সিলেটসহ দেশের ১৭টি জেলা বন্যাদুর্গত। নিম্নাঞ্চল থেকে শুরু করে শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে ডুবে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন এসব জেলার মানুষ। থাকার জায়গা, খাবার, পানি, বিদ্যুৎ সংকটে মানবেতর অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন বানভাসী মানুষ। এমন অবস্থায় কেমন আছেন বন্যাদুর্গত জেলার কারাবন্দিরা? কীভাবে চলছে কারা ব্যবস্থাপনা?
সিলেট ও সুনামগঞ্জ কারাসূত্রে জানা গেছে, বন্যা ভয়াবহ রূপ নেয়ায় পানি উঠেছিল কারাগারেও। এতে জেলার কারাগারে বন্দীদের খাবার, বিদ্যুৎ, পানি ও মোবাইল নেটওয়ার্কের সমস্যায় পড়তে হয়। পরে সেনাবাহিনীর সহায়তায় সমস্যার সমাধান করে কারা কর্তৃপক্ষ।
বুধবার দুপুরে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনার কারাগারের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসব জেলার তিনটি কারাগারে সাড়ে তিন হাজারের বেশি বন্দী ছিল। এর মধ্যে দুটি কারাগার বন্যাকবলিত হয়। নেত্রকোনা কারাগারের অবস্থান উঁচু জায়গায় হওয়ায় সেখানে পানি ঢোকেনি।
মে মাসের শেষ দিকে একবার বন্যায় আক্রান্ত হয়েছিল সিলেট। এই বছর সেখানে তিন দফা বন্যা দেখা দিল। সিলেট, সুনামগঞ্জসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোয় হঠাৎ শুরু হওয়া বন্যার পেছনে ওপার থেকে নেমে আসা ঢল ও অতিবৃষ্টির বাইরে আরও কয়েকটি কারণ দেখছেন গবেষকরা।
সিলেট কারাগার সূত্র জানায়, পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় সিলেট জেলা কারাগারে দুই দিন আগে বন্যার পানি নেমে গেছে। এই কারাগারে আড়াই হাজারের মতো বন্দী রয়েছেন। বন্যায় কারাগারে পানি উঠেছিল নিচ তলার সিঁড়ি পর্যন্ত। কারাগারে ছয়তলা ভবন থাকায় বন্দীদের থাকার তেমন সমস্যা হয়নি। তবে খাবার পানি, বিদ্যুৎ ও মোবাইলের নেটওয়ার্ক ছিল না। ফলে বন্দীরা তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি ওই সময়।
সিলেট জেলা কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার মো. মঞ্জুর হোসেন বলেন, ‘আমাদের জেল খানাটি নদীর পাশে। পানি আরও বেশি উঠলে বন্দীদের দ্বিতীয় তলায় ওঠানোর পরিকল্পনা ছিল আমাদের। তবে সেই পরিস্থিতি না হওয়ায় সেটার দরকার হয়নি।’
নদী গবেষকরা বলছেন, এবারের এ রকম আকস্মিক বন্যার পেছনে ভারতের আসাম ও মেঘালয়ে অতিবৃষ্টি একটি বড় কারণ হলেও এর বাইরে আরও কিছু উপাদান কাজ করেছে।
সুনামগঞ্জের বাসিন্দারা বলছেন, বহু বছরের মধ্যে তারা এত মারাত্মক বন্যার মুখোমুখি হননি। সব মিলিয়ে ৩৫ লাখের বেশি মানুষ পানি বন্দী হয়ে পড়েছে বলে কর্তৃপক্ষ বলছে।
সুনামগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার নুরশেদ আহমেদ ভূইয়া বলেন, ‘বন্যা পরিস্থিতিতে আমাদের কারাগারে দুই দিন পানি ছিল। তবে এখন পানি নেমে গেছে। আমাদের কারাগারের এখন কোনো সমস্যা নেই। পানি সরবরাহ ও বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক হয়েছে।’
সেনাবাহিনীর সহায়তার কারণে খুব দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান জেল সুপার। তবে মোবাইল নেটওয়ার্কের সমস্যা এখনো কিছুটা রয়েছে।
সিলেট, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ বা নেত্রকোনা হাওর এলাকায় বেশির ভাগ জনপদে শহর রক্ষা বাঁধ নেই। ফলে কোন কারণে হাওরে বা নদীতে পানি বাড়তে শুরু করলে তা খুব দ্রুত শহরে বা আবাসিক এলাকায় ঢুকে পড়ে।
নেত্রকোনা জেলা কারাগারের জেল সুপার আবদুল কুদ্দুস বলেন, ‘আমাদের কারাগারে আজকে ৬৩২ জন বন্দী রয়েছে। আমাদের কারাগারে পানি ঢোকেনি। খাবার, পানি ও বিদ্যুতেরও কোনো সমস্যা ছিল না।’
নতুনসিলেট২৪ডটকম / এএ
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



