আব্দুল মালিক (৫২)।মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার তালিমপুরের বাসিন্দা করোনা আক্রান্ত হন দুই সপ্তাহ আগে। ভর্তি হন সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে। সেখান থেকে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অবস্থার অবনতি হলে করোনার বিশেষায়িত শহীদ ডা. শামসুদ্দিন হাসপাতালে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সোমবার (১৯ জুলাই) সকাল ১০টায় মৃত্যু বরণ করেন। চিকিৎসকরাও তাকে বাঁচাতে প্রাণান্তর চেষ্টা করেছেন।
৩ সন্তানের জনক আব্দুল মালেককে হারিয়ে বাকরূদ্ধ স্বজনরা। অসময়ে তার এই চলে যাওয়া কোনো ভাবেই মেনে নিতে পারছেন না পরিবারের লোকজন। আব্দুল মালেকের মতো প্রতিদিন করোনায় প্রাণহাণির ঘটনা ঘটছেই। হাসপাতালের পাশে গেলেই শোনা যায় স্বজনদের গগণ বিদারী আর্তনাদ। প্রতিদিন এভাবে মৃত্যুর মুখে পড়তে হচ্ছে অনেককে। আক্রান্ত হচ্ছেন শতে শতে।
সিলেটে করোনার এমন ভয়াবতায় হাসপাতালেও শয্যা খালি নেই। আর আইসিইউ, সেতো সোনার হরিণ। প্রতিদিনই হাসপাতালগুলো শয্যা পরিপূর্ণ থাকছে রোগিতে। রোগির অনুরোধ রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসরা। অনেক সময় তারাও অপারগতা প্রকাশ করছেন। সিলেটে করোনার যখন এ অবস্থা, তখন স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে অনিহা মানুষের।সচেতনতার অভাব লক্ষ্য করা গেছে সবখানে।
বিশেষ করে পবিত্র ঈদুল আজহায় প্রতিটি পশুর হাতে মানুষের ঢল। তাদের বেশিরভাগেই স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ না করতে দেখা গেছে। প্রশাসন সতর্ক থাকলে বিপুল জনসমাগম স্থলে কার্যত অসহায় তারা। পশুর গরু ব্যবসায়ীদের বেশিরভাগেই মাস্ক ব্যবহার করেন না। কেউ মাস্ক মুখে লাগালেও থুতনিতে ঝুলিয়ে রাখেন।
একই অবস্থা নগরের বিভিন্ন স্থানে, বিপনী বিতান, মার্কেট থেকে ফুটপাতেও। কোথাও যেনো স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই।
সরেজমিন দেখা গেছে, নগরে কাজিরবাজার ব্যতিরেকেট ৩টি বৈধ পশুর হাটের ইজারা দিলেও শেষ সময়ে পথে পথে বসছে পশুর হাট। এ কারণে প্রকৃত ইজারাদারগণ ক্ষতিগ্রস্থ হলেও পদক্ষেপে যায়নি সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) কর্তৃপক্ষ।
পশুর হাট ইজারার দায়িত্বে থাকা সিসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) রুহুল আলম বাংলানিউজকে বলেন, আমরা কেবল মাঠ ইজারা দিয়েছি। পথে পথে পশুর হাট বসলে, তা অপসারণের দায়িত্ব পুলিশের। তাছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মানাতে প্রশাসনতো আছেই।
সোমবার (১৯ জুন) বিকেলে নগরের দক্ষিণ সুরমার খোজারখলায় রাস্তার পাশে হাট বসানো নিয়ে পুলিশ বাধা দিলে এলাকাবাসি উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়, রাস্তা দখল করে অবৈধ হাট যারাই বসাচ্ছেন, তাদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে। কিন্তু পরক্ষণে আবারো হাট বসানো হয়।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, করোনা আক্রান্তদের ৭৮ শতাংশ ডেল্টা ভেরিয়েন্ট। এরমধ্যেই বাংলাদেশে সিলেট সীমান্ত এলাকা দিয়ে ঈদকে সামনে রেখে আসছে গরুর চালান। যে কারণে সীমান্তবর্তী সিলেট অঞ্চলে ডেল্টা ছাড়াও নতুন কোনো ভেরিয়েন্ট ছড়িয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় পরিচালক হিমাংশু লাল রায় বলেন, হাসপাতালে রোগিদের স্থান সংকুলান রয়েছে। হাসপাতালগুলো ওভারলোডেড। এ অবস্থায় মানুষকে সচেতন না হলে নিজে নিজেই বিপদের সম্মুখীন হবেন। অন্তত মাস্কটা নাক থেকে না নামানোর অনুরোধ করেন তিনি।
সম্প্রতি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বাহিরের গরু না আসার বিষয়ে প্রশাসনকে অনুরোধ করেন। মূলত; পশুর হাট থেকে করোনার ভারতীয় ভেরিয়েন্ট যাতে না ছড়ায়, এ জন্য সতর্কবার্তা দেন তিনি। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার পরও সিলেট নগরের হাটগুলোতে আসছে ভারতীয় গরুর চালান। এতে করে চরম ঝুঁকির মধ্যে এ অঞ্চলের মানুষ। পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে বলে চিকিৎসকরা।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



