মৌলভীবাজারের চাতলাপুর ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট হয়ে গত ২ বছর যাবত বৈধপথে ভারতে যাওয়া আসা বন্ধ রয়েছে। ২০২০ সালে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে ভারত সরকার এই সীমান্তে সব ধরনের যাওয়া আসা বন্ধ করে দেয়। ইমিগ্রেশন চালু থাকলে ভারতে চিকিৎসা বা আত্মীয়তার কারণে অনেক মানুষ প্রতিদিন সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতে যাতায়াত করতেন। আর দুই দেশের সরকারও বড় অংকের রাজস্ব আয় করতো।
এদিকে সীমান্তে বৈধ পথে যাওয়া আসা বন্ধ থাকায় অবৈধ পথে সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার ঘটনা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেড়ে গেছে। আর এভাবে সীমান্ত পাড়ি দিতে গিয়ে প্রতি মাসে দুই দেশের অসংখ্য নাগরিককেও নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বা দুই দেশের পুলিশের হাতে আটক হয়ে অনেকে আবার মাসের পর মাস জেল কাটতে হচ্ছে ।
পুলিশ ও বিজিবি সুত্রে জানা যায়, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে এই চেকপোস্টসহ ভারতে যাওয়া আসার সব বিমান জল ও স্থলপথ বন্ধ করে দেয় ভারত সরকার। পরে ধাপে ধাপে অন্যান্য বৈধপথে বাংলাদেশ ভারত যাতায়াত শুরু হলেও গত ২ বছরে ধরে এই চেকপোস্ট বন্ধ রয়েছে। আর চেকপোস্ট বন্ধ থাকায় জরুরি প্রয়োজনে অবৈধপথে সীমান্ত পাড়ি দিচ্ছে দুই দেশের নাগরিকরা। এভাবে সীমান্ত পাড়ি দিতে গিয়ে গত ২ মাসে অন্তত ২৫ জন বিজিবি ও বিএসএফ’র হাতে আটক হয়েছে।
সর্বশেষ এভাবে সীমান্ত পাড়ি দিতে গিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে কুলাউড়া উপজেলার লালারচক সীমান্তে ২ বাংলাদেশি নাগরিক আটক হন। অবৈধ পথে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরার পথে বিজিবি সদস্যরা কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর সীমান্তের লালারচক এলাকায় তাদের আটক করে। ধৃতরা হলেন, সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার থানার চণ্ড্রীপুর গ্রামের মৃত বঙ্কীর স্ত্রী আয়মনি (৭০) ও সিলেট জেলার কোতয়ালী থানার জামতলা গ্রামের গৌতম কর্মকারের স্ত্রী কাজল কর্মকার (৪৪)।
বিজিবি ৪৬ ব্যাটেলিয়ন সুত্রে জানা যায়, এরা ভারতে তাদের আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়েছিলো।
এর আগে ৩ জুন রাতে একইভাবে কুলাউড়া উপজেলার মুড়ইছড়া সীমান্তে রুহিদাস সরকার (১৮) নামে এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করে বিজিবি । আটক রুহিদাস ভারতের কৈলাশহর থানার দুলাল সরকারের ছেলে।
এছাড়া ২৪ মে রাতে কুলাউড়া উপজেলার শিকড়িয়া সীমান্তে দুই বছরের শিশুসহ শিপ্রা দাস( ৩৫) নামক এক গৃহবধূকে আটক করে তারা ।
শরীফপুর সীমান্তের এখলাচ মিয়া জানান, এভাবে প্রতি মাসে অবৈধ পথে অসংখ্য মানুষ সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করি। তিনি বলেন বৈধভাবে যাওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় তারা ওইভাবে যাওয়া আসার চেষ্টা করে। তাদের অনেকে আবার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বা দুই দেশের পুলিশের হাতে আটক হয়ে মাসের পর মাস জেল কাটতে হচ্ছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৪৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (সিও) মিজানুর রহমান শিকদার বলেন, বিজিবির দায়িত্ব সীমান্ত পাহারা। এ বিষয়টি দেখার দায়িত্ব পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। তারপরও আমাদের পক্ষ থেকে কিছু করণীয় থাকলে তা করবো।
মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মীরার নাহিদ হাসান এ প্রসঙ্গে বলেন, দেশের অন্য সীমান্ত চেকপোস্টগুলো ইতোমধ্যে চালু হয়েছে। চাতলাপুর ইমিগ্রেশন চেকপোস্টও চালুর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।
নতুনসিলেট২৪ডটকম / এএ
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



