হবিগঞ্জে বেড়েছে গরমজনিত বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব। ঘরে ঘরে দেখা দিয়েছে জ্বর, সর্দি, কাশিসহ পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ। রোগীর চাপ বেড়েছে জেলা সদরসহ সকল উপজেলা সদর হাসপাতালেও।
হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের মেডিসিন ও শিশু ওয়ার্ডের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় জ্বর, সর্দি, কাশি, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৫ জন। এর মধ্যে ৩৫ জনই শিশু। বাকিদের মধ্যে বয়স্কদের সংখ্যা বেশি।
এছাড়া গত তিনদিনে এসব রোগে আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন অন্তত আড়াইশ জন। যার সিংহভাগই শিশু। গত ১৪ জুলাই শিশু ভর্তি হয়েছেন ৪৪ জন এবং ১৫ জুলাই ৫৭ জন।
হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আমিনুল হক সরকার বলেন, তীব্র গরমের কারণে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। যে কারণে হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়েছে। ভর্তি রোগীর পাশাপাশি গত কয়েকদিনে আউটডোরে অন্তত কয়েকশ মানুষ জ্বর, সর্দি, কাশিসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের চিকিৎসা নিয়েছেন।
তিনি বলেন, আমরা রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার চেষ্টা করছি। তবে মানুষদেরকে এই গরমে সচেতন হতে হবে। বেশি বেশি পানি পান করতে হবে। তবে অবশ্যই স্বাভাবিক পানি। ফ্রিজের পানি খাওয়া যাবে না। এছাড়া শিশুদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। শিশুদের নিয়মিত গোসল করাতে হবে এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। কোনোভাবেই শিশুদের শরীর ঘামতে দেয়া যাবে না। এজন্য তাদেরকে পাতলা কাপড় পরাতে হবে।
তবে হাসপাতালের চিকিৎসা নিয়ে রোগীদের রয়েছে অভিযোগ। বানিয়াচং উপজেলার ইকরাম থেকে ৮ মাসের শিশুকে নিয়ে হাসপাতালে আসছেন মো. শহিদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, আমার ছেলের ডায়রিয়া হয়েছে। হাসপাতালে আসছি তিনদিন হলো। কিন্তু তেমন ভালো চিকিৎসা পাচ্ছি না। ঠিক সময় ডাক্তাররা রোগী দেখেন না। যে কারণে তিনদিনে আমার বাচ্চার তেমন কোনো উন্নতি হয়নি।
লাখাই উপজেলার বুল্লা এলাকার মো. শামীম আহমেদ বলেন, আমার বাবাকে নিয়ে ১২ দিন ধরে হাসপাতালে আছি। এখানে ভালো চিকিৎসা না পাওয়ায় প্রাইভেটেও দেখিয়েছি। এখন আমার বাবা মোটামুটি সুস্থ আছেন। এদিকে তীব্র গরমের কারণে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না মানুষজন। তাই রাস্তাঘাটও বেশ ফাঁকা। গরমে বেকায়দায় ফেলেছে নিম্ন আয়ের মানুষদের।
নতুনসিলেট২৪ডটকম / এএ
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



