নতুন সিলেট প্রতিবেদক:: সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীরকে চোখের জলে বিদায় জানালন নেতাকর্মী ও সাধরণ মানুষ।
শুক্রবার (১২ মার্চ) বিকাল সোয়া ৫টায় ফেঞ্চুগঞ্জের কাশিম আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মরহুমের জানাযা সম্পন্ন হয়। এতে লাখো মানুষ অংশ নেন।
জানাযায় অংশ নেন বৃহত্তর সিলেটের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ প্রশাসন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় জেলা, মহানগর ও অংগ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এছাড়া অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও জানাযায় অংশ নেন।
জানাযা পূর্ব বক্তৃতায় সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর স্মৃতিচারণ করে অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন। জানাযায় সকল এমপিদের পক্ষ থেকে বক্তৃতা করেন সুনামগঞ্জের ছাতক-দোয়ারা আসনের সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক, প্রশাসনের তরফ থেকে সিলেটের জেলা প্রশাসক এম. কাজি এমদাদুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের তরফ থেকে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম নাদেল, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খান, মরহুমের পরিবারের পক্ষে ভাগ্নে জুনেদ আহমদ চৌধুরী বক্তৃতা করেন।

জানাযা শেষে সন্ধ্যায় বাড়ির সামনে মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়। নিজের জন্য কবর আগেই নির্মাণ করে গিয়েছিলেন মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী।
গত ৮ মার্চ সকালে তার করোনার নমুনা দিলে বিকেলে করোনা পজিটিভ আসে। এদিন বিকেলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার বেলা ২টার দিকে রাজধানী ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
শুক্রবার বেলা ১২ টায় বিমানবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে করে তাঁর মরদেহ ফেঞ্চুগঞ্জের নুরপুরে গ্রামের বড় বাড়িতে নেওয়া হয়।দিনভর দলীয় নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ মাহমুদ উস সামাদের মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এসময় স্বজন, নেতাকর্মীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
শোক জানাতে তার নিজ বাড়িতে শোকবই খোলা হয়। এতে অনেকেই শোকগাঁথা লিখে মরহুম মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এছাড়া মরহুমের প্রতি সম্মান দেখিয়ে উপজেলার সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়।
জানাযা পরবর্তীতে তাঁর নির্বাচনী এলাকা ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ ১০ দিনের শোক ঘোষণা করে। দক্ষিণ সুরমা আ’লীগ ৭ দিনের এবং বালাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ৫ দিনের শোক ঘোষণা করা হয়।
সিলেট-৩ আসনের তিনবারের সাংসদ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী মাত্র ৬৫ বছর বয়সে মারা যান। তিনি ১৯৫৫ সালের ৩ জানুয়ারি ফেঞ্চুগঞ্জের নুরপুর সম্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী এবং মাতা আছিয়া খানম চৌধুরী।
বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনঃ সিলেট ৩ আসনে ( দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জের একাংশ) আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী বিগত তিন মেয়াদে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হ্যাট্রিক জয়ী হন। সদ্য হওয়া সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে সহ-সভাপতি ছিলেন তিনি।
১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচন তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চাকা প্রতীক নিয়ে প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। এরপর ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ও ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও অল্প ভোটের ব্যবধানে তিনি বিজয়ী হতে পারেননি। তাই বলে হাল ছাড়েননি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী। দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশ্বাসী সৈনিক হিসেবে রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদ এর মহাসচিব নির্বাচিত করেন।
সর্বশেষ ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি নৌকা প্রতীকে এক লাখ ৭৬ হাজার ৫৮৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির শফি আহমদ চৌধুরী ৮৩ হাজার ২৮৮ ভোট পেয়েছিলেন। এর আগে ২০১৪ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি ৯৭ হাজার ৫৯৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়ে তিনি প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির শফি আহমদ চৌধুরী ৫৪ হাজার ৯৫৫ ভোট পেয়েছিলেন।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



