বেসরকারি এনজিও সংস্থা সীমান্তিকের কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনকে (৪০) খুনের ঘটনায় জড়িত চার ছিনতাইকারী।ছিনতাইয়ে বাধা দিতে গেলে তারা তাকে খুন করে। তারা আনোয়ার হোসেনের গলায়, পিঠে, উরু এবং নিতম্ভসহ দেহের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করে ফেলে রেখে যায়। গুরুতর অবস্থায় জনৈক সিএনজি অটোরিকশা চালক তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে খুনের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত মাহফুজুর রহমান বিপ্লব (২০) ছিনতাইকালে হত্যায় নিজেকে জড়িয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে এ তথ্য দেয়।
সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-২ এর বিচারক তার জবানবন্দি গ্রহণ শেষে কারাগারে প্রেরণের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেন।
গ্রেফতারকৃত মাহফুজুর রহমান বগুড়া জেলার শাহজাহান পুরের বিরিকুল্লা গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে। সে ঘটনাস্থলের পাশ্ববর্তী দক্ষিণ সুরমার মোমিনখলা এলাকার বাসিন্দা।
মাহফুজ ছাড়াও খুনে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আরো দু’জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা হলো-সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারের লিয়াকতগঞ্জের মো. মোস্তাফা মিয়ার ছেলে জালাল আহমদ (২০) ও হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের সাটিয়া গ্রামের মৃত নূর হোসেনের ছেলে সোলেমান মিয়া (২১)।
বৃহস্পতিবার সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ কমিশনার (দক্ষিণ) সোহেল রেজার নেতৃত্বে পৃথক টিম ৪ ছিনতাইকারীর ৩ জনকে আটক করতে সক্ষম হন।
আদালতের বরাত দিয়ে দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)কামরুল হাসান তালুকদার এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, বুধবার (২৪ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে রেল স্টেশন থেকে টিকিট লিংক রোড দিয়ে হুমায়ুন রশীদ চত্বরে রিকশা যোগে যাচ্ছিলেন আনোয়ার হোসেন। এমন সময় রেল লাইনে অবস্থান করা দুই ছিনতাইকারী তার গতিরোধ করে। তখন আনোয়ার হোসেন তাদের দুজনকে ঝাপটে ধরে। ভিকটিম একজনের হাতে কামড়ও বসান। এসময় আরো দুইজন ছিনতাইকারী এসে তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। তারা ৪ জনে মিলে তাকে ছুরিকাঘাত করে ফেলে রেখে যায়।
তিনি বলেন, ওই লিংক রোডটি অন্ধকারাচ্ছন্ন। রাতে ওই সড়ক দিয়ে লোকজন খুব চলাচল করেন। তাৎক্ষনিক আনোয়ার হোসেনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাকে বাঁচানো যেতো। ঘটনার অনেক পর এক সিএনজি অটোরিকশা চালক তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বুধবার (২৪ আগস্ট) রাত ৯টায় রেল স্টেশন থেকে টিকিট কেটে রেলের পা্শ্ববর্তী লিংক রোড দিয়ে রিকশা যোগে হুমায়ন রশিদ চত্বর আসার পথে ছিনতাইর কবলে পড়েন আনোয়ার হোসেন। তিনি ভোলা জেলা সদরের শ্যামপুর গ্রামের লতিফ শিকদারের ছেলে এবং এনজিও সংস্থা সীমান্তিকের ব্রাক্ষণবাড়িয়া কার্যালয়ের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি সিলেটে সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে কাজে এসেছিলেন।সিলেট থেকে ট্রেনে ঢাকা যাওয়ার কথা ছিল।
এ ঘটনার পর নিহতের ছোট ভাই মো. বাবুল শিকদার বাদী হয়ে দক্ষিণ সুরমা থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করেন।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



