বৃষ্টিস্নাত প্রকৃতি, মেঘাচ্ছন্ন আকাশ। আষাঢ়ের শুরুর দিনে বৈরি আবহাওয়ায়ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ শুরু হয় সিলেটের বিয়ানীবাজার পৌরসভায় নির্বাচনে।
প্রথমবারের মতো ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট প্রদানে আগ্রহের কমতি ছিল না পৌরবাসীর। দ্বিতীয় বারের মতো অনুষ্ঠিত পৌর নির্বাচনে বুধবার (১৫ জুন) সকাল ৮টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়।

তবে ইভিএম মেশিনে ভোট দিতে গিয়ে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ভোটারদের অনেককে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।
ইভিএম মেশিনে আঙ্গুলের ছাপ (ফিঙ্গার) না থাকায় চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে ভোটারদের অনেককে। এরপর বিশেষ প্রক্রিয়া অবলম্বন করে অনেকের ছাপ মিলছে, আবার কারো মিলছে না। এমন অবস্থায় ভোটেও বিলম্ব হচ্ছে। ফলে ভোট কাস্টিং কম হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভোটারদের অভিযোগ, ইভিএম মেশিনে তাদের আঙ্গুলের ছাপ না আসায় বা ফিঙ্গার মিস ম্যাচিং হওয়ায় প্রিজাইডিং অফিসার অনেককে ফিরিয়ে দিয়ে বেলা ২টার পর ফের ভোট দিতে যেতে বলছেন। যদিও বেশিরভাগ ভোটার ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট দিতে পেরে খুশি।
পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা খালিক মিয়া বলেন, ‘প্রথমবার মেশিনে ভোট দিলাম। এই পদ্ধতিতে ভোট দেওয়া অনেক সহজ। তবে তার এলাকার অনেকের আঙ্গুলের ছাপ আসেনি। কর্মকর্তারা তাদের পরে যেতে বলেছেন।
পৌর এলাকার খাসারিপাড়ার বাসিন্দা ময়মন বিবি ভোট দিতে গেলেও আঙ্গুলের চাপ আসেনি। পরে অনেক চেষ্টায় ভোট দিতে পেরেছেন বলে জানান তিনি।
বিয়ানীবাজার কসবা বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে দেখা যায়, কয়েকজন নারী ভোটারের আঙ্গুলের ছাপ আসেনি। তাই ভোট দেওয়া অপেক্ষায় তাদের বারান্দায় অপেক্ষমান থাকতে দেখা যায়। তাদের মধ্যে মোবাররাকা বিবি ভোট দিতে পারলেও তার নাতনির আঙ্গুলের ছাপ না আসায় ভোট দিতে পারেননি। তাই তাদের পরে আসতে বলা হয়। এ কারণে ভোট দেওয়া অপেক্ষায় বারান্দায় বসেছিলেন। আর ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট মন্থর (স্লো) গতিতে কাস্ট হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বিয়ানীবাজার পৌরসভা নির্বাচনের সহকারি রিটানিং কর্মকর্তা সৈয়দ কামাল হোসেন বলেন, প্রত্যেক কেন্দ্রেই ফিঙ্গারিং সমস্যা পাওয়া যাচ্ছে। সমস্যা হলেও তাদের এক্সপার্টরা তাৎক্ষনিক গিয়ে সমাধান করে দিচ্ছেন। অনেকের আঙ্গুলের ছাপ একেবারে না আসায় তাদের বেলায় বিকল্প ব্যবস্থা নিচ্ছেন এক্সপার্টরা।
তিনি বলেন, বেলা ২টা পর্যন্ত প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট পড়েছে। তবে বৃষ্টির কারণে ভোটার উপস্থিতি কম, যে কারণে কাস্টিং কম হয়েছে।
এদিকে, পৌরসভার শ্রীধরা কেন্দ্রে ইভিএম মেশিনে মন্থরগতিতে কাস্টিং হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এসময় কর্তব্যরত পুলিশ এসে ভোটারদের অনেককে ধমক নিভৃত করার চেষ্টা করতে দেখা গেছে।
অবাদ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ভোট কেন্দ্র প্রতি একজন করে মোট ৯ জন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত রয়েছেন। নিরাপত্তায় বিজিবি, পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে ১০ জন, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১০ জন এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৪৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পৌর এলাকায় মোট ভোটার ২৭ হাজার ৭৯৩ জন। ১০টি ভোটকেন্দ্রে ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন।
স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী অজি উদ্দিন (নারিকেল গাছ) বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ কেন্দ্রে ভোট প্রদান কালে বলেন, অনেক ভোটার ফিঙ্গার প্রিন্ট না মেলার কারণে ভোট দিতে পারছেন না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গুরুত্বের সঙ্গে দেখার অনুরোধ জানান।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



