চা শ্রমিকদের মজুরি ৫০ টাকা বাড়িয়ে ১৭০টাকা করাসহ বিভিন্ন সুযোগ সৃবিধা বৃদ্ধিতে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী হস্তক্ষেপ করে তা সমাধান করে দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীর জন্য ফুল ও চায়ের কুঁড়ি হাতে নিয়ে আনন্দ মিছিল করেছেন মৌলভীবাজারের হাজারো চা শ্রমিক।
ররিববার বিকেল সাড়ে ৪টায় শ্রীমঙ্গল ভাড়াউড়া চা বাগান থেকে বিশাল একটি আনন্দ মিছিল নিয়ে হাজারো শ্রমিক জড়ো হন শ্রীমঙ্গলস্থ বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে।
এদিকে লেবার হাউসের ভিতরে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে যে প্রেস কনফারেন্স করার কথা ছিলো। তা করা হয় লেবার হাউসের সামনে ঢাকা-মৌলভীবাজার সড়কে।
বিকেল সাড়ে ৫টায় চা শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজরা বক্তব্য রাখেন।
এ সময় তিনি বলেন, জননেত্রী দেশের প্রায় ১০ লাখ চা জনগোষ্টীর অভিভাবক। তিনি চা শ্রমিকদের দু:খ দুর্দশার কথা জানেন। মালিক পক্ষ যখন আমাদের দাবী মানেন নি তখন প্রধানমন্ত্রী নিজে হস্তক্ষেপ করে সমাধান করে দিয়েছেন। আমাদের ১২০ টাকা থেকে ১৭০ টাকা করে দিয়েছেন।
অনান্য সুযোগ সুবিধাও বাড়িয়ে দিয়েছেন এ জন্য আজ আমরা চা পাতার কুঁড়ি ফুল হাতে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে আনন্দ মিছিল করেছি। তিনি দেশের সকল চা শ্রমিকদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাকন লাল কর্মকার, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল, কোষাধ্যক্ষ পরেশ কালিন্দিসহ অনান্য নেতারা।
বক্তব্য শেষে নানা বাদ্যযন্ত্রেও তালে তালে লোবার হাউসের সামনেই আনন্দ উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেন শ্রমিকরা। পরে মিছিলটি পুনরায় শ্রীমঙ্গল শহর প্রদক্ষিণ করে ভাড়াউড়ায় গিয়ে শেষ হয়।
এদিকে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধিতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করায় চা শ্রমিকদের আরেক অংশের নেতা বিজয় বুনার্জী ও তার সংগীয় নেতারাও প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
মজুরি বৃদ্ধির দাবীতে চা শ্রমিক আন্দোলনের ১৯ তম দিন শনিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির পর পরই পাল্টে গেছে দৃশ্যপট।
রবিবার বাগানগুলোতে সাপ্তাহিক বন্ধ থাকলেও মৌলভীবাজার জেলার ৯২টি চা বাগানের মধ্যে অধিকাংশ বাগানে উৎসবমূখর পরিবেশে কাজ শুরু করেছেন চা শ্রমিকরা। তবে যেহেতু রবিবার বাগান বন্ধ তাই সোমবার থেকে পুরোদমে কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের চা সংসদের নেতা তাহসিন আহমদ চৌধুরী।
এদিকে টানা ১৯ দিন পর কাজে ফিরতে পেরে সাধারণ শ্রমিকরাও খুশি। শ্রীমঙ্গল কাকিয়া ছড়া চা বাগানের বিকাল ভুমিজ জানান, দ্রব্যমূল্যের উধ্বগতির কারনে ১২০ টাকা দিয়ে সংসার চালানো খুবই কষ্টকর ছিল । প্রধানমন্ত্রীর ১৭০ টাকা মজুরি ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে আমরা কাজে ফিরেছি। তবে সোমবার থেকে জেলার সবকটি চা বাগানে পুরোদমে কাজ হবে বলে জানান, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা পরেশ কালেন্দি।
উল্লেখ্য, গত ৯ আগস্ট থেকে ৩০০ টাকা মজুরি বৃদ্ধির দাবীতে সারাদেশের মতো মৌলভীবাজার জেলার সবকটি চা বাগানে প্রথমে দুই ঘন্টা করে কর্মবিরতি পালন করেন চা শ্রমিকরা।
কিন্তু তাদের দাবী আদায় না হওয়ায় ১৩ আগস্ট থেকে লাগাতার কর্মবিরতিতে নামেন শ্রমিকরা। পরবর্তীতে তাদের মজুরি বৃদ্ধির বিষয় নিয়ে গত ২১ আগস্ট রাতে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের সাথে এক বৈঠকে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী আসন্ন দূর্গাপুজার আগে নতুন মজুরি ঘোষনা করবেন। এ প্রেক্ষিতে গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার মধ্যে দিয়ে অবসান হলো চা শ্রমিকদের টানা ১৯ দিনের আন্দোলন।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



