উদ্বোধনের আগেই প্রায় দেড়শ কোটি টাকা ব্যয়ে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর উপর নব র্নিমিত সেতুটির অ্যাপ্রোচে ধস দেখা দিয়েছে।
ইতোমধ্যে সেতুর সকল কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন লাইটিং ও সৌন্দর্য্য বর্ধনের কাজ চলছে। কিছু দিনের মধ্যেই উদ্বোধন করা করা কথা। এ অবস্থায় অ্যাপ্রোচে ধসের কারণে পিছিয়ে যেতে পারে উদ্বোধন। আর এ কারণে সেতুটির কাজের নিম্নমান নিয়ে জনমনে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
সিলেট বিভাগের সবচেয়ে বড় এই সেতুটি যখন উদ্বোধনের দিনক্ষন ঘনিয়ে আসছে, ঠিক তখনই সেতুটির উত্তর প্রান্তে বিভিন্ন স্হানে অ্যাপ্রোচ সড়কটি ধ্বসে যায়। আবার কোন কোন স্থান দেবে যাচ্ছে।
শনিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে দেখা যায়, উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা সিলেট বিভাগের সবচেয়ে বড় এই সেতুটির অ্যপ্রোচে বড় ধস দেখা দিয়েছে। কিন্তু যান চলাচলের আগেই সেতুর সংযোগ সড়কে ধস দেখা দেয়ায় এখন বৃহৎ এই সেতুর কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সুনামগঞ্জ জেলা ও নিকটবর্তী সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রতিদিন সেতুটি দেখতে আসা অনেকেই জানান, কাজের সঠিক তদারকি না থাকায় অ্যাপ্রোচ সড়কের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নিম্ন মানের কাজ করেছে। যে কারণে যানবাহন চলাচলের আগেই অ্যাপ্রোচ সড়কটিতে ধস দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এমএম বিল্ডার্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড ২০১৮ সালে প্রায় দেড়শ কোটি টাকা ব্যয়ে কুশিয়ারা নদীর উপর রাণীগঞ্জ সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়।
আর সেতুটির সংযোগ সড়ক তথা অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ পায় তমা কন্সট্রাকশন নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সেতুটির অ্যাপ্রোচ সড়ক ধসে গেলেও ইতোমধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজের সকল টাকা উত্তোলন করে নিয়েছে বলে জানা গেছে।
সেতুটি উদ্বোধনের পূর্বেই অ্যাপ্রোচ সড়কটির বিভিন্ন স্হানে ধসে পড়ছে। ধসে পড়া অ্যাপ্রোচ সড়কটি এখন মেরামতের কোনও উদ্যৌগ নেয় নি সড়ক ও জনপথ বিভাগ।
জগন্নাথপুর উপজেলার রাণীগঞ্জের এই সেতুটিতে গাড়ী চলাচল শুরু হলে ঢাকার সাথে প্রায় দেড় ঘন্টার দূরত্ব কমে যাবে। এই সেতু চালু হওয়ার জন্য অপেক্ষার প্রহর গুণছেন সুনামগঞ্জের বাসিন্দারা।
রানীগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা আবদুল কুদ্দুস মিয়া বলেন, আমাদের অনেক দিনের স্বপ্ন রাণীগঞ্জ সেতুটি নিমার্ণ হলে জগন্নাথপুর উপজেলা আরও উন্নত হবে। এখানে অ্যাপ্রোচে নিম্নমানের কাজ হয়েছে। তাই অ্যাপ্রোচ ধসে গেছ।
কাজের তদারকিতে থাকা সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) মাসুম আহমদ জানান, ধসে যাওয়া অ্যাপ্রোচ সড়কটি মেরামতের জন্য গত ৬ সেপ্টেম্বর তমা কনস্ট্রাকশনকে ই- মেইল পাঠানো হয়েছে। উদ্বোধনের আগেই রাস্তাটি মেরামত করা হবে। তবে নিম্ন মানের কাজের অভিযোগ রয়েছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন।
অ্যাপ্রোচে ধসের ব্যাপারে জানতে চাইলে সুনামগঞ্জ জেলা জনপদের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম প্রাং কে একাধিক বার মুঠোফোনে ফোন করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



