সুনামগঞ্জের উজানের পাহাড়ি ঢলে সুরমা নদীসহ সকল শাখা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে প্লাবিত হচ্ছে জেলার নিম্নাঞ্চল। ঢলের পাশাপাশি বৃষ্টিপাতের কারণে ধানসহ ডুবে যাওয়া ফসল না শুকাতে পেরে আরও বিপাকে হাওরের কৃষকরা।
সম্প্রতি জেলায় ১৫টিরও বেশি হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙে পানি ঢোকায় তড়িঘড়ি করে ধান কেটে নিয়েছিলেন যেসব কৃষক, তারাও নতুন বিপদের সম্মুখীন। বৃষ্টির কারণে ধান শুকাতে না পারায় চারা গজিয়ে গেছে এসব ধানে। চারপাশে পানি থৈ থৈ করায় রাস্তাগুলোতেই ধান ও বাদাম শুকানোর চেষ্টা করছেন কৃষকরা।
এদিকে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জে নদনদী ও হাওরের পানি ক্রমেই বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টার পাহাড়ি ঢলে জেলার দোয়ারাবাজার ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলাসহ কয়েকটি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে করে খরচার হাওরের উঁচু এলাকার প্রায় এক হাজার হেক্টর বোরোধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের গজারিয়া রাবারড্যাম এলাকার দুটি সড়ক ভেঙে গেছে।
গতকাল সকাল থেকে বিকালে পর্যন্ত সুরমা নদীর পানি বিপত্সীমা ছুঁই ছুঁই অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
স্থানীয়রা জানায়, জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার খরচার হাওরের প্রায় আট হাজার হেক্টর বোরো জমির ধান চাষাবাদ হয়েছিল। এর মধ্যে হাওরের ভেতরের ধান কাটা শেষ। বর্তমানে উঁচু জায়গায় ধান কাটা চলছিল। কিন্তু হঠাৎ পাহাড়ি ঢলের পানিতে হাওরের এক হাজার হেক্টর ধান তলিয়ে নিয়ে গেছে। এছাড়া দুপুরে পাহাড়ি ঢলের পানিতে সুরমা ও চলতি নদীর পানি বেড়ে গজারিয়া রাবার ড্যাম এলাকার দুটি সড়কে ভেঙে ভাদেরটেক গ্রামের অসংখ্য ঘর-বাড়ি ভেসে গেছে। এছাড়া জেলার দোয়ারাবাজার, তাহিরপুর উপজেলাসহ বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এদিকে শুক্রবার থেকে তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের আনোয়ারপুর বাজার এলাকার সড়ক ঢলের পানিতে তলিয়ে যাওয়া যান চলাচল বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
লালপুর এলাকার সরওয়ার হোসেন বলেন, খরচার হাওরের উঁচু এলাকার ধান পাকছে কিন্তু আমরা অনেক কৃষক কাটতে পারিনি। হঠাৎ পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে। ক্ষতি হয়েছে প্রায় এক হাজার হেক্টর জমির ধান।
ভাদেরকে গ্রামের দেলওয়ার হোসেন রাহি বলেন, হঠাৎ পাহাড়ি পানিতে গজারিয়া রাবারড্যাম এলাকাসহ আমাদের দুটি সড়ক ভেঙে গেছে। ঘরবাড়িও পানির সঙ্গে চলে গেছে। আমরা খুব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদি উর রহিম জাদিদ জানান, পাহাড়ি ঢলের পানির চাপে উপজেলার গজারিয়া রাবারড্যামের পাশের দুটি সড়ক ভেঙে গেছে। কয়েকটি পরিবারের বসতভিটা ভেঙেছে। আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের সহযোগিতা করব। আর খরচার হাওরের কৃষকদের ধানগুলো গোলায় কাটতে কৃষি বিভাগ সহযোগিতা করছে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খায়রুল হুদা চপল জানান, সদর উপজেলা গৌরারং ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রামের কৃষকের ধান বানের পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহযোগিতা করার জন্য তালিকা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাব।
সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সামসুদ্দোহা বলেন, হাওরে ও নদনদীতে পানি বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে ৬৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। ভারতের মেঘালয়ে পাহাড়ে বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



