দুর্গম এলাকাগুলোতে ত্রাণ নিয়ে যেতে চাইলে সহযোগীতা করা করা হবে, বলে জানিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ডা. বেনজির আহমদ।দুর্গম এলাকাগুলোতে ত্রাণ পৌঁছনো জরুরী। যেখানে সহজে যাওয়া যায়, যাতায়াত ব্যবস্থা আছে, সেখানে ত্রাণের অভাব হয় না।
তিনি বলেন, আমি দুর্গম এলাকাগুলোতে গিয়েছি। বানভাসী মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি। সেসব এলাকার লোকজন ত্রাণ পাচ্ছে কম। যারা সেসব এলাকায় ত্রাণ নিয়ে যেতে চান, পুলিশ তাদের সহযোগীতা করবে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুন)সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকা কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শন ও বানভাসিদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ শেষে ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়িতে প্রেস ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন।
পুলিশ মহাপরিদর্শক বলেন, যেসব এলাকায় গিয়েছি। জনসাধারণের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছেন সাম্প্রতিককালে এতো পানি কখনো দেখেননি। পুলিশেরও অনেক থানা, ফাঁড়ি, ব্যারাকও তলিয়ে যায়। তারপরও তারা নিজেদেরকে গুঁচিয়ে নিয়ে নৌকা যোগে সাধারণ মানুষকে উদ্ধারে নেমে পড়েন।
তিনি বলেন, এ যাবত ৫ হাজার বানভাসী মানুষকে উদ্ধার করে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসে পুলিশ। অনেক স্থানে থানা-ফাঁড়ি প্রাঙ্গনেও আশ্রয় কেন্দ্র খোলে মানুষকে জায়গা দিয়ে খাবারের যোগান ও ত্রাণ দেওয়া হয়। পুলিশ লাইন থেকে ৩৫ হাজার মানুষকে রান্না করা খাবার সরবরাহ করা হয়েছে।

তারপরও পুলিশের মূল কাজ ছিল বন্যাকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা। সে কাজও তারা স্বতস্ফুর্তভাবে করেছেন। বন্যা পরিস্থিতিতেও এ অঞ্চলের আইনশৃঙখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল, আছে। কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। একই সময় যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ ছিল, বিদ্যুৎ ও নেটওয়ার্ক ছিল না। আমরা ঢাকা থেকে তড়িৎ ব্যবস্থা নিয়ে জেনারেটর, সোলার সিস্টেমস চার্জার পাঠিয়ে ক্রাইসিস মোকাবেলার চেষ্টা করেছি, বলেন তিনি।
ডা. বেনজির আহমদ বলেন, স্থানীয় উদ্যোগের পাশাপাশি পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনো সেসব অঞ্চলে পুলিশ কল্যাল ট্রাস্ট থেকে এক কোটি টাকার ত্রাণ দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় গুরুতর দিয়ে উদ্ধার কাজও চলছে। এ অঞ্চলের আইনশঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি যতদিন এ অবস্থা থাকবে, ততদিন মানুষের পাশে থাকবো পুলিশ। মানুষের দু:খ কষ্ট লাগবে সমন্বিতভাবে উদ্যোগী হয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাবো।
তিনি বলেন, আমি দুযোর্গের মোকাবেলা দেখার জন্য এসেছি। বিশেষ করে সিলেট ও সুনামগঞ্জ পুরোপুরি প্লাবিত হয়েছে। সুনামগঞ্জে কোনো শুকনো জায়গা আছে বলে মনে হয় না। পানি কমতে শুরু করেছে, আশাবাদি দু’একদিনের মধ্যে বন্যা পরিস্থিতি ভাল হবে। অনেকে আশ্রয় কেন্দ্র ছাড়তে শুরু করেছে। যেহেতু বাংলাদেশ পুলিশ গ্রামে-গঞ্জে ছড়িয়ে ছিটিয়ে কাজ করে, তাই যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে সবার আগে পুলিশ যায়।
থানাগুলোতে উদ্ধারকারী বোটের বিষয়ে তিনি বলেন, এটা সরকারি সিদ্ধান্তের বিষয়। তবে এসব থানা এলাকায় উদ্ধারকারী জলযান থাকা দরকার। কেননা যেকোনো ধরণের পরিস্থিতিতে সবার আগে পুলিশকে দৌঁড়াতে হয়। এরপর বিশেষায়িত লোকজন আসেন। প্রথমেতো মানুষ পুলিশকে ফোন করে। যেহেতু আমাদের সব কিছুতেই জনগণের পাশে থাকতে হয়। তাই দুর্যোগ মোকাবেলায় সব ধরণের সরঞ্জান থানা এলাকাগুলোতে থাকা দরকার।
নৌ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, দেশিয় নৌকা ব্যবহার করেই নৌ পুলিশের যাত্রা শুরু হয়। এখন দেশিয় নৌকাগুলোকে রিপ্লেস করার চেষ্টা করছি। ভবিষ্যত পরিকল্পনা হচ্ছে, সব আধুনিক নৌযান দেওয়া।
পাথর কোয়ারি খোলে দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এ নিয়ে উচ্চ আদালতেও সিদ্ধান্ত আছে। সেকারণে এ নিয়ে উচ্চ আদালতের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা ঠিক না।
ট্যুরিস্ট পুলিশের বিষয়ে তিনি বলেন, ৭০০ ট্যুরিস্ট পুলিশ দিয়ে সারা দেশে অন্তত ১০০০ পর্যটন এলাকা সামাল দিতে হয়। কিন্তু জনবল চাইলেই পাওয়া যায়না, সরকারি সিদ্ধান্ত আছে। তবে এই সেক্টরে নিরাপত্তার চিন্তা করে সরকারি সম্মতি মিললে লোকসংখ্যা আরো বাড়ানো হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন আহাম্মেদ, পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন পিপিএম,সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান প্রমুখ।
এরআগে পুলিশ সুপার কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় বৃক্ষ রোপন করেন এবং কিছু সংখ্যক মানুষকে ত্রাণ দিয়ে ত্রাণ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এরআগে সকালে তিনি হেলিকপ্টরে ঢাকা থেকে নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ দুর্গত এলাকা পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ শেষে সিলেটে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌছান। সেখান থেকে কোম্পানীগঞ্জ যাওয়ার আগে তিনি সিলেট সদরের সাহেবের বাজার এলাকায় এসএমপি পুলিশের উদ্যোগে আয়োজিত ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নেন।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



