সরকার হাজার হাজার মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মিথ্যা গল্প শুনিয়ে দেশকে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের নামে সরকারের আশির্বাদিপুষ্ট কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের সুযোগ করে দিয়েছে। বিদেশে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে। সরকারের দুর্নীতির মাশুল দিতে হচ্ছে সাধারণ জণগনকে।
শনিবার (৩০ জুলাই)সারাদেশে নজিরবিহীন লোডশেডিং ও জ্বালানিখাতে অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে সিলেট বিএনপি আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন।
ড. মঈন খান বলেন, বিনাভোটে নির্বাচিত সরকারের জনগণের প্রতি কোন দায়বদ্ধতা নেই। শহীদ জিয়ার প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার রাজনীতিতে বিশ্বাসী। দেশে আইনের শাসন নেই, খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান শিক্ষার অধিকার নেই। কথা বলার অধিকার নেই। তারা মেগা উন্নয়নের মিথ্যা বুলি দিয়ে জাতির সাথে প্রতারণা করছে। এজন্য সরকারকে অবশ্যই জবাবদিহী করতে হবে। এই সরকারের হাত থেকে দেশের অধিকারবঞ্চিত মানুষকে মুক্ত করতে আমাদের সংগ্রাম চলছে চলবে।
তিনি আরো বলেন, বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন ৩.৪০ পয়সা ইউনিটে বিদ্যুৎ দিয়েছিল। আজ ৩.৪০ পয়সার বিদ্যুৎ ১২ টাকা ৪০ পয়সা। তার পরও দেশের মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছেনা। চার গুণ বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির পরেও কেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, কেন লোডশেডিং হয়? এর মুলে হচ্ছে দুর্নীতি। পাকিস্থানে ২২টি পরিবার দেশের সম্পদ লুটপাট করে দেশকে ধ্বংস করে দিয়েছিল। আর আমদের দেশে সরকারেরর মদদপুষ্ট ২২০ পরিবার লুটপাট করেছে। তার বিচার একদিন হবে।
সাবেক মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, ৫০ বছর আগে দেশ স্বাধীন হয়েছিল গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক মুক্তি। কিন্ত গণতন্ত্র আজ কোথায়? কেন মানুষ ভোট দিতে পারেনা? কেন সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নেই? বিএনপি শান্তিপূর্ণ ও সহাবস্থানে বিশ্বাসী। বিরোধী দলের দায়িত্ব সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। আর সরকারের দায়িত্ব জবাব দেয়া। আওয়ামী লীগ বলে- বিদ্যুৎ দিয়ে নাকি দেশকে ভাসিয়ে দিয়েছে। আমাদের দেশের বিদ্যুতের চাহিদা ১৫ হাজার মেগাওয়াট। আর তারা না কি ২৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। তাই যদি সত্যি হয় তাহলে তো দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি থাকার কথা নয়। এখন কেন লোডশেডিং করতে হয়? ক্যাপাসেটি চার্জের নামে সরকার এক লাখ হাজার কোটি খরচ করেছে। এই টাকা কোথায় গেল। যারা দেশের টাকা পাচার করেছে তাদের জবাবদিহি হতে হবে।
তিনি বলেন, দেশ জাতি চরম ক্রান্তিকাল অতিবাহিত করছে। আর এই ক্রান্তিকাল গণতন্ত্র হত্যাকারী আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের নিজের হাতে তৈরী।দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে জনজীবন অতিষ্ঠ। দেশ ক্রমশই ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। তারা জনগণের কল্যানের বিপরীতে জনদুর্ভোগ সৃষ্টিতে লিপ্ত রয়েছে। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমাদের কর্মসূচী অব্যাহত থাকবে। এসব কর্মসূচীতে বাধা দেয়া হলে তা যে কোন সময় গণবিস্ফোরণে রুপ নিতে পারে। তাই দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হলে নিরপেক্ষ সরকারের কোন বিকল্প নেই। ইতিহাস স্বাক্ষী এই সরকারকে ক্ষমতায় রেখে দেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন কোনভাবেই সম্ভব নয়। সরকারের অধীনে কোন নির্বাচনে বিএনপি যাবেনা যাবেনা। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে অবশ্যই এই সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরে যেতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন,সরকার পরিকল্পিত ভাবে দেশে সংকট সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশে ৩২ টিলিয়ন থেকে ৪২ টিলিয়ন গ্যাস আছে। সরকার ইচ্ছে করে গ্যাস তুলছেনা। কারন গ্যাস আমদানী করে তারা হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করতে চায়। বিদ্যুতের ক্যাপাসেটির নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে। তাই এদেরকে ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত করে দেশে জনগনের সরকার প্রতিষ্টার বিকল্প নেই।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা বিএনপি সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, বাংলদেশের পরিস্থিতি আজ খুবই ভয়াবহ। দেশে ৩ হাজার ৮১ কোটি টাকা বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। দেশে আজ গ্যাস নেই, বিদ্যুৎ এখন আর যায় বা, মাঝে মাঝে আসে। আওয়ামীলীগ লুটপাট করে দেশকে শেষ করে দিয়েছে। এই লুটেরা সরকারের লুটপাটের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে আওয়ামীলীগকে বিতাড়িত করার আগ পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়বনা।
সিলেট মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকীর সভাপতিত্বে, ১ম যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির শাহীন ও যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল হাসান কয়েস লোদীর যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মুকুল আহমদ মুর্শেদের পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মধ্যদিয়ে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক নজিবুর রহমান নজিব, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান পাপলু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল আহাদ খান জামাল, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল ওয়াহিদ সুহেল, মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি সুদীপ জ্যোতি এষ, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন দিনার প্রমূখ।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কাউন্সিলার ফরহাদ চৌধুরী শামীম, যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়াউল গণি আরেফিন জিল্লুর, আজমল বখত চৌধুরী সাদেক, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহমদ, মহানগর বিএনপির সদস্য জিয়াউল হক, আমির হোসেন, মাহবুব কাদির শাহী, নুরুল আলম সিদ্দিকী খালেদ, কাউন্সিলার সৈয়দ তৌফিকুল ইসলাম হাদী, হুমায়ুন আহমদ মাসুক, আবুল কালাম ও সৈয়দ সাফেক মাহবুব, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেম, সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা সভাপতি হাজী শাহাব উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক কুহিনুর আহমদ, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর প্রমূখ।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



