সুরমা, কুশিয়ারাবেষ্টিত সিলেটের সমান্তবর্তী উপজেলা জকিগঞ্জ ইতিমধ্যে বন্যায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে গ্রামের পর গ্রাম। অসহায় হয়ে পড়েছে পানিবন্দি মানুষ। সুরমা নদীর ৮টি ও কুশিয়ারা নদীর দুটি স্থানে ডাইক ভেঙে এবং ডাইকের উপর দিয়ে প্রবল বেগে পানি এসে উপজেলার মানিকপুর, কাজলশার, বারহাল, ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে গ্রামীণ রাস্তাঘাট, কৃষকদের পাকা বোরো ধান, পুকুর ও ফিশারীর লাখ লাখ টাকার মাছ। ডুবে গেছে শতশত বাড়িঘর। কোটি কোটি টাকার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিরশ্রী, কসকনকপুর ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে জকিগঞ্জের বন্যা আক্রান্ত এলাকার মানুষের জন্য সিলেটের জেলা প্রশাসক ১৮ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছেন। তবে চালগুলো এখনো বিতরণ হয়নি
জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আলহাজ লোকমান উদ্দিন চৌধুরী জানান, তিন হাজারের মতো লোক পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, জেলা সমন্বয় সভায় বারবার সুরমা, কুশিয়ারা ডাইক নির্মাণ উঁচুকরণের প্রস্তাব দেয়ার পরও পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে জকিগঞ্জ আজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, জকিগঞ্জে ৩ শত কোটি টাকার স্লুইসগেট প্রকল্পটি জনগণের কোনো কাজে আসেনি। এই টাকা দিয়ে ডাইকে মাটি কাটার কাজ করা হলে ডাইকগুলো আজ ভেঙে যেতো না। তিনি অবিলম্বে জকিগঞ্জকে বন্যা দুর্গত এলাকা ঘোষণা করার দাবি জানান। ভারতীয় মনিপুর রাজ্য থেকে প্রবাহিত বরাক নদী বাংলাদেশের জকিগঞ্জ সীমান্তে এসে দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীতে রুপান্তরিত হয়েছে। মেঘালয় রাজ্যের পাহাড় থেকে খরস্রোতা লোভা নদী কানাইঘাটে সুরমায় মিলিত হয়েছে। গত কয়েকদিন থেকে মনিপুর ও মেঘালয়ের পহাড়ে অবিরাম ভারী বৃষ্টি হচ্ছে যেকোনো সময় বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তলিয়ে যেতে পারে বিয়ানীবাজার, বালাগঞ্জ, বিশ্বনাথ, কানাইঘাটসহ সিলেটের কয়েকটি উপজেলা। ইতিমধ্যে জকিগঞ্জের ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ লোকমান উদ্দিন চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) পল্লব হোম দাস, থানার অফিসার ইনচার্জ মোশাররফ হোসেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আতাউর রহমানসহ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মাহফুজ ভূঁইয়া জানান, নদীগুলোতে পানি কিছুটা কমের দিকে, তবে সুরমা, কুশিয়ারাতে পানি এখনো বিপদসীমার ১ মিটার ওপরে রয়েছে। বারহাল ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ চৌধুরী জানান, তার ইউনিয়নের ৩৩টি গ্রাম পানিবন্দি, প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ কামনা করেন। ৩নং কাজলসার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জুলকার নাইন লস্কর বলেন, ৩টি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত, বারবার উপজেলা পরিষদের সমন্বয় সভায় ডাইক নির্মাণের প্রস্তাব দেয়ার পরও কর্তৃপক্ষ সময়মতো ব্যবস্থা না নেয়ায় আজ এমন পরিস্থিতি হয়েছে। তিনি অবিলম্বে প্রশাসনের কাছে ডাইক নির্মাণ ও বন্যার্ত এলাকার মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) পল্লব হোম দাস বলেন, নদীগুলোর পানি কিছুটা কমেছে তবে বর্ষণ অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক কর্তৃক বরাদ্দকৃত চাল বিতরণ করার জন্য বন্যা আক্রান্ত ইউনিয়নগুলোর জনপ্রতিনিধিদের কাছে তালিকা তৈরির জন্য বলা হয়েছে, দ্রত ক্ষতিগ্রস্ত হতদরিদ্র মানুষের মাঝে চাল বিতরণ করা হবে।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



