যুক্তরাজ্য প্রবাসী রফিকুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যরা রাতে দোকান থেকে বার্গার ও জুস এনে খেয়েছিলেন।
পরিবারের ৫ সদস্য মিলে রাতে সেগুলো খেয়েই ঘুমিয়ছিলেন। এরপর আর ঘুম ভাঙেনি তার। এরপর অচেতন অবস্থায় তাদের উদ্ধার করলে আর ঘুম ভাঙেনি বাবা-ছেলের। ঘুমের মধ্যেই মারা যান রফিকুল ইসলাম ও তার চোট ছেলে মাহিকুল ইসলাম।
অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন নিহতের স্ত্রী হুসনারা বেগম, বড় ছেলে সাদিকুল ইসলাম এবং একমাত্র কন্যা সামিরা ইসলাম।
নিহত রফিকুল ইসলামের বৃদ্ধ শ্বশুর আনফর আলী বলেন, সোমবার দিনের বেলা তাজপুর বাজার থেকে বার্গার জুসসহ বিভিন্ন ফাস্টফুড অন্যান্য খাবার কিনে আনেন প্রবাসী রফিকুল ইসলাম। রাতে ভাসায় আর কোনো আত্মীয়স্বজন কিংবা কোনো লোকজন আসেনি।
সোমবার রাতে রফিকুল ইসলাম স্ত্রী হুসনারা বেগম বড় ছেলে সাদিকুল ছোট মাহিকুল ও একমাত্র কন্যা সামিরা ইসলাম ফাস্টফুডসহ দোকান থেকে ক্রয় করা খাবার খায়।
বাসার থাকা অন্যান্য আত্মীয়-রফিকুলের শ্বশুর, শাশুড়ি, শ্যালক, শ্যালকের বৌ ও তাদের ৮ বছরবয়সি কন্যা রাতে ভাত খায়। রাত প্রায় ১০টার দিকে রফিকুল পরিবারের ৫ সদস্যকে নিয়ে বাসার একটি কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন।
নিহত রফিকুল ইসলামের শ্বশুর আনফর আলী আরো বলেন, রফিকুল ইসলাম সম্প্রতি যুক্তরাজ্য থেকে দেশে আসার পূর্বে শ্বশুরকে ভাড়া বাসা ঠিকানা ও তিনি যে দেশে আসছেন, সে বিষয়ে আত্মীয়স্বজনসহ কাউকে না জানাতে বারণ করেন। কিন্তু কি কারণে শ্বশুরকে বারণ করেছেন, সে ব্যাপারে আর কিছু জানে না বলে আনফর আলী।
এদিকে, প্রবাসী বাবা-ছেলে নিহত ও পরিবারের অন্য তিন সদস্য বিষক্রিয়া অচেতন অবস্থায় আসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও ঘটনার তিনদিন অতিবাহিত হবার পর এখন পর্যন্ত কোনো রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ।
গত বুধবার বিকেলে নিহতদের ময়না তদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ২ টায় উপজেলার দয়ামীর ইউপির পরকুল মাদ্রাসা মাঠে জানাজার নামাজ শেষে মরদেহ গ্রামের বাড়ি খতিপুর বড় ধিরারাইয়ের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে গত বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে যুক্তরাজ্য থেকে নিহতের ছোট দুই ভাই শফিকুল ইসলাম, বিজেকুল ইসলাম, বোন শাহীনা বেগম ও মা জরিনা জব্বার দেশে এসে দাফনকাফন সম্পন্ন করেন।
এ ঘটনায় বুধবার রাতে নিহত রফিকুলের শ্যালক দিলোয়ার হোসেন বাদি হয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা(নং-২১) দায়ের করেন বলে জানিয়েছেন ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস.এম মাঈন উদ্দিন।
এদিকে, সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন নিহত রফিকুল ইসলামের স্ত্রী হুছনারা বেগম, বড় ছেলে সাদিকুল ইসলামের শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে তার একমাত্র কন্যা সামিরা ইসলামের অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ওসমানীনগর সার্কেল) রফিকুল ইসলাম বলেন, নিহত যুক্তরাজ্য প্রবাসী রফিকুল ইসলামের স্ত্রী হুসনারা বেগম, তার ছেলে সাদিকুল ইসলামের সঙ্গে দুপুরে আলাপ হয়েছে। তাদের শারীরিক অবস্থা অনেকটা ভাল।তবে তদন্তে অগ্রগতি হওয়ার মতো কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।
ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মাঈন উদ্দিন বলেন, নিহত বাবা-ছেলের ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ দাফন করা হয়েছে। তাদের ভিসেরা রিপোর্টসহ উদ্ধারকৃত আলামত ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। ভিসেরা রিপোর্ট ও পরিবারের চিকিৎসাধীন সদস্যরা সুস্থ হলে তাদের নিকট থেকে তথ্য পেলে ঘটনার আসল রহস্য উদঘাটন সম্ভব হবে।
গত মঙ্গলবার সিলেটের ওসমানীনগরে তাজপুর স্কুল রোডের একটি বাসা থেকে যুক্তরাজ্য প্রবাসী পরিবারের ৫ সদস্যকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে নে্ওয়ার পর মারা যান দুইজন। তারা হলেন- উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের ধিরারাই (খাতিপুর) গ্রামের মৃত আবদুল জব্বারের ছেলে যুক্তরাজ্য প্রবাসী রফিকুল ইসলাম (৫০) ও তার ছোট ছেলে মাহিকুল ইসলাম (১৬)।আশঙ্কাজনক অবস্থায় রফিকুল ইসলামের স্ত্রী হুছনারা বেগম (৪৫), ছেলে সাদিকুল ইসলাম (২৫) এবং মেয়ে সামিরা ইসলামকে (২০) সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।বর্তমানে নিহতরে স্ত্রী হুছনারা বেগম, ছেলে সাদিকুল ইসলামের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলেও একমাত্র মেয়ে সামিরা বেগমের অবস্থা আশংকাজন রয়েছে।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



