ডোমারে বিয়ের দাবিতে এক প্রেমিকা ৫দিন থেকে প্রেমিক নিপুণ রায়ের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন। সেই প্রেমিকা দাবি করেছেন তার সঙ্গে লোকনাথ মন্দিরে নিপুণের বিয়ে হয়। ওই প্রেমিকাকে বাড়িতে রেখেই মৌমিতা অধিকারী নামে আরেক প্রেমিকাকে বিয়ে করে পালিয়ে গেছে প্রেমিক নিপুণ রায়। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটে জেলার ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের নয়ানী বাকডোকরা বাবুপাড়ায়। নিপুণ রায় উপজেলার বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের নয়ানী বাকডোকরা বাবুপাড়ার বাবু ভূপেশ চন্দ্র রায়ের ছেলে। চলতি প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ লিখিত পরীক্ষায় তিনি উত্তীর্ণ হওয়ার পর থেকে বাড়িতে অবস্থান নেয়া প্রেমিকার সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখে চলছিলেন।
বাড়িতে অবস্থান নেয়া প্রেমিকা নীলফামারী সরকারি কলেজের অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্রী ও সদর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের খলিশাপচা এলাকায় তার বাড়ি। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে বিয়ের দাবি নিয়ে আসার খবর পেয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান নিপুণ। নিপুণ রায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের ছাত্র। এদিকে অনেক রফাদফার পরও প্রেমিকা নিপুণের বাড়ি থেকে চলে না যাওয়ায় শনিবার দিবাগত রাতে বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের শিয়ালডাঙ্গী এলাকার শিক্ষক মদন অধিকারীর মেয়ে মৌমিতা অধিকারীকে গোপনে বিয়ে করেন। নতুন স্ত্রীকে নিয়ে এলাকা থেকে সটকে পড়েন নিপুণ।
মৌমিতার সঙ্গে নিপুণের বিয়ের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মৌমিতার বাবা মদন অধিকারী। মৌমিতার বাবা মদন অধিকারী বলেন, আমরা সব ঘটনা জানি। কিন্তু আমার মেয়ে যে এত খারাপ কাজ করতে পারে সেটা আমার ধারণাতে ছিল না। শুনেছি তারা বিয়ে করে এখন রংপুরে আছে। তবে বিয়ের সময় আমি উপস্থিত ছিলাম না।
বাড়িতে অবস্থান নেয়া প্রেমিকা জানান, ৫ বছর আগে নিপুণের মামা কনকের মাধ্যমে নীলফামারী কলেজে আমাদের পরিচয় ঘটে। এরই এক পর্যায়ে আমাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। লেখাপড়ার কারণে এক সময় আমরা দু’জনে ঢাকা যায়। ২০১৯ সালের ৩রা জানুয়ারিতে ঢাকার লোকনাথ মন্দিরে বিয়ে করি। বিয়ের সময় নিপুণের বান্ধবী ও তার স্বামী উপস্থিত ছিল। বিয়ের পর নিপুণের এক বান্ধবীর বাসায় আমরা এক সপ্তাহ অবস্থান করি। তারপর থেকে বিভিন্ন জায়গায় আমরা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে রাত্রিযাপন করি। বিয়ের বিষয়টি চাকরি না হওয়া পর্যন্ত আমাকে গোপন রাখতে বলেছিল নিপুণ। কিন্তু কিছুদিন থেকে নিপুণ আমার সঙ্গে আগের মতো আর যোগাযোগ রাখছে না। তাই তাকে ফোন দিয়েই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তার বাড়িতে চলে আসি। এখানে এসে নিপুণের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। বাড়ির লোকজন আমার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করলেও আমার ফোনটি তারা রেখে দেয়।
প্রেমিকাটি আরও জানায়, নিপুণের পরিবার চাচ্ছে আমি এখান থেকে চলে যাই। তারা আমার পরিবারকে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিতে চেয়েছে। তবে আমার পরিবার রাজি হয়নি।
নিপুণ রায়ের বাবা বাবু ভূপেশ চন্দ্র রায় বলেন, মেয়েটি গত পাঁচদিন ধরে আমার বাড়িতে আছে। মেয়েটি বলছে সে নাকি আমার ছেলেকে বিয়ে করেছে। আমার ছেলে বাড়িতে আসুক তার মুখে শুনে সিদ্ধান্ত নেবো।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



