বিদ্যুৎ সরবরাহ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক সচল হওয়ার পর থেকে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে বানের পানিতে মৃত্যুর খবর আসছে। গতকাল রোববার রাত পর্যন্ত সিলেট সদরে ৩ জন, সুনামগঞ্জের ছাতকে ৩জন, মৌলভীবাজারে ২জন শিশুসহ ৮জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৭ জন বানের পানিতে ভেসে নিখোঁজ ছিলেন। অন্যজন টিলা ধসে মৃত্যু হয়।
সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নে পৃথক দাদী-নাতীসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হচ্ছেন- সদর উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা এ কে আবুল কাশেম (২৪) ও তার দাদী ছুরেতুন নেছা (১০৫)। তাদের বাড়ি সুজাতপুর গ্রামে। অপর ব্যক্তি হচ্ছেন আব্দুল হাদি (১৮)। তিনি নলকট গ্রামের বাসিন্দা। সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা প্রভাষক সেলিম আহমদ জানান, আবুল কাশেম তার পরিবারের সাথে মদীনা মার্কেট এলাকায় বসবাস করেন। বন্যার পানি বৃদ্ধির খবর পেয়ে গ্রামের বাড়ি থেকে বৃদ্ধ দাদী ও চাচাতো বোনকে উদ্ধার করতে বৃহস্পতিবার সকালে একটি নৌকা নিয়ে যান। নৌকা নিয়ে দাদীকে নিয়ে শহরে ফেরার পথে সুজাতপুর আইডিয়াল স্কুল এলাকায় পানির স্রোতে নৌকাটি ডুবে যায়। এসময় তার ছোট চাচাতো দুই বোন উল্টে যাওয়া নৌকায় ধরে প্রাণে বাঁচলেও দাদী নাতীকে ধরে বাঁচার চেষ্টা করেন। এতে দু’জনই পানিতে তলিয়ে যান। শুক্রবার দাদী ছুরেতুন নেছার লাশ ভেসে উঠে। গতকাল রোববার সকালে আবুল কাশেমের লাশ একই জায়গায় ভেসে উঠে। দু’জনের লাশ দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সেলিম আহমদ জানান, আবুল কাশেম খুব বিনয়ী ছিল। সে সবসময় মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকতো। তার এই অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এদিকে, কান্দিগাঁও ইউনিয়নের নলকট গ্রামে গত বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩ টার দিকে বন্যার পানির তীব্র স্রোতে আব্দুল হাদি (১৮) নামের এক তরুণ ভেসে যান। গতকাল রোববার তার বাড়ির পাশে লাশ ভেসে উঠে। হাদি নলকট গ্রামের প্রবাসী কাছা মিয়ার ছেলে। নলকট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালিক মামুন লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ছাতক পৌরসভার কানাখালি রোডের আখড়া এলাকায় পিযুষ (৪০) ও ছৈলা-আফজালাবাদ ইউনিয়নের রাধানগর এলাকার জুনেদ (২৭) পানিতে ডুবে মারা গেছেন। জুনেদ গত শনিবার ছাতক থেকে বাড়িতে ফেরার পথে নিখোঁজ হন। গতকাল রোববার তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুনুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, ছাতকের জাউয়া বাজার থেকে নিখোঁজ স্কুল ছাত্রী হানিফা বেগমের (৯) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল রোববার বিকেলে পার্শ্ববর্তী কাইতকোনা এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত হানিফা বেগম শান্তিগঞ্জ উপজেলার বড়মোহা গ্রামের মৃত জিলু মিয়ার কন্যা। মামার বাড়িতে বেড়াতে এসে বানের পানিতে ডুবে মারা যায় হানিফা।
নিহতের মামা ছফেদ আলী পীর জানান, হানিফাসহ তারা নৌকাযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। জাউয়া ডিগ্রি কলেজের নিকট তাদের বহনকারী নৌকা ডুবে যায়। নৌকার আরোহী সকল রক্ষা পেলেও হানিফাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। সে বানের পানিতে ভেসে যায়। ঘটনার দু’দিন পর গতকাল রোববার বিকেলে তার লাশ ভেসে উঠে।
খবর পেয়ে স্বজনরা লাশ উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। এ ঘটনায় হানিফার পরিবারে শোকের মাতম চলছে।
অপরদিকে, মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের আদিত্যের মহাল এলাকায় ঢলের পানিতে গত শনিবার তলিয়ে যাওয়া এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল রোববার তার লাশ ভেসে উঠে। তবে ওই শিশুর নাম জানা যায়নি। এছাড়া, উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নেরর আয়েশাবাদ চা বাগানে টিলা ধসে রাজন ব্যুনার্জি (৬০) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
নতুনসিলেট২৪ডটকম / এএ
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



