নারী-শিশু নির্যাতন কিংবা যৌতুকের মতো সেন্সেটিভ মামলা না নিয়ে আপোষ করলে সবার আগে ওসির চাকরী থাকবেনা বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন নবাগত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন।
তিনি বলেন, মানুষ বিপদে পড়লে মহান সৃষ্টিকর্তার পর যে পেশার লোকজনকে স্মরণ করে, সেটা হলো পুলিশ। যারা অর্থবিত্তের মালিক, ক্ষমতাবান, তাদের পুলিশকে দরকার হয় কম। যারা প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষ, জুলুম নির্যাতনের শিকার। তাদের ভরসার জায়গা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) বেলা ২টায় সিলেটে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন নবাগত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল-মামুন।
তিনি বলেন-এখানে কিছুদিনের দায়িত্ব নিয়ে এসেছি। কাজের স্বার্থে হয়তো অনেকের সঙ্গে ব্যক্তিগত ভালো সম্পর্ক তৈরি হবে। কিন্তু পেশাগত সম্পর্কটাই আমার কাছে প্রাধান্য পাবে।
তিনি বলেন, সিলেটে যোগদানের পর থানাগুলোর একদিনের আইনশৃঙ্খলা পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, যে পরিমাণ জিডি ও মামলা হওয়ার কথা, এরচেয়ে অনেক কম। তখন সহকর্মীদের বললাম, ‘এটা হতে পারে, সিলেটের অপরাধ কম, নয়তো তোমরা মামলা নেও না। কারণ মানুষ চিন্তা করে থানায় গিয়ে লাভ কি, মামলা না নিয়ে আপোষে পাঠিয়ে দেবে। তাই হয়তো মানুষজন মামলায় যায় না। তাই মামলা-জিডির বিষয়ে আর্থিক লেনদেন চলবে না। আমি যদি শুনি কোনো ওসি মামলা নেননি কিংবা নারী-শিশু বিষয়ক মামলা সালিশ করতে দিয়েছেন, তাহলে সবার আগে ওসি থাকবেন না।
কেননা, কোনো নির্যাতিত লোক থানায় এসে আইনী সহযোগীতা পাবে না। সেন্সেটিভ মামলা আপোষ করে দেবেন। মাতবররা টাকা ভাগাভাগি করে খাবে, তাহলে আমি থেকে লাভ কি? কোনো ওসি নারী-শিশু নির্যাতন, যৌতুকের ঘটনার মতো সেন্সেটিভ মামলা না নিয়ে আপোষ করতে দেবেন, তাহলে সরকারের এক্সিস্টিং পাওয়ার কি জন্য রয়েছে। আমাকে কেনো এই পোষাক, অফিস দেওয়া হয়েছে? যদি ভাই-ভাই ঝগড়া করবে, সেটা সামাজিকভাবে নিরসন আলাদা বিষয়। কিন্তু সেন্সেটিভ কোনো ঘটনার বিষয়ে আপোষ নয়।
নবাগত এসপি বলেন, সিরিয়াস ক্রাইম যেগুলো, সেগুলোর ক্ষেত্রে রেকর্ড করতে গিয়ে হয়রানীর শিকারের ব্যবসা অন্তত আমি থাকতে হতে দেবো না। এ ধরণের কোনো তথ্য থাকলে দিয়ে সহযোগীতা করবেন। বিশেষ করে পুলিশ একটি অর্গানাইজেশন। তাই ব্যক্তি পুলিশ সদস্যের অপরাধের জন্য সংস্থাকে দায়ি না করারও অনুরোধ জানান তিনি। আর মাদকের সঙ্গে কোনো পুলিশকে সংশ্লিষ্টতা পেলে সোজা বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
তবে ব্যক্তি আক্রোস থেকে কোনো রিপোর্ট না করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, আমি সিলেট জেলার ১৮০০ পুলিশ সদস্যের পরিবারের অভিভাবক। এই বিশাল পরিবারের কোনো সদস্যের কোনো অসঙ্গতি আপনাদের কাছে ধরা পড়লে আগে আমাকে জানানোর অনুরোধ করছি। আমি আমার চ্যানেলে তদন্ত করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করবো। যদি আমি কোনো ব্যবস্থা না নেই তবে রিপোর্টের দিকে যাবেন।
তিনি বলেন- আমার পরম সৌভাগ্য যে, আমাকে সিলেটের এসপি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমি নিজে থেকে আগ্রহ দেখিয়ে সিলেটে আসার চেষ্টা করেনি। আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মনে করেছেন- আমাকে সিলেটে বেশি দরকার, তাই আমাকে সিলেটে পদায়ন করা হয়েছে। তাই আমি কেমন পুলিশ চাই সেটা নয়, বরং সিলেটের মানুষ কেমন পুলিশ চায়, সেটাই প্রধান্য দেবো।
পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, আগের কর্মস্থলও ছিল প্রবাসী অধ্যুষিত। এখন আরো বিশাল প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকায় এসেছি। এখানেও ২৪ ঘন্টা প্রবাসীদের জন্য সেল খোলা হবে। আর পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের বিষয়েও ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালু করা হবে, যাতে মানুষ বিনা পয়সায় সেবা পায়। আর পুলিশের নিয়োগের বিষয়েও স্বচ্ছতার প্রমাণ আগের কর্মস্থলেও দেখিয়ে এসেছি, এখানেও দেখাবেন। বিশেষ করে উন্নত দেশের পুলিশ তৈরী করতে এখন থেকেই চৌকুশ ও মেধাবী পুলিশ তৈরী করতে হবে।
তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে বলেন, তারা জাতির সম্পদ। আজকের এই বাংলাদেশ এনে দিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধারা। তাদের সাহসিকতা ও প্রাণের বিনিময়ে এই দেশ স্বাধীন হয়েছে। তাছাড়া আরো কয় বছর পর মুক্তিযোদ্ধাদের খোঁজে পাওয়া যাবে না। তাই তাদের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। তাই মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়েও বসতে চান তিনি।
তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, সাংবাদিক সংগঠনের মধ্যে অনেক মতভেদ ও বিরোধ থাকতে পারে। সেখানে এসপিকে না টানার অনুরোধ করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় সিলেটে কর্মরত প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক্স ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



