সমাজে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সংখ্যাই বেশি। তাদের অনেকে নানা সংকটে দিনাতিপাত করলেও লোক লজ্জায় নিভৃতে থাকেন। সেইসব সুবিধাবঞ্চিতদের কল্যাণে কাজ করার মত মানসিকতা নিয়ে বেড়ে ওঠা মানুষের সংখ্যাও অগনিত। পরিবেশ, পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সমাজকে এগিয়ে নিতে অনেকেই নিরবে নিভৃতে কাজ করে যাচ্ছেন। সমাজ উন্নয়নে তরুণদের সঙ্গে মানবিক কাজে পিছিয়ে নেই তরুণীরাও।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে সুবিধা বঞ্চিতদের কথা জানা যায় অবলীলায়। নেট দুনিয়ার কারণে মানবিক মানুষগুলোও সহযোগীতার হাত প্রসারিত করে দিতে পাশে দাঁড়ান। আর মানবিক মানুষের দৌড়ে কেবল পুরুষ নয়, অগ্রসর নারীরা। ‘বিশ্বে যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর,/অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর’- কবি নজরুলের এ কথার সার্থকতা প্রমাণ করতেই যেন কাজ করে চলেছেন নারীরা। তাদেরই একজন সমাজসেবী আঞ্জুমান জারা।
‘ও নেগেটিভ র’ক্ত দিতে চাই, বিনিময়ে প্রেসক্রিপশন এর ওষুধ কিনে দেবেন, আর কিছু বাজার। চাকরি হারা ছোট বাবু, বউ নিয়ে অনেক সমস্যায় আছি, যত রক্ত লাগে নিতে পারেন, বাবুর জন্য আর তার মায়ের ওষুধ, আমাকে সাহায্য করেন, রক্ত লাগবে নেন, ঢাকা,উত্তরখান, মাজারের পাশে’।
এমন আকুতি শুনে বসে থাকা মানুষের সংখ্যা এই প্রজন্মেও খুবই কম। অন্তত সহযোগীতা নিয়ে কেই পাশে না দাঁড়ালেও আক্ষেপ করবে, ঠিকই। এই পোষ্ট দেখে বসে থাকতে পারেননি আঞ্জুমান জারা । সেই অসহায় বাবাকে ১ মাসের সম্পুর্ণ বাজার ও বাচ্চা এবং মায়ের এক মাসের ওষুধ কিনে দিয়েছে,মানবিক এক নারী।
মাথায় হিজাব ও মুখে মাস্ক পরা চেহারা টা মানুষের কাছে পরিচিত হলেও খুবই অল্প সংখ্যক মানুষ তার চেহারা দেখেছে, বলছি জারা’স এর আঞ্জুমান জারার কথা।
‘জারা’স’ এই নামটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউব ব্যবহারকারীদের কাছে খুবই পরিচিত। মানবিক সহায়তা করার জন্যই ‘জারা’স’ নামকে বেছে নিয়েছেন তিনি।
সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ভিডিও কন্টেন্ট তৈরি করে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে মানুষের বিবেগকে জাগ্রত করাই তার মূল উদ্দেশ্য। যার শুরু টা ছিলো ২০২১ সালের নভেম্বর থেকেই সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে পথচলা শুরু।
আঞ্জুমান জারা বলেন, ‘কাজটি যখন শুরু করি তখন পরিবার এবং আশপাশে যারা আছে সবাই বিষয়টি ভালোভাবেই নিয়েছে এবং আরও বেশি সহযোগিতা করার জন্য আমাকে উৎসাহিত করেছে। আমার ভিডিও তৈরির প্রধান উদ্দেশ্যই হলো মানবিক কাজে মানুষকে উৎসাহিত করা। তখন থেকেই জারা’স বাংলাদেশের যাত্রা শুরু। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে গ্রুপের সদস্য। এগিয়ে যেতে থাকে সংগঠনটি।
২০২১ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত নানা সমাজসেবামূলক কাজ করেছে জারা’স। যারমধ্যে উল্লেখযোগ্য- সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশাপাশি ,সীতাকুন্ডে অগ্নিকান্ডের সময় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসা লোকজনের খাবারের ব্যবস্থা করেন।সিলেটে বন্যার্তদের পাশে ছিলেন।নেত্রকোনায় বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ান। অসহায় মানুষদের সহযোগিতা করতে গিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতেও পড়তে হয়েছে জারা’স’ এর মালিক এবং প্রতিষ্ঠাতাকে।
জারার ভাষ্য মতে, কিছু মানুষ তাকে নানা ধরনের কথাবার্তা বলে। মেয়ে বলে তাকে ছোট করে দেখে। ইনবক্সে খারা’প এসএমএসসহ নানা ধরনের সমস্যার মুখামুখি হয়েছেন।সব কিছু পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে জারা’স।
সংগঠনটি ঢাকা, চট্টগ্রাম,রাজশাহী, খুলনা বরিশাল সিলেট রংপুর ময়মনসিংহ প্রভৃতি জেলায় সমাজসেবামূলক কাজগুলো করছে।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



