মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ১৫২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫১টিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক নেই। এসব বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকেরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব ও পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। আর ২৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের পদে ২৮ জনের পদ ফাঁকা আছে। ফলে এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ১৫২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫১টিতে প্রধান শিক্ষক নেই। এর মধ্যে ১৭টি বিদ্যালয়ের মামলা জটিলতা আছে। ৬৫ শতাংশ প্রধান শিক্ষক পদোন্নতির মাধ্যমে ও ৩৫ শতাংশ প্রধান শিক্ষক সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হয়।
উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা জয় কুমার হাজরা বলেন, উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের বাঘাছড়া কাঁঠালকান্দি, রহিমপুরের ইউনিয়নের মিরতিংগা, আদমপুরের রাজকান্দি, পতনউষারের টিলাগড়সহ ৯টি ইউনিয়নের ২৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের ২৮ জনের পদ শূন্য আছে। দীর্ঘদিন ধরে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ হচ্ছে না বলে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক আনোয়ার হোসেন ও শামসু মিয়া জানান, বেশির ভাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকসংকটে নিয়মিত পাঠদান হয় না। লেখাপড়ার মান বৃদ্ধির জন্য শূন্য পদগুলোতে দ্রুত নিয়োগ দেওয়া উচিত।
যেসব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই, সেসব বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন কমলগঞ্জ উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকেরা। তাঁদের ভাষ্য, যতদিন পর্যন্ত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া না হবে, ততদিন পর্যন্ত শিক্ষকসংকটের সমাধান হবে না।
কমলগঞ্জ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি আমিনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করছি, সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি করার জন্য। কিন্তু কিছু বিদ্যালয়ে মামলা জটিলতার কারণে এই সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।’
উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল আলম তালুকদার বলেন, ‘আমাদের ৫১টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। এর মধ্যে ১৭টি বিদ্যালয়ে মামলা আছে। জাতীয়করণের সময় সহকারী শিক্ষক পদে গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ৬৫ শতাংশ পদন্নোতির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক করা হবে এবং ৩৫ শতাংশ প্রধান শিক্ষক সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি দিলে শিক্ষকসংকট দূর হবে।’
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শামসুর রহমান বলেন, প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানেন। আর সহকারী শিক্ষকদের নিয়োগ আগামী সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরের মধ্যে হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সুত্র: প্রথম আলো
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



