সিলেটে রাগিব রাবেয়া মেডিক্যালে ভুল চিকিৎসায় রোগির মৃত্যু ও মরদেহ তিনদিন আইসিইউতে রেখে দেওয়ার অভিযোগে বিক্ষোভ করেছেন স্বজনরা। এ ঘটনার জের ধরে হাসপাতালের নিরাপত্তা প্রহরী ও রোগির স্বজনদের মধ্যে ষংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বেলা আড়াইটার দিকে নগরের তারাপুর রাগিব রাবেয়া মেডিক্যালে ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। এসময় হাসপাতালের একটি অ্যাম্বুলেন্স ও আইসিইউ কক্ষের গ্লাস ভেঙে দিয়েছেন বিক্ষোব্ধ জনতা। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে নিরাপত্তারক্ষীরা স্বজনদের ওপর হামলা করে। তাদের লাঠি পেটায় কয়েকজন আহত হয়েছেন।

রোগির স্বজনরা জানান, গত ৯ সেপ্টেম্বর ফুলজান বেগমকে অত্র হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর গত রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে রোগির দেহ থেকে টিউমার অপসারণে অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচার শেষে ওইদিন বিকেল সোয়া ৫টার দিকে রোগিকে অপারেশন থিয়েটার থেকে বের করে আইসিইউতে রাখা হয়। কিন্তু অস্ত্রোপচারকালে অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার কারণে আর জ্ঞান ফিরে আসেনি। বুধবার রোগিকে মৃতু ঘোষণা করা হয়।
তবে নিহতের ছেলে সামাদ রহমানের অভিযোগ, ভুল চিকিৎসায় তিনদিন আগেই তার মা মারা গেছেন। এরপরও অতিরিক্ত বিল আদায়ে সংশ্লিষ্টরা মরদেহ আইসিইউতে রেখে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ তুলেন। এ ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে নিরাপত্তা কর্মীরা রোগির স্বজনদের উপর হামলা করে তাদের রক্তাক্ত জখম করেন।
এদিকে, একইদিনে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিরগাঁওয়ের আরেক রোগি করোনা ইউনিটে মারা যান। তবে রোগির স্বজনরা ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগ তুলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা ও পুলিশ জানায়, উভয় ঘটনায় স্বজনরা বিক্ষোভ করে ভাঙচুর শুরু করলে হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষিদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে রোগির স্বজনদের কয়েকজন আহত হয়েছেন।
হাসপাতালের পরিচালক প্রফেসর ডা. তারেক আজাদ বলেন, উভয় মৃত্যুর ঘটনা প্রায় একই সময়ে ঘটনায় স্বজনরা হুলস্তুল শুরু করেন। করোনায় মারা যাওয়া রোগির স্বজনরা তখন মরদেহ নিয়ে বেরোনোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তাদের কোনো অভিযোগও ছিল না। কিন্তু ফুলজান বেগমের মারা যাওয়ার ঘটনায় তার স্বজনরা হুলস্তুল শুরু করলে ওই রোগির স্বজনরাও ভুল চিকিৎসায় রোগির মৃত্যুর অভিযোগ তুলেন।
তিনি বলেন, রোগির বয়স বেশি। যে কারণে অ্যানেসথেসিয়া দিয়ে আর জ্ঞান ফিরেনি। বিষয়টি সাধারণত খুব কম রোগির বেলায় ঘটে থাকে। যেমনটি ঘটেছে ফুলজান বেগমের বেলায়। কিন্তু স্বজনদের বুঝানোর পরও তারা স্টাফদের মারধর ও ভাঙচুর করেছেন।
রোগির স্বজনদের রক্তাক্ত করার বিষয়ে তিনি বলেন, রোগির স্বজনরা চিকিৎসকদের উপর আঘাত করতে গেলে নিরাপত্তা কর্মীরা বাধা দেয়। তারা ইচ্ছে করে কাউকে আঘাত করেনি। কেননা, শুরু থেকেই এখানে পুলিশ ছিল।
এসএমপির জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা খান বলেন, করোনা আক্রান্ত হয়ে ওই নারীর মৃত্যু ও অস্ত্রোপচারে আরেক নারীর মৃত্যু নিয়ে স্বজনরা অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর করেন। এ ঘটনায় নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



