রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকা থেকে জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান গোলাম মুহাম্মদ (জিএম) কাদেরের মোবাইল ফোন (আইফোন) ছিনতাইয়ের ঘটনা সন্দেহভাজন এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কিন্তু ছিনতাইয়ের ঘটনার পাঁচ দিনেও ছিনতাই করা মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
পুলিশ বলছে, সন্দেহভাজন এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। ফোনটি উদ্ধারে চেষ্টা চলছে। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে। সেই সঙ্গে ছিনতাইকারী/টানাপার্টির সদস্যদের শনাক্তে প্রযুক্তিগত সহায়তা ছাড়াও ম্যানুয়ালি পদ্ধতিতে তদন্ত করছে পুলিশ। হয়তো খুব শিগগিরি ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা সম্ভব হবে।
বিমানবন্দর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আসলাম উদ্দিন মোল্লা বলেন, ছিনতাইয়ের ঘটনায় আমরা একটি মামলা নিয়েছি। তদন্ত চলমান রয়েছে। ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোনটি উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে। যদিও সন্দেহভাজন এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে এখনই তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করা যাচ্ছে না।
এদিকে বিমানবন্দর থানার একাধিক কর্মকর্তা জানান, মোবাইল ফোন ছিনতাই হলে সেটি উদ্ধার করা সম্ভব। অনেক ক্ষেত্রে ছিনতাইকারীরা মোবাইল ফোন বন্ধ রাখে। এতে লোকেশন জানতে কিছুটা কষ্ট হয়। যদি মোবাইল ফোনটি দেশে সীমানার ভেতরে থাকে তবে ম্যানুয়ালি অনুসন্ধান করেও তা উদ্ধার করা সম্ভব। সে ক্ষেত্রে তদন্তে কিছুটা সময় বেশি লেগে যায়।
এর আগে, গত ৩১ আগস্ট রাত ১১টার দিকে উত্তরার বাসায় যাচ্ছিলেন জাপা চেয়ারম্যান গোলাম মুহাম্মদ (জিএম) কাদের। পথে বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের সামনে যানজটে পড়ে তাকে বহনকারী ব্যক্তিগত গাড়িটি। গাড়ির এসি কাজ না করায় জানালার গ্লাস খুলে রাখেন তিনি। ওই সময় তিনি ফোনে কথা বলছিলেন। এমন সময় গাড়ির খোলা জানালার ভেতরে হাত ঢুকিয়ে জিএম কাদের হাতে থাকা আইফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
ওই সময় ছিনতাইকারীকে ধরতে তার গাড়ি চালক নেমে গিয়ে পিছু নেয়। কিন্তু প্রচণ্ড যানজটে গাড়ির ভিড়ে ছিনতাইকারী পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় জিএম কাদেরের সহকারী মো. আবু তৈয়ব বাদী হয়ে রাজধানীর বিমানবন্দর থানায় একটি ছিনতাই সংক্রান্ত মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে জাপার চেয়ারম্যান জিএম কাদের জানান, ছিনতাইয়ের পরপরই তার গাড়িচালক ছিনতাইকারীর পিছু নিয়েও ধরতে পারেনি। ছিনতাইকারী পালিয়ে যায়।
ঠিক একই কায়দায় ২০২১ সালের ৩০ মে সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিজয় সরণী এলাকায় পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের মোবাইল ছিনতাই হয়েছিল। তবে ছিনতাইয়ের ঘটনার ১ মাস ১৮ দিন পরে মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
ঘটনার দিন মন্ত্রী পরিকল্পনা কমিশন থেকে বের হয়ে বিজয় সরণী এলাকা অতিক্রম করার সময় তার গাড়িটি সিগন্যালে অপেক্ষা করছিল। এ সময় গাড়ির এসি বন্ধ করে পেছনের সিটে একটি জানালার কাঁচ নামিয়ে দেন মন্ত্রী। তখন তিনি মোবাইল ব্রাউজিং করছিলেন। এরই মধ্যে বাইরে থেকে এক যুবক গাড়ির জানালার ভেতরে হাত গলিয়ে মুহূর্তের মধ্যে মন্ত্রীর হাতে থাকা মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই ওই ছিনতাইকারী হাওয়া হয়ে যায়।
কাফরুল থানায় দায়ের করা মামলার তদন্ত করছিল পুলিশ। তবে ধানমন্ডি থানা এলাকায় ছিনতাইয়ের অন্য একটি মামলা তদন্তকালে সড়কের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে বেশকিছু মোবাইল ফোন উদ্ধারসহ পাঁচ ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের ধানমন্ডি থানা পুলিশ। এই চক্রের কাছ থেকে পরিকল্পনামন্ত্রীর ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করে পুলিশ।
রাজধানীতে ছিনতাই/টানাপার্টির দৌরাত্ম বেড়েই চলছে। রাজধানীর বিমানবন্দর মোড় থেকে উত্তরা আব্দুল্লাহপুর ও টঙ্গী এলাকায় বাস, প্রাইভেট কারসহ বিভিন্ন যানবাহনে থাকা যাত্রী ও সড়কের চলাচলকারী পথচারীরা ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন। রাজধানীর অন্যান্য এলাকায়ও মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন যাত্রী-পথচারীরা।
এবিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরর বিভিন্ন অভিযানে অসংখ্য ছিনতাইকারী গ্রেফতার হলেও ছিনতাইয়ের ঘটনা রাজধানীতে ঘটছেই।
নতুনসিলেট২৪ডটকম / এএ
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



