২০০৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বিগত ১৪ বছরে চা শ্রমিকদের মজুরি বেড়েছে মাত্র সাড়ে ৮৭ টাকা। ২০০৮ সালে দৈনিক ভিত্তিতে নিয়োজিত একজন চা শ্রমিকের সর্বোচ্চ মজুরি ছিল ৩২ টাকা ৫০ পয়সা। ২০০৯ সালের জুলাই মাসে চা শ্রমিকদের জন্য দ্বিতীয়বারের মতো গঠিত নিম্নতম মজুরি বোর্ড চা শ্রমিকদের জন্য নিম্নতম দৈনিক মজুরি নির্ধারণ করে দেয়। তখন ‘এ’ ক্লাস বাগানের জন্য মজুরি নির্ধারণ হয় ৪৮ টাকা, ‘বি’ ক্লাস বাগানের জন্য ৪৬ টাকা এবং ‘সি’ ক্লাস বাগানের জন্য ৪৫ টাকা নির্ধারিত হয়। ২০১৪ সালের ১০ই আগস্ট গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয় বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যকরী পরিষদ। নির্বাচনের পর বাংলাদেশীয় চা সংসদের সঙ্গে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের যে চুক্তি হয় তাতে চা শ্রমিকের দৈনিক নগদ মজুরি দাঁড়ায় ‘এ’ ক্লাস বাগানের জন্য ৮৫ টাকা, ‘বি’ ক্লাস বাগানের জন্য ৮৩ টাকা এবং ‘সি’ ক্লাস বাগানের জন্য ৮২ টাকা। এই বেতন কাঠামো ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়।
গোপন ব্যালটের মাধ্যমে চা শ্রমিক ইউনিয়নের তৃতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৮ সালের ২৪শে জুন। বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের বিজয়ী প্যানেলের সঙ্গে বাংলাদেশীয় চা সংসদের সর্বশেষ চুক্তিপত্র স্বাক্ষরিত হয় ২০২১ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি। ২০১৯ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে ২ বছরের জন্য কার্যকর চুক্তিপত্র অনুসারে চা শ্রমিকদের মজুরি ‘এ’ ক্লাস বাগানের জন্য ১২০ টাকা, ‘বি’ ক্লাস বাগানের জন্য ১১৮ টাকা এবং ‘সি’ ক্লাস বাগানের জন্য ১১৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
এরমধ্যে ২০১৯ সালের শেষার্ধ্বে চা শ্রমিকের মজুরি নির্ধারণের জন্য তৃতীয়বারের মতো নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে সরকার। মজুরি বোর্ডে শ্রমিক ও মালিক উভয় পক্ষের প্রতিনিধি রয়েছে।
মজুরি বোর্ডে শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি রামভজন কৈরী জানিয়েছেন, নিম্নতম মজুরি বোর্ডের কাছে তারা দৈনিক নগদ মজুরি ৩শ’ টাকা দাবি করেন।
বাংলাদেশ চা শ্রমিকের পাশাপাশি অন্য কিছু পক্ষও তাদের সুপারিশ পাঠিয়েছে নিম্নতম মজুরি বোর্ডের কাছে। তবে মালিক পক্ষ বলছে, চায়ের দাম পড়ে গেছে। কাজেই মজুরি বাড়ানোর সুযোগ নেই। শ্রমিকদের চরমভাবে হতাশ করে মঞ্জুরি বোর্ড ২০২১ সালের জুনে শ্রম মন্ত্রণালয়ে যে সুপারিশ পাঠায় তাতে শ্রমিকদের মজুরি না বাড়িয়ে ১২০ টাকাই রাখা হয়। বরং উল্টো শ্রমিকরা এতদিন ধরে যেসব সুযোগ-সুবিধা পেয়ে আসছেন তা কমানোর সুপারিশ করে মজুরি বোর্ড। তবে শ্রম মন্ত্রণালয় শ্রম আইন অনুসরণ করে মজুরি বোর্ডের প্রস্তাবিত মজুরি কাঠামো পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত পাঠায়। এরপরও মজুরি বোর্ড তার সুপারিশে কোনোরকম পরিবর্তন না আনায় ২০২১ সালের ১৭ই নভেম্বর শ্রম প্রতিমন্ত্রীর সভাপতিত্বে চা শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। মজুরি বোর্ডে শ্রমিকপক্ষের একমাত্র প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাহী উপদেষ্টা রামভজন কৈরী বলেন, মজুরি নিয়ে এসব সমস্যার প্রধান হলো মজুরি বোর্ড। তারা এত মিটিং-আলোচনার পরও এক টাকাও বাড়াতে চায়নি। মজুরি বোর্ড যদি মালিকদের কথা না শুনে একটা নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত দিতো তাহলে আজকের এই সমস্যা তৈরি হতো না। আমি মজুরি বোর্ডের কাছে যে প্রস্তাব করেছিলাম সেগুলো তারা উপেক্ষা করেছে। তাই আমি ওইসব মিটিংয়ে স্বাক্ষর না করেই বেরিয়ে এসেছি।
বাংলাদেশ চা কন্যা নারী সংগঠনের সভাপতি খাইরুন আক্তার বলেন, এই যে মজুরি বৃদ্ধির হার সেটা কোনোভাবেই সন্তোষজনক নয়। উপমহাদেশের ১৮৭ বছরের চা শিল্পের ইতিহাসে যদি ১ টাকা করে প্রতিবছর মজুরি বাড়তো তাহলেও আমাদের মজুরি ১৮৭ টাকা হতো। মজুরি বোর্ড ও মালিকপক্ষ মিলে চক্রান্ত করে আমাদের মজুরি বাড়াতে চায় না। তবে চলমান আন্দোলনে গঠিত ‘বাংলাদেশ চা শ্রমিক অধিকার’ পরিষদের আহ্বায়ক মোহন রবিদাস বলেন, এই যে গত দুই চুক্তিতে অল্প অল্প করে টাকা বাড়ানো হলো এ নিয়ে ইউনিয়ন কোনো আন্দোলন করলো না। ইউনিয়ন যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতো তাহলে আমাদের বর্তমান মজুরি ৩শ’ টাকাই থাকতো।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



