শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ সেন্টারের অধীনে ‘ল্যাংগুয়েজ লার্নিং এন্ড আদার মোটিভেশনস টু স্টাডি ইংলিশ লিটারেচার: এন এক্সপ্লোরেশন অব পাবলিক ইউনিভার্সিটিজ ইন বাংলাদেশ’ প্রজেক্টের অধীনে ‘ল্যাংগুয়েজ কোয়েশ্চন এবং বাংলাদেশি রাইটিং ইন ইংলিশ’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া আইআইসিটি ভবনের ভার্চুয়াল কনফারেন্স কক্ষে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
এতে রিসোর্স পার্সন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক এবং বর্তমান ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের ইংলিশ এবং হিউম্যানিটিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. কায়সার হক।
প্রজেক্টটির চীফ ইনভেস্টিগেটর হিসেবে ছিলেন ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এবং কো-ইনভেস্টিগেটর হিসেবে ছিলেন ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসনিয়া মিজান চৌধুরী।
অধ্যাপক কায়সার হক বাংলাদেশে ইংরেজি ভাষার অবস্থান, এর প্রয়োগ, এবং এ ভাষায় লিখিত সাহিত্য বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। শুরুতেই তিনি সেমিনারের আয়োজক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ও তাসনিয়া মিজান চৌধুরীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তারপর, নির্ধারিত বিষয়ের অবতারণা করতে গিয়ে তিনি বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তারপর, নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মাধ্যমে দেশের এগিয়ে যাওয়া এবং তার সাথে ভাষার সংশ্লিষ্টতা তুলে ধরেন। ইংরেজি ভাষার অবস্থান বিষয়ে রাষ্ট্রীয় কোন নির্দেশনা না থাকায়, এ ভাষার ব্যাবহার বা এ ভাষায় সাহিত্য চর্চার বিষয়টি রাষ্ট্রীয় কোন স্বীকৃতি পায়না বলে তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন।
অধ্যাপক কায়সার হকের বক্তবের দ্বিতীয় অংশে বাংলাদেশে ইংরেজি ভাষায় লিখিত সাহিত্য বিষয় নিয়ে কথা বলেন। তার মতে যদিও ইংরেজি ভাষায় রচিত সাহিত্য দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের থেকে বেশ পিছিয়ে, গত বেশ কয়েক বছর ধরে এ ধারাটির প্রসার ঘটছে। অনেক লেখক ও কবি নিয়মিত প্রকাশ করছেন এবং তাদের কেউ কেউ বৈশ্বিক পাঠক-সমাজ তথা সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সহকারী অধ্যাপক তাসনিয়া মিজান চৌধুরী অধ্যাপক কায়সার হকের সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরেন, যেখানে কবি ও অধ্যাপক হকের জীবন বৃত্তান্ত, তার লেখালেখি, তার কর্মজীবন, তার প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ প্রাধান্য পায়।
এরপর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম সবাইকে স্বাগত জানিয়ে তার বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তিনি অধ্যাপক কায়সার হককে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন তার অনুরোধে শাবিপ্রবিতে আসার জন্য এবং ইংরেজি বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীদেরকে তাকে দেখা এবং তার কথা শোনার সুযোগ করে দেবার জন্যে। তিনি বলেন কায়সার হক বাংলাদেশের ইংরেজি কবিদের মধ্যে প্রধান এবং আন্তর্জাতিকভাবে পঠিত এবং সমাদৃত। তার কবিতায় যেমন দেশীয় সংস্কৃতি ও বাস্তবতা ফুটে উঠে তেমনি বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট প্রকটভাবে ধরা পড়ে।
কায়সার হক তার আলোচনা শুরু করার আগে তার বিখ্যাত কবিতা “ওড অন দ্যা লুঙ্গী” আবৃত্তি করেন ইংরেজি বিভাগের স্নাতোকোত্তর দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী কথা অনামিকা। সেমিনারে অধ্যাপক কায়সার হকের জীবন, তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ, তার কবিতার বিখ্যাত পংক্তি এবং অন্যতম কিছু কবিতা ভার্চুয়ালি প্রদর্শন করা হয়।
এসময় ইংরেজি বিভাগের শিক্ষকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. হোসেন আল মামুন, অধ্যাপক ড. হিমাদ্রী শেখর রায়, অধ্যাপক শরীফা ইয়াসমিন, অধ্যাপক মো. সিকান্দার আলী, সহযোগী অধ্যাপক সাঈফ আহমেদ, সহকারী অধ্যাপক পান্না মজুমদার, রোকেয়া বেগম, শাহেলী পারভিন দীপা, শাহরিন ফেরদৌস, আবু হেনা পহিল, মাহবুবা রহমান, ও খাদিজাতুল কোবরা উর্মি। সেমিনারে আরো উপস্থিত ছিলেন বিভাগের সাবেক এবং বর্তমান বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীবৃন্দ।
উল্লেখ্য, কায়সার হকের কবিতা দেশ ও দেশের বাইরের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্যসূচীতে অন্তর্ভূক্ত। শাবিপ্রবির ইংরেজি বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীরাও তার কবিতা পড়ে বিধায় তারা কবিকে সরাসরি দেখতে পেয়ে এবং তার কথা শুনতে পেরে খুবই উচ্ছ্বসিত ছিল।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



