প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রকোপে বিপর্যস্ত মানবতা। কর্ম বন্ধ হওয়ায় সাধারণ মানুষের অভাবও বেড়ে গেছে। অভাবের তাড়নায় অস্থির মানুষ, স্বাভাবিক জীবন-যাপনে গতি হারিয়ে ফেলেছেন। অধিকাংশ মানুষই অসহায় দারিদ্রপীড়িত। করোনার কারণে এ অসহায়ত্ব বেড়ে গেছে অনেকগুণ। ফলে মানবতার উপকারে আসে এমন চিন্তাভাবনাও লোপ পেয়েছে। বৈশ্বিক মহামারি করোনায় দুঃস্থ মানবতার সেবায় মানুষের রয়েছে অনেক করণীয়।
নগর-শহরে সরকারি ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি মিডিয়া কাভারেজ পেতে অনেকে সাহায্য সহযোগীতা নিয়ে এগিয়ে আসেন। কিন্তু গ্রামে তা অনুপস্থিত। গ্রামের নিভৃতচারি মানুষজন প্রায়ই বঞ্চিত থাকেন। অথচ অনেকের ঘরে নুন আনতে পান্তা ফোরায়।
এঅবস্থায় দোয়ারে কড়া নাড়ছে ঈদ। রাত পোহালেই পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলমানদের ঈমান পরিক্ষার ঈদ। ত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত করার দিন। ফলে করোনার অতিমারিতে দুর্বিপাকে পড়া গ্রামের হতদরিদ্র কিছু মানুষের হাতে ঈদ উপহার তুলে দিয়েছেন সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের ঘিলাছড়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি ১৯৯৭ ব্যাচের বন্ধুরা।
দেশ-বিদেশ ছড়িয়ে থাকা সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের ঘিলাছড়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি ১৯৯৭ ব্যাচের বন্ধু মহলের উদ্যোগে মঙ্গলবার (২০ জুলাই) বিকেলে ৯০টি পরিবারের মধ্যে ঈদ উপহার হিসেবে খাবার সামগ্রি বিতরণ করা হয়। এদিন বিকেলে ঘিলাছড়া ইউনিয়নের উত্তর বাদেদেউলী ’৯৭ ব্যাচ বন্ধুমহল’ গ্রুপের চেয়ারম্যান সামাদ হোসেনের বাড়িতে তাঁরই সভাপতিত্বে ঈদ সামগ্রি আয়োজন করা হয়। বন্ধুমহলের সদস্য সাংবাদিক নাসির উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন, যুবনেতা সামাদুল কমর চৌধুরী লিটন, ব্যবসায়ী শাহিনুল ইসলাম শাহিন, সরকারি চাকুরীজীবী দিলীপ কুমার দাস, ব্যবসায়ী এনামুল ইসলাম এনাম, ফজলুল করীম।
এসময় বন্ধু মহলের সদস্যরা বলেন, দেশ-বিদেশ ছড়িয়ে থাকা ঘিলাছড়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি ১৯৯৭ ব্যাচের বন্ধু মহলের সদস্যরা বিগত বছরগুলোতেও ঈদ উৎসবেও সামর্থ অনুযায়ী সহযোগীতা নিয়ে অতি দরিদ্র মানুষের পাশে ছিলেন। গত বছরে করোনার মহামারি শুরুর দিকে থেকেও এখনো অসহায় মানুষের পাশে রয়েছি আমাদের এই ক্ষুদ্র নিয়ে। আমরা লোক দেখানোর জন্য এসব কাজ করছি না। মিডিয়া কাভারেজ পাওয়ার জন্যও না। তারপরও আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস বৃত্তশালীদের যাতে হতসরিদ্রদের পাশে দাঁড়াতে আগ্রহের সৃষ্টি করে, সেই মানসিক থেকে প্রচারনার প্রয়োজন মনে করেছি। কেবল ঈদের দিনটিতে নয়, আমরা চাই যে কোনো দুর্যোগ দুর্বিপাকে শহরের মানুষের পাশাপাশি গ্রামের অসহায় দরিদ্র মানুষ যেনো সমান প্রাধান্য পান।

বক্তারা আরো বলেন, গ্রামে দরিদ্রসীমার নীচে বেশি সংখ্যক মানুষের বসবাস। অধিকাংশ হতদরিদ্র, কর্মহীন, বয়স্ক মানুষ। ইউনিয়ন পরিষদ মারফতে সরকারি সাহায্য আসলেও তা সীমিত সংখ্যক মানুষের হাতে পৌছায়। কেননা, একজন ইউপি সদস্য ৫ প্যাকেট ত্রাণ পেলে তার কিইবা করার আছে? এমন প্রশ্ন রেখে বন্ধু মহলের বক্তারা আরো বলেন, বিগত দিনে করোনাকালে গ্রামে শিশু খাদ্য পৌছলেও তা কয়টি পরিবার পেয়েছে? তা খতিয়ে দেখলে ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠবে। তাছাড়া সাহায্য পেতে হলে চেয়ারম্যান-মেম্বারের কাছে অসংখ্যবার ধর্না দিতে হয়। যে কারণে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি ও ব্যক্তি উদ্যোগে বৃত্তশালীদেরও গ্রামীণ জনপদে হতদরিদ্র মানুষের সাহায্যার্থে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান বন্ধু মহলের সদস্যরা।
এরআগে ঈদ উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বের শুরুতে দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা রাসিক আহমদ।
এদিকে, ঈদ উপহার বিতরণপূর্ব এক আলোচনা সভায় বন্ধুমহলের সদস্যরা ’৯৭ ব্যাচ জনকল্যাণ ট্রাস্ট’ নামে সংগঠন প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ঐক্যমত পোষন করে বলেন, ট্রাস্ট গঠনের মাধ্যমে হতদরিদ্র মানুষের যেকোনো সহযোগীতায় পাশে দাঁড়ানোর সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা করা সম্ভব।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



