দেশে আজ মানুষের আজ ভোটের অধিকার নেই। ভোট ডাকাতির সরকার এ অধিকার কেড়ে নিয়েছে। দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ছাড়া আর কোনো পথ নেই। দেশের মানুষের ভোটের অধিকার না ফেরানো পর্যন্ত বিএনপি মাঠ ছাড়বে না, আন্দোলন চালিয়ে যাবে এবং পূণ্যভূমি সিলেট থেকে বিএনপির সরকার পতন আন্দোলন শুরু হবে।
শনিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সিলেট নগরীর রেজিস্টারি মাঠে আয়োজিত জেলা যুবদলের সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। সম্মেলনে যুক্তরাজ্য থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি নেতৃবৃন্দের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং পরবর্তীতে মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে নেতাকর্মীদের আন্দোলন জোরদারের নির্দেশ দেন।
সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বিএনপির আন্দোলনে জনতার জোয়ার দেখে সরকারের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। তাদের পায়ের তলার মাটি নেই। তাই তারা বিদেশে গিয়ে ক্ষমতায় ঠিকে থাকার জন্য ধর্না দিচ্ছে।
তিনি বলেন, সিলেট হচ্ছে গুনীজনের স্মৃতি বিজড়িত পূণ্যভুমি। এই মাটির উন্নয়ন করেছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন মরহুম রিয়াল এডমিরাল মাহবুব আলী খান, মরহুম এম সাইফুর রহমান, গুম নামক কারাগারে আটক জননেতা এম ইলিয়াস আলী। তাই বিএনপি আন্দোলন সিলেট থেকে সরকার পতন শুরু হবে।
মির্জা আব্বাস বলেন, আমাদের নেতাকর্মীদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে গুলীবর্ষণ করে ৩ জন ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। যুদ্ধে ব্যবহৃত চায়নিজ স্নাইপার রাইফেল দিয়ে নারায়নগঞ্জে যুবদল নেতা শাওন প্রধানকে হত্যা করা হয়েছে। এর সকল জবাব কড়ায় গন্ডায় দিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, যুবদলের সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচিত নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য সিলেট থেকে আন্দোলনের নবযুগের সুচনা হবে। সিলেট থেকে সুচিত আন্দোলনেই ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হবে।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা তাহসিনা রুশদী লুনা, ড. এনামুল হক, বিএনপির সহ-ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক, বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্ঠা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, কেন্দ্রীয় সদস্য ও সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সদস্য আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী। এছাড়া প্রধান বক্তা র বক্তব্য রাখেন যুবদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোনায়েম মুন্না, বিশেষ বক্তার বক্তব্য রাখেন যুবদলের কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি মামুন হাসান।
এর শনিবার সকালে সম্মেলনের শুরুতে সিলেট জেলা যুবদলের আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান পাপলুররে সভাপতিত্বে যুবদলের বর্তমান কমিটির সদস্য সচিব মকসুদ আহমদ, সিনিয়র সদস্য লিটন আহমদ ও নেছার আহমদ যৌথ পরিচালনায় যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এসময় দোয়া পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ১ নভেম্বর জেলা ও মহানগর যুবদলে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র। জেলায় ২৯ সদস্যবিশিষ্ট এবং মহানগরে ২৭ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি দেওয়া হয়।শনিবার দুই অধিবেশনের মধ্য দিয়ে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম অধিবেশনে বিএনপি ও যুবদলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন। দ্বিতীয় অধিবেশনে হচ্ছে কাউন্সিলরদের ভোটগ্রহণ। সিলেটের ১৩টি উপজেলা ও ৫টি পৌরসভা থেকে আগত কাউন্সিলররা ভোট দিয়ে জেলা যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করবেন।
সভাপতি পদে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সাঈদ আহমদ, জেলা যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মুমিনুল ইসলাম মুমিন, জেলা যুবদলের বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সাহেদ আহমদ চমন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মকসুদ আহমদ, জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান নেছার ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক লিটন আহমদ প্রার্থী হয়েছেন।
এদিকে, সম্মেলন ঘিরে যুবদল নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। শনিবার সকাল থেকেই শত শত নেতা-কর্মী মিছিল সহকারে নগরের রেজিস্ট্রারী মাঠে সম্মেলনস্থলে এসে হাজির হন। নেতা-কর্মীদের মিছিল, স্লোগানে সম্মেলনস্থলে উৎসবমুখর করে তোলেন।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



