আাদালতে স্ত্রী পান্নার জবানবন্দি-
সিলেটে সালিশ ব্যক্তিত্ব বৃদ্ধ আব্দুল হক মোবাশ্বির হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী পান্না বেগম (১৯)।
রোববার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় আদালতের বিচারক পান্নার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাকে কারাগারে প্রেরণের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেন।
পান্নার জবানবন্দির বরাত দিয়ে আদালত সূত্র জানায়, পান্না বেগমের বাবা-মা আব্দুল হক মোবাশ্বিরের বাসায় কাজ করতেন। সে সুবাদে কিশোরী বয়সে তাকে যৌন হয়রানী করতেন। এক পর্যায়ে গত ৫ বছর আগে মাত্র ১৪ বছর বয়সে লন্ডনে নেওয়ার লোভ দেখিয়ে কিশোরী বয়সে বিয়ে করেন বৃদ্ধ মোবাশ্বির। এরও দেড় বছর আগে থেকে অবৈধভাবে তাকে যৌন হয়রানী শুরু করেন। কিশোরী বয়সের ঘটনা এখন তাকে পীড়া দিচ্ছে। এছাড়া বিয়ের পর একাধিকবার তাকে লন্ডনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এ্যাম্বেসিতে উঠার কথা বলে ঢাকায় নিয়ে হোটেলে রাত যাপন করেন।
বয়সন্ধির সঙ্গে বৃদ্ধের প্রতি এক ধরণের বিতৃষ্ণা চলে আসে পান্নার। সে বুঝতে পারে, তাকে প্রতারিত করে কেবলই যৌন খায়েস পূরণে বিয়ে করেছে বৃদ্ধ। যে কারণে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে।
পান্নার জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, তার মা-বাবার অনাপত্তি জানালেও তাদেরকেও আশ্বাস দেন তাকে লন্ডনে নিয়ে যাওয়ার।যৌন নিপিড়ন থেকে রক্ষা পেতে বিভিন্ন সময় আপত্তি জানালেন মোবাইলে ধারণকৃত অশ্লীল ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়ার ভয়ভীতি দেখান। শারিরিকভাবে মেলামেলা করতে গিয়ে মদ পান করতেন। এসব কারণে নিজের ভেতর ক্ষোভ জন্মায় পান্নার। ফলে ঘটনার দিন শনিবার ভোর বেলা শারিরিক মেলামেলার আগে ৫টি ঘুমের ট্যাবলেট মিশিয়ে বৃদ্ধকে মদ পান করান পান্না। এরপর অচেতন হয়ে গেলে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করেন। মৃত্যু নিশ্চিত করতে বিদ্যুতের তার গলায় জড়িয়ে ফের মৃত্যু নিশ্চিত করে কিছুক্ষণ বাসায় অপেক্ষার পর বাহির থেকে ঘরের দরজা বন্ধ করে চলে যান।
পরে রোববার (২৬ সেপ্টেম্বর) তাকে দক্ষিণ সুরমার চান্দাই মিলিবাড়ি থেকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। গ্রেফতারকৃত পান্না বেগম (১৯) দক্ষিণ সুরমার চান্দাই মিলিবাড়ির রবিউল আলমের মেয়ে ও নিহতের স্ত্রী বলে জানা গেছে।
আর নিহত আব্দুল হক মোবাশ্বের দক্ষিণ সুরমার সিলাম শেখপাড়ার মৃত ফজলুল হকের ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মুহিবুল হক বাদি হয়ে রোববার দক্ষিণ সুরমা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।গ্রেফতারের পর পুলিশী জিজ্ঞাসাবাদেও হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে রাজি হন।
দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার বলেন, গ্রেফতারকৃত পান্না হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণ সুরমা থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) কল্লোল গোস্বামী বলেন, জবানবন্দি গ্রহণের জন্য বেলা ২টায় তাকে আদালতে আনা হয়। বিকাল ৫টার পর আদালত জবানবন্দি গ্রহণ শুরু করেন। সন্ধ্যা ৭টায় জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। আদালতে পান্না হত্যার দায় স্বীকার করেন।
গত শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে দক্ষিণ সুরমা থানাধীন ধোপাঘাট আব্দুল হক মোবাশ্বিরের মরদেহ তার মালিকানাধীন হাউজিং প্রকল্পের দেওয়াল ঘেরা টিনশেড ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়। ওই সময় আব্দুল হক মোবাশ্বিরের মৃতদেহ ঘরের মেজেতে প্লাস্টিকের ত্রিপলের উপর শর্ট প্যান্ট পরিহিত অবস্থায় পড়েছিল। খবর পেয়ে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



