উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষার্থীদেরও এ রোগে আক্রান্ত হতে দেখা গেছে। ব্যাপক হারে ‘চোখ ওঠা’ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় সিলেটজুড়ে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এতে উদ্বিগ্ন অনেক অভিভাবক সংক্রমিত হওয়ার ভয়ে তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন।
সিলেট নগরীর মাছিমপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল কাইয়ুম ছামি বলেন, ‘প্রথমে হালকা জ্বর ও সর্দিতে আক্রান্ত হই। পরদিন থেকেই চোখ জ্বালা পোড়া শুরু হয়। তিনদিন পর আমার কমলেও পরিবারের অন্যান্য সদস্যের মধ্যে ‘চোখ ওঠা’ রোগটি ছড়িয়ে পড়ে। একে একে সবাই আক্রান্ত হয়েছেন।’
এমএস (চক্ষু) আইসিও (লন্ডন), এফআরসিপি (গ্রাসগো), জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ খায়ের আহমেদ চোধুরী বলেন, এটি একটি সিজনাল ও ভাইরাসজনিত রোগ। মৌসুম পরিবর্তনের সময় এ রোগে আক্রান্ত হন অনেকে। প্রতিবছর দু’বার এমনকি তিনবারও এ রোগের সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। তবে এবার ব্যাপক হারে এ রোগে সংক্রমিত হচ্ছেন অনেকে। প্রতিদিনই আক্রান্তরা চিকিৎসা নিতে আসছেন। মানুষের সচেতনতার অভাবে এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।
তিনি বলেন, যদিও চোখ-ওঠা রোগটি অত্যন্ত সংক্রামক। তবে কারও চোখের দিকে তাকালেই সংক্রমিত হয় না। যদি কোনো সংক্রমিত রোগী চোখ স্পর্শ করে এবং সেই হাত ভালো করে সাবান দিয়ে ধৌত না করেই যদি কোনো কিছুতে স্পর্শ করে, তবে ভাইরাস ওই বস্তুতে চলে যায়। এখন যদি অন্য কেউ ওই বস্তু স্পর্শ করে এবং হাত না ধুয়ে চোখ স্পর্শ করে, তাহলে তার চোখও সংক্রমিত হবে। অন্যথায় সংক্রমিত ব্যক্তির সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বললে বা একসঙ্গে কাজ করলে তার থেকে সংক্রমিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কখনো কখনো চোখ-ওঠা রোগীদের সেকেন্ডারি ইনফেকশন থেকে রক্ষা করতে তাদের চিকিৎসার জন্য অ্যান্টিবায়োটিক ড্রপের প্রয়োজন হয়। তবে বেশিরভাগ রোগী বাড়িতে প্রাথমিক চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হয়ে যায়। সাধারণত এটি ৫-১০ দিনের মধ্যে কমে যায়।
তিনি আরো বলেন, এ রোগকে একেবারে হালকাভাবে নেয়া যাবে না। কখনো কখনো এটি চোখের কর্নিয়ায় ছড়ায়। এতে কর্নিয়ার আলসার এমনকি অন্ধত্বের দিকে চলে যেতে পারে। কর্নিয়ায় ‘ইনফেকশন’ হলে সুস্থ হতে দুই তিনমাস সময় লাগতে পারে।
চক্ষু বিশেষজ্ঞ আরো বলেন, স্কুলগামী শিশুদের এ রোগ দেখা দিলে অভিভাবকদের উচিত তাকে স্কুলে না পাঠিয়ে বাসায় রাখা। আর এসএসসি পরীক্ষার্থী কেউ আক্রান্ত হলে সে সর্বোচ্চ সতর্ক থেকে পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। কোনোভাবে যেন তার ব্যবহৃত কোনো খাতা-কলম অন্য পরীক্ষার্থীরা ব্যবহার করতে না পারে। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের সচেতনতাও জরুরি। এ রোগে আক্রান্তদের আমরা ঘরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছি। এটি সাধারণত ভাইরাস সংক্রমণের কারণে ঘটে, যা অত্যন্ত সংক্রামক। তবে এক সপ্তাহের মধ্যে বেশির ভাগ রোগী সুস্থ হয়ে ওঠে।
চোখ ওঠা রোগে করণীয়:
চোখ ওঠা ছোঁয়াচে রোগ। বাতাসের মাধ্যমেও ছড়াতে পারে, তবে সবচেয়ে বেশি ছড়ায় বার বার হাত চোখে দিলে। হাত সাবান দিয়ে ধুতে হবে। চোখের পানি সাবধানে টিস্যু দিয়ে মুছে নিতে হবে। ব্যবহার করা সেই টিস্যু সাবধানে নিরাপদ স্থানে ফেলতে হবে। যাতে করে রোগ না ছড়ায়।
চোখ ঘষা বা চুলকানো থেকে বিরত থাকতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শে আই ড্রপ ব্যবহার করা যেতে পারে। রোগীর ব্যবহার করা সামগ্রী অন্যদের ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। এক চোখে সমস্যা দেখা দিলে অন্য চোখকে সংক্রমণ থেকে নিরাপদে রাখতে হবে। সমস্যা এক সপ্তাহের মধ্যে না সারলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
নতুনসিলেট২৪ডটকম / এএ
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



