মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে টানা তিনদিন চেষ্টার পর অবশেষে একটি কাল নাগিনী সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে শ্রীমঙ্গলের কালিঘাট এলাকার জুয়েল কানুর বাড়ি থেকে সাপটি উদ্ধার করা হয়।
বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল বলেন, ২৫ মে জুয়েলের তিনতলা বাড়ির অদ্ভুত রঙের একটি সাপ দেখা গেছে বলে আমাদের ফোনে জানানো হয়। সাপটি ছোট আকৃতির হলে দেখতে ভীতিকর। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ওই বাড়িতে ছুটে যাই। কিন্তু পুরো ছাদ তল্লাশি করেও সেদিন সাপটির সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরদিন আবারো সাপটি দেখা গেছে এমন খবর পেয়ে ওই বাড়িতে যাই। কিন্তু সেদিনও তল্লাশি করে সাপটির অস্তিত্ব মেলেনি। পরপর দুদিন সাপটি দেখে বাড়ির সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরে শুক্রবার সকালে বাড়িটির ছাদে ফের সাপটি দেখা যায়। এরপর বিভিন্ন স্থানে খুঁজে সাপটির সন্ধান পাওয়া যায়। পরে প্রাণীটিকে উদ্ধার করে বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনে নিয়ে যাওয়া হয়।
স্বপন দেব সজল বলেন, সাপটির নাম কাল নাগিনী। দেখতে অপরূপ সুন্দর। সাপটির শরীরজুড়ে নানা রঙের আবরণে ঢাকা। এর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের পর এটিকে অবমুক্ত করা হবে।
কাল নাগিনী সম্পর্কে বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা জোহরা মিলা জানান, দেশে পাওয়া দৃষ্টিনন্দন সাপগুলোর মধ্যে কাল নাগিনী (Ornate Flying Snake) অন্যতম। অঞ্চলভেদে সাপটিকে উড়াল সাপ, সুন্দরী সাপ, কাল সাপ ইত্যাদি নামেও ডাকা হয়। ইংরেজি নামের সঙ্গেও ‘ফ্লাইং স্নেক’ রয়েছে, তবে সাপটি মোটেও উড়তে পারে না। এটি গাছের উঁচু ডাল থেকে নিচু ডালে লাফিয়ে নামে। কাল নাগিনী দিবাচর ও শান্ত স্বভাবের সাপ। খুব বেশি বিরক্ত না হলেও কামড়ায় না। এরা গিরগিটি, বাদুড়, ইঁদুর, ছোট পাখির ডিম ও কীটপতঙ্গ খায়। এরা সাধারণত পোকামাকড়, টিকটিকি, গিরগিটি, ব্যাঙ ও ছোট পাখি ইত্যাদি খায়। সাধারণত মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত এদের প্রজনন মৌসুম। সাপটি একবারে ৬-১২ টি ডিম পাড়ে যা থেকে দুই মাস পর বাচ্চা ফোটে।
নতুনসিলেট২৪ডটকম / এএ
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



