সিলেটে শুরুতেই লোডশেডিংয়ের সিডিউলে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। দিনের অর্ধেক সময়ই বিদ্যুৎ থাকছে না অনেক এলাকায়। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চাহিদার তুলনায় অর্ধেক সরবরাহ পাওয়ায় লোডশেডিংয়ের সিডিউলে বিপর্যয় দেখা দেয়।
সিডিউল রক্ষা করতে না পারার কথা স্বীকার করে সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১’র মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী দিলীপ চন্দ্র চৌধুরী বলেন, বুধবার সকালে আমাদের চাহিদা ছিল ৭২ মেগাওয়াট। সরবরাহ পেয়েছি ৩৮ মেগাওয়াটের মতো। ফলে অর্ধেকের মতো সরবরাহ পাচ্ছি। এমন হলে তো ১২ ঘণ্টাই লোডশেডিং করতে হবে। তিনি বলেন, চাহিদার চেয়ে সরবরাহ অনেক কম পাওয়ায় সিডিউলও হেরফের করতে হচ্ছে।
কেবল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতাধীন এলাকা নয়, এই চিত্র পুরো সিলেটের। প্রথম দিন থেকেই মানা হচ্ছে না এলাকাভিত্তিক লোডশেডিংয়ের সিডিউল। বরং সিডিউলে নির্ধারিত সময়ের চাইতে তিন থেকে চার গুণ বেশি লোডশেডিং করা হচ্ছে। ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন গ্রাহকরা।
সিলেটে প্রথম দিনেই এলাকাভেদে ৩-৪ ঘণ্টা করে লোডশেডিংয়ের সময় নির্ধারণ করে সিডিউল তৈরি করে বিদ্যুৎ বিভাগ। তবে প্রথম দিন থেকে নিজেদের তৈরি এই সিডিউল রক্ষা করতে পারছেন না তারা।
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার অষ্টগ্রাম এলাকার সায়মা এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী। সায়মা আক্ষেপ করে বলেন, সন্ধ্যা হলেই বিদ্যুৎ চলে যায়। গভীর রাত পর্যন্ত থাকে না। একে তো বিদ্যুৎহীনতা তার উপর তীব্র গরমের কারণে রাতে একেবারে পড়াশোনা করা যায় না।
সিলেট নগরের উপশহর এলাকার গৃহিনী নাজমা বেগম বলেন, আমাদের এখন তিন ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পানি, গরম আর বিদ্যুৎ। বৃষ্টি হলেই ঘরে পানি ঢুকে। গরম তো সবসময় আছেই। আর দিনের বেশির ভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। ফলে ঘরে থাকাও দায়। এ অবস্থায় বিপর্যস্ত হয়ে উঠছে জনজীবন।
এদিকে শহরের চেয়ে গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিং বেশি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ গ্রাহকরা। এসব এলাকায় পিক আওয়ারে বিশেষত রাতে বেশি লোডশেডিং হচ্ছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবিতে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভও করছেন গ্রাহকরা। সোমবার রাতে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন ওসমানীনগর এলাকার পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকরা।
ওই উপজেলার সাদিপুর এলাকার গ্রাহক তাজুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুতের দুর্ভোগ অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। দিনের বেশির ভাগ সময়ই বিদ্যুৎ থাকে না। কোনো সিডিউলই মানা হচ্ছে না।
সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর মহাব্যবস্থাপক সঞ্জীব কুমার রায় বলেন, আমরা চাহিদার ৬০% বিদ্যুৎ পাচ্ছি। বিশেষত পিক আওয়ারে সরবরাহ সবচেয়ে কম মিলছে।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার রাতে আমাদের চাহিদা ছিল ৮৮ মেগাওয়াট। সরবরাহ পেয়েছি মাত্র ৩০ মেগাওয়াট। বুধবার সকালে চাহিদা ছিল ২৫ মেগাওয়াট; পেয়েছি ১৫/১৬ মেগাওয়াট।
সিডিউল রক্ষা করতে না পারার কথা স্বীকার করে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল কাদির বলেন, আমাদের চাহিদার ৭০ শতাংশ সরবরাহ ধরে সিডিউল করতে বলা হয়েছিল। সে অনুযায়ী আমরা এলাকাভেদে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা লোডশেডিং রেখে সিডিউল করেছিলাম। কিন্তু এখন অর্ধেক সরবরাহই পাচ্ছি না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সিডিউল রক্ষা করতে পারছি না।
তিনি বলেন, বুধবার দুপুরে সিলেট জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫৬ মেগাওয়াট। কিন্তু পেয়েছি ৭৮ মেগাওয়াট। আর বিভাগে চাহিদা ২২৬ মেগাওয়াটের বিপরীতে পেয়েছি ১১৪ মেগাওয়াট। ফলে ৫০ শতাংশ লোডশেডিং করতে হচ্ছে। ফলে সিডিউলে বিপর্যয় দেখা দেয়।
নতুনসিলেট২৪ডটকম / এএ
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



