অল্প সময়ে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টির কারণে নগরবাসীকে আকস্মিক জলাবদ্ধতার দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। ফলে নগরের জলাবদ্ধতার জন্য সিসিকের অপরিকল্পিত উন্নয়নকে দায়ি করছেন অনেকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুলে ধরছেন নগর কর্তৃপক্ষের গাফিলতির নানা দিক। অনেকে সরকার কর্তৃক বরাদ্দকৃত অর্ধের সঠিক ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন!
এসব বিষয়কে সামনে রেখে মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) দুপুরে নগরভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সে সময় নগরের জলাবদ্ধতায় ব্যর্থতার ভার নিজের কাঁধে তুলে নেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।
তিনি বলেন, এই নগরের উন্নয়নে যা কিছু করেছি, সব ভাল কাজের অংশীদার কৃতিত্ব আপনাদের। কেবল ব্যর্থতার দায়টুকু আমার। অনেক জায়গায় উন্নয়নকাজ চলমান থাকাবস্থায় বৃষ্টি শুরু হয়ে যায়। ফলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
তিনি বলেন, প্রতিদিন রাত ১১টার পর নগরের বর্জ্য পরিস্কার করা হয়। কিন্তু গত শনিবার (১৬ জুলাই) রাতে এমন ভারি বর্ষণ হবে আগাম জানা ছিল না। যে কারণে নগরের রাস্তাঘাটে থাকা আবর্জনায় পানি নিস্কাশন বাধাগ্রস্থ করে। ফলে মাত্র দেড় ঘন্টার বৃষ্টিতে নগরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। অনেকের বাসা-বাড়িতে পানি উঠেছে। যদিও বৃষ্টি থামার পর পানি নেমে গেছে।
মেয়র বলেন, বঙ্গবীর রোডে যে জলাবদ্ধতা, তা আমাদের উন্নয়ন কাজ চলমান থাকায় হয়েছে। বৃষ্টি চলে আসায় কাজ শেষ করা যায়নি। আর অতিবৃষ্টিতে দলদলি বাগানের টিলা ধসে পলি এসে নগরের ড্রেন ভরে গেছে।
তিনি বলেন, ভারি বর্ষণের সময় যাতে পানি আটকে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি না হয়, এ জন্য ৮টি স্ট্রাইকিং টিম গঠন করা হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে এসব টিম কাজ করবে।
মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন প্রভাব বিশ্বব্যাপী। সিলেটে আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব প্রকটভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে। অস্বাভাবিক তাপদাহের পর রাতে অল্প সময়ে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টির কারণে নগরবাসীকে আকস্মিক দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে।
মেয়র বলেন. জলাবদ্ধতার দুর্ভোগের শিকার আমি নিজেও। শনিবার রাতে ১১টা ২ মিনিট থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ৫৮ মিনিটে ৭০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করে আবহাওয়া অফিস। ওইদিন মোট ৬ ঘন্টায় ১৬৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। যা সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটে কম সময়ে বেশি বৃষ্টির রেকর্ড। এটিকে অতিপ্রাকৃতিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।’
তবে নগরবাসীকে সচেতন হতে আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, বাসা-বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠাননের ময়লা আবর্জনা, পলিথিন রাস্তায় কিংবা ড্রেনে না ফেলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এসসব গিয়ে ড্রেনের ছিদ্রগুলো বন্ধ করে পানি নিস্কাশন ব্যবহত করে।
তিনি আরো বলেন, সিসিকের আওতাধীন পাঠানটুলা-মদীনা মার্কেট এবং সুবহানীঘাট সড়ক সওজের। সেসব এলাকায় ড্রেনগুলোতে আবর্জনার ভাগাড়ে ব্লক থাকে। ড্রেনের সংস্কার কাজ হয় না। আমরা সওজকে বলেছি, তারা মেইনটেইন না করতে পারলে আমাদের দিয়ে দিতে। কেননা, মানুষের ক্ষোভের ঝড় যায় আমাদের উপর দিয়ে। তাছাড়া জল্লারপাড় মার্কেট, ছাপাখানা ও রেস্তোরার ময়লা ড্রেনে ফেলা হয়। চাইলে জরিমানা করার বিধান আছে, কিন্ত করতে গেলে বলবেন, একেতো বিপর্যস্ত তারপর মডার উপর খাড়ার ঘা। তাই নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে নাগরিকদের সহযোগীতা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জলাবদ্ধতা নিরসন করা সম্ভব।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত সচিব) বিধায়ক রায়, প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান, সচিব ফাহিমা ইয়াসমিন এবং সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলরবৃন্দ।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



