সিলেটে হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। একই সঙ্গে বাড়ছে আত্মহত্যার ঘটনাও। সিলেটের বিভিন্ন এলাকা থেকে গত ২০ দিনে উদ্ধার করা হয়েছে ১১টি মৃতদেহ। এর মধ্যে ৭টিই হত্যাকাণ্ড; বাকি চারটি আত্মহননের ঘটনা।
সম্প্রতি জেলার গোয়াইনঘাটের নিভৃত পল্লীতে রাতের আঁধারে আব্দুল কাদির (৩৫) নামে এক যুবককে জবাই করে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে সিলেটজুড়ে। এসব ঘটনায় বেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সিলেটের সুশীল সমাজ। এদিকে হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি আত্মহত্যার প্রবণতাও বেড়েছে সিলেটে। ফলে উৎকণ্ঠার মধ্যে আছেন অভিভাবক মহলও।
জানা গেছে, ৩০ জুন থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত ২০ দিনে সিলেট মহানগরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ১১টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃতের তালিকায় রয়েছেন- কলেজছাত্র, তরুণ-তরুণী, মা-ছেলে ও চাকরিজীবী গৃহিণী। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, হিংসা, ক্রোধ, লোভ, জমি সংক্রান্ত বিরোধসহ বিভিন্ন কারণে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলো ঘটছে। এ ছাড়াও অপ্রাপ্তি, প্রতারণা, হতাশা, মানসিক অবসাদ, পারিবারিক নির্যাতন ও অতিরিক্ত আবেগ প্রবণতার কারণেই ঘটছে বেশিরভাগ আত্মহত্যার ঘটনা।
সবশেষ গত ২০ জুলাই জেলার ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় রাতের আঁধারে সুবল বিশ্বাস (৩৮) নামে এক দোকান কর্মচারীকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই দিনে সিলেট মহানগরের জালালাবাদ থানার শেখেরগাঁও থেকে নীলিমা ফেরদৌসী ইভা (১২) নামে এক তরুণীর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের ভাষ্যমতে, মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল সে।
এর আগে গত ১৯ জুলাই বিকালে জেলার বিয়ানীবাজার পৌরসভার নয়াগ্রামে একটি ভাড়া বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় মোহাম্মদ আলী (১৮) নামে এক কিশোরের মৃতদেহ। বিয়ানীবাজার পৌরশহরের একটি চেন শপের কর্মচারী ছিল সে। ১৭ জুলাই সন্ধ্যায় দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দি এলাকার হাজী সিকান্দার ছাত্রাবাসের ১২নং কক্ষ থেকে উদ্ধার হয় সজিব হোসেন (১৯) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থীর লাশ। এ ছাড়া গত ১৬ জুলাই বিকালে স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে আত্মহত্যা করেন ফারজানা (২০) নামে এক গৃহবধূ। দক্ষিণ সুরমা উপজেলার শিববাড়ী এলাকার জৈনপুর ১নং ওয়ার্ডের সেলিম মিয়ার কলোনিতে এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে জেলার গোয়াইনঘাটে আব্দুল কাদির নামে যুবককে জবাই করে হত্যা ও ঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে সিলেটজুড়ে। পূর্বশত্রুতার জেরে গেল ১৫ জুলাই রাতে গোয়ানইঘাটের সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ লাবু গ্রামের আব্দুল খালিকের বাড়িতে হামলা চালায় প্রতিপক্ষরা। এ সময় আব্দুল খালিকের ছেলে আব্দুল কাদিরকে জবাই করে হত্যা করে তারা। ঘটনার এক দিন পর ১৭ জুলাই বিকালে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নিহত আব্দুল কাদিরের মা হাছিনা বেগমও । একই দিন (১৭ জুলাই) দুপুরে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় আশা অফিসের ম্যানেজার আবুল কাশেমকে (৪৮) নির্মমভাবে হত্যা করে অফিস পিয়ন ফজল। এর আগে ১৩ জুলাই বেলা ১১টার দিকে কানাইঘাট উপজেলার রাজাগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী নিজাম উদ্দিনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা দুর্বৃত্তরা রাতের আঁধারে কুপিয়ে হত্যা করে তাকে।
এ ছাড়া গত ৪ জুলাই ওসমানীনগর উপজেলায় লেবু মিয়া (৫০) নামে এক ব্যক্তি তার ছেলের হাতে খুন হন। ঘটনার এক দিন আগে ৮ বছরের নাতনি সায়মা আক্তার চাঁদনীকে বন্যার পানিতে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় ছেলে জুবেদ মিয়া। বিষয়টি জানতে পেরে পরদিন লেবু মিয়া ছেলে জুবেদকে শাসন করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জুবেদ ৪ জুলাই দুপুরে লেবু মিয়াকে বাড়িতে একা পেয়ে কুড়ালের হাতল দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। একপর্যায়ে তাকে বাড়ির উঠানে বন্যার পানিতে ফেলে চলে যায় সে। ওইদিন ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যু হয় লেবু মিয়ার।
গত ৩০ জুন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় ঘরভাড়া নিয়ে সংঘর্ষে নিহত হন শেখ সেলিম (৫৫) নামে এক ব্যক্তি। নিহত সেলিম ফেঞ্চুগঞ্জ বাজার বণিক সমিতির প্রচার সম্পাদক শেখ ডালিমের বড় ভাই।
এসব ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন সিলেট সুজনের (সুশাসনের জন্য নাগরিক) সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সুশাসনের অভাব থাকায় এসব অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটছে। এ থেকে উত্তরণের জন্য নিজ নিজ অবস্থান থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সবার তৎপরতা বাড়ানোর প্রতি জোর দেন সুশীল সমাজের এ প্রতিনিধি।
নতুনসিলেট২৪ডটকম / এএ
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



