কুষ্টিয়া থেকে ঈগল এক্সপ্রেস পরিবহনের সেই যাত্রীবাহী বাসটি মঙ্গলবার (২ আগস্ট) রাত সাড়ে আটটায় ঢাকার দিকে যাত্রা শুরু করে। তবে রাতে নির্দিষ্ট স্টপেজ ছাড়া অন্য কোন স্থান থেকে যাত্রী উঠানোর নিয়ম না থাকলেও রাত ১১টায় সিরাজগঞ্জ থেকে প্রথমে চারজন এবং পরে দুবার তিন জন করে ছয়জন বাসে উঠেন। বাসটি বঙ্গবন্ধু সেতুর টোলপ্লাজা পার হওয়ার পরেই যাত্রী সেজে বাসে উঠা ১০ জন ডাকাত অস্ত্রের মুখে বাসের ২৪ যাত্রীকে জিম্মি করে বাসটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ফেলে।
জানা গেছে, সে সময় ডাকাতরা নারী-পুরুষ সব যাত্রীর হাত, পা, মুখ ও চোখ বেঁধে ফেলে তাদেরকে মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এরপর নয়জন ডাকাত সব যাত্রীদের সিটের সামনে গিয়ে গিয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যেই সকলের মোবাইল ফোন, স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা লুটে নেন। তখন তাদের সাথে দেশীয় অস্ত্র ছিল।
বাসটি দেলদুয়ার উপজেলার নাটিয়াপাড়া এলাকায় পৌঁছালে বাসের মূল চালককে সরিয়ে ডাকাত দলের এক সদস্য গাড়ি চালান। এরপরেই বাসটি পুরোপুরি তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। পরে বাসটি গোড়াই এলাকায় মহাসড়কে ইউটার্ন নিয়ে টাঙ্গাইলের দিকে যেতে থাকে। রাস্তায়ই গাড়ির মধ্যে এক নারী যাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেন ডাকাত দলের সদস্যরা।
ওই বাসের যাত্রীদের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার ওই বাসে ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনা বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, ডাকাত দলের এক সদস্যের নানীর বাড়ি মধুপুরে। বুধবার (৩ আগস্ট) ভোড়ে ডাকাতরা বাস থেকে নেমে ওই বাড়িতেই আত্মগোপনে ছিলেন। পরে সেখান থেকে তারা পালিয়ে যান। তবে আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বাসের যাত্রী নাটোরের বড়াইগ্রামের বাসিন্দা ফল ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান ওই বাসের নিয়মিত যাত্রী। বাসের সুপারভাইজার রাব্বি ও সহকারী দুলাল তার পরিচিত। কিন্তু বাসের এবারের চালকে এর আগে দেখেননি তিনি। তিনি বড়াইগ্রামের তরমুজ চত্বর থেকে আমড়া, কাঁঠাল ও তালসহ বিভিন্ন ফল ঢাকার গুলশানে নিয়ে যেতে বাসে উঠেন।
বাসটি সিরাজগঞ্জের কাছাকাছি একটি হোটেলে নৈশভোজের জন্য যাত্রা বিরতি দেয়। রাত সাড়ে ১১টায় আবার যাত্রা শুরু করে। পথে কাঁধব্যাগ বহনকারী ১০/১২জন তরুণ যাত্রী উঠেন। সবাই প্রায় ঘুমে। বাসটি বঙ্গবন্ধু সেতু পার হওয়ার পর যাত্রীবেশে থাকা ওই তরুণদল ঘুমন্ত যাত্রীদের অস্ত্রের মুখে একে একে সকলকেই বেধে ফেলে।
প্রত্যেক যাত্রীর চোখ ও মুখ বেধে চালককেও জিম্মি করে বাসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। পাঁচ মিনিটের মধ্যে সকল যাত্রীর নিকট থেকে মোবাইল, টাকা, গহনা লুট করে নেয়। তারপর এক নারী যাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেন তারা।
এসময় ডাকাত দলের কেউ কেউ মৌখিক বাধা দিলেও তা না মেনে ডাকাতরা এক নারী যাত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। বাস বিভিন্ন রাস্তায় ঘুরিয়ে ফিরেয়ে ও নির্যাতন চালিয়ে তিন ঘন্টার মতো নিয়ন্ত্রণে রাখে। পরে পথ পরিবর্তন করে টাঙ্গাইল ময়মনসিংহ সড়কের মধুপুর উপজেলার রক্তিপাড়া জামে মসজিদের পাশে বালির স্তূপের মধ্যে কাত (উল্টে) যায়।
এসময় ডাকাতরা পালিয়ে যায়। সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা বাসের সকল যাত্রীদের উদ্ধার করেন এবং রক্তিপাড়া জামে মসজিদের ইমামসহ অন্যরা তাদের নাস্তাও করিয়েছেন।
ধর্ষণের শিকার ওই নারী যাত্রী জানিয়েছেন, তিনি সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ধর্ষণের পর ডাকাত সদস্যরা তার গলা চেপে ধরেন। তাকে ছাড়াও আরও এক নারীকে ধর্ষণ করেছেন তারা। তবে সেই নারীকে তার স্বামী বুধবার সকালে হাসপাতালে ভর্তি করানোর কথা বলে অন্যত্র চলে গেছেন।
পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানান, এ ঘটনায় ডাকাত দলের সদস্য রাজা মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার বল্লা গ্রামের হারুন অর রশীদের ছেলে। রাজা টাঙ্গাইল নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন। সে টাঙ্গাইল থেকে ঢাকা রুটে চলাচলকৃত ঝটিকা বাস সার্ভিসের চালক। আর এই বাস চালানোর পাশাপাশি ডাকাত দলের অন্যতম সদস্য।
এ ঘটনায় ঈগল পরিবহনের যাত্রী কুষ্টিয়ার হেকমত আলী বাদী হয়ে ১০জনকে আসামি করে ডাকাতি ও ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন।
নতুনসিলেট২৪ডটকম / আল-আমিন
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



